স্কুলছাত্রীর শ্লীলতাহানির ভিডিও করে টিকটকে ভাইরাল করলো সহপাঠী

রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২১

বরগুনা : বরগুনা পাথরঘাটায় অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি করে আপত্তিকর-ভিডিও টিকটকে ভাইরাল করেছে নাঈম নামে এক সহপাঠী। ভিডিও ভাইরাল করা ওই সহপাঠীর বিচার না হলে আত্মহত্যা করবে বলে হুমকিও দিয়েছে ওই ছাত্রী।

এদিকে পরিবারের স্বজনদের অভিযোগ এ ঘটনায় মামলা নেয়নি পাথরঘাটা থানা পুলিশ। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলছেন, নাঈমের বিরুদ্ধে এর আগেও অভিযোগ দিয়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তবে, এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ।

বরগুনার পাথরঘাটার আনোয়ার হোসেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ভুক্তভূগী ওই শিক্ষার্থী জানান, দীর্ঘদিন ধরে সহপাঠী নাঈম তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে বিরক্ত করতো। বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্কুল ছুটির পর ক্লাস থেকে বের হওয়ার আগেই নাঈম ওই ছাত্রীর স্কুল ব্যাগ নিয়ে বাহিরে বের হয়ে যায়।

শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হয়ে সে নাঈমের কাছে ব্যাগ আনতে গেলে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি করে নাঈম। এই দৃশ্য পাশ থেকে একই শ্রেণির সবুজ নামে এক সহপাঠী গোপনে মোবাইল দিয়ে ভিডিও করে। যা পরবর্তীতে টিকটক ভিডিও বানিয়ে টিকটক ও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছেড়ে দেয়। ওই শিক্ষার্থী জানায় বিচার না পেলে আত্মহত্যা করবে সে।

ওই শিক্ষার্থীর মা বলেন, অভিযুক্ত নাঈম ও সবুজের শাস্তির জন্য থানায় মামলা করতে গেলে মামলা নেয়নি পাথরঘাটা থানা পুলিশ।

তিনি আরও বলেন, তার মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে বিরক্ত করতো বখাটে নাঈম। স্কুল থেকে ফিরে তার মেয়ে এসব বলার পরে স্কুলের শিক্ষকদেরকে জানিয়েছিলেন তারা। কিন্তু তখন শিক্ষকরা নাঈমকে শুধু মৌখিকভাবে সতর্ক করে দিলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আল-আমিন হোসেন বলেন, ‘ইভটিজিং এর অপরাধে আগেও একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল অভিযুক্ত নাঈমকে। শুধু এই শিক্ষার্থী নয়, একাধিক শিক্ষার্থীকে বিরক্ত করতো নাঈম। বয়স কম, তাই তাকে শোধরানের সুযোগ দিয়েছিলেন তারা। এই বয়সে সুযোগ না দিলে খারাপ পথে চলে যেতে পারে তাই তারা ব্যবস্থা না নিয়ে সুযোগ দিয়েছিলেন। তবে এমন ভয়ানক কাজ যে করে ফেলবে এটা তাদের ধারণার বাহিরে ছিল। এবার নাঈম এবং সবুজের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।’

অন্যান্য শিক্ষার্থীদের একাধিক অভিভাবকরা বলছেন, নাঈমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে ইভটিজিং এর শিকার হতে পারে অন্যান্য ছাত্রীরাও। তাই ছাত্রীদের নিরাপদ রাখতে এদের শাস্তির দাবি জানান তারা।

পাথরঘাটা থানার ওসি আবুল বাশার জানান, মৌখিকভাবে অভিযোগ দিলেও মামলা করেনি তারা। তবে ভিডিও ডিলেট করানোর জন্য এবং আইনি পদক্ষেপ নেয়ার জন্য পুলিশ কাজ শুরু করেছে। কিন্তু নাঈম ও সবুজ পলাতক। তারপরেও তাদের আটকের চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা।

পাথরঘাটা উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম কবির বলেন, এর আগে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের ইভটিজিং এর অভিযোগে পাথরঘাটার কেএম মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করেছিল বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

তবে অভিভাবকরা গাইড করতে না পারায় এসব ছেলেরা খারাপ পথে পা বাড়ায়। প্রত্যেকের অভিভাবককে সচেতন হতে হবে। সন্তানরা কি করে, কোথায় যায়, কাদের সাথে চলা-ফেরা করে সেদিকে নজড় রাখতে হবে।

বখাটে নাঈম পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের হাজির খাল গ্রামে সৌদি প্রবাসী সগির খানের ছেলে।