লুটপাট করতেই কুইক রেন্টালের মেয়াদ বৃদ্ধি : মির্জা ফখরুল

রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২১

ঢাকা: লুটপাট দীর্ঘায়িত করতেই ‘কুইক রেন্টাল’ বিদ্যুৎকেন্দ্র আরও পাঁচ বছর রাখার বিল সংসদে পাস হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, স্থায়ী কমিটির সভা মনে করে, ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো স্থাপন করা হয়েছিল শুধুমাত্র আওয়ামী শাসকগোষ্ঠির লুটপাটের স্বার্থে। এসব কেন্দ্র স্থাপনের কর্মকাণ্ডকে ইনডেমিনিটি আইন পাস করে দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন না করলেও ভাড়া দেওয়ার ফলে জনগণের ট্যাক্সের টাকার বিশাল অংশ আওয়ামী দুর্নীতিবাজদের পকেটে গেছে জনগণের পকেট কেটে। প্রত্যেক বছর কয়েক দফা করে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে জনগনের চরম আর্থিক লোকসান করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নতুন করে পাঁচ বছর এ বিশেষ আইনের মেয়াদ বাড়িয়ে লুটপাটের ব্যবস্থা দীর্ঘায়িত করা হলো। স্থায়ী কমিটির সভায় সংসদ এ বিল পাসের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো এবং অবিলম্বে তা বাতিলের আহ্বান জানানো হয়েছে।

গত বুধবার সংসদে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবারহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) (সংশোধন) বিল-২০২১ পাস হয়। ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে বৈধতা দিতে ২০১০ সালে আইনটি প্রণয়ন করা হয়। দুই বছরের জন্য এ আইন করা হলেও পরে কয়েক দফায় সময় বাড়ানো হয়।

জিয়াউর রহমান ও তার সমাধি নিয়ে সংসদে বিভিন্ন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করার লক্ষ্যে অবৈধ মিথ্যা তথ্য সংসদে উপস্থাপন করে আওয়ামী লীগ মূলত জনগণের

গণতান্ত্রিক অধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের দৃষ্টি আড়ালে রাখার একটি ষড়যন্ত্র করছে। স্থায়ী কমিটির সভা মনে করে, ইতিহাস বিকৃত করে জনগণকে প্রতারণা করা হচ্ছে। শহীদ জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে এ ধরনের বিকৃত অপপ্রচার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে চক্রান্ত ছাড়া আর কিছু নয়।

নিউইয়র্কের বিএনপির সভার হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনারা দেখেছেন যে, নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে বিএনপির মিটিংয়ে হামলা হয়েছে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের দ্বারা। আজ আমি প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে সেই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইনের খসড়া সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের আইন ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার কথা বলে নাগরিকের স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার হরণ করার একটি চক্রান্ত। এটি গণতন্ত্রের জন্য একটি বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।