সাগরে জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কা, ৩ নম্বর সংকেত

মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২১

ঢাকা : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় একাধিক জেলা ও চর এলাকার নিম্নাঞ্চল জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। এজন্য সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হাতিয়া উপজেলার সঙ্গে সারা দেশের নৌযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার দুপুরে জলোচ্ছ্বাসের বিষয়টি জানানো হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ মো. শাহিনুর ইসলাম স্বাক্ষরিত বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর ও চট্টগ্রাম এবং আশপাশের দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে দুই থেকে তিন ফুট অধিক উচ্চতায় বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

এছাড়া উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মাছ ধরার নৌকা, ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে।

প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

হাতিয়া (নোয়াখালী) : এর আগে রোববার সকাল ১০টা থেকে দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সঙ্গে হাতিয়া-ঢাকা লঞ্চ চলাচল, হাতিয়া-চট্টগ্রাম স্টিমার চলাচল ও হাতিয়া-বয়ারচর চেয়ারম্যান ঘাট সি-ট্রাক চলাচল বন্ধ রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের কারণে মেঘনা নদী উত্তাল হওয়ায় নৌচলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে নৌযোগাযোগ বন্ধ থাকায় দেশের অন্য কোথাও থেকে লোকজন হাতিয়ায় আসতে পারছেন না ও হাতিয়া থেকে কেউ দ্বীপের বাইরেও যেতে পারছেন না। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে।

নলচিরা ঘাটের নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. নাসির উদ্দিন বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা পেয়ে আমরা ঘাটে অবস্থান করছি। সব যাত্রীবাহী ট্রলার পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরান হোসেন বলেন, মানুষের জানমাল রক্ষায় রোববার সকাল ১০টা থেকে হাতিয়ার সঙ্গে সারা দেশের সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সব নৌযানকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সকালে নোয়াখালী হাতিয়ার ইসলামচরের কাছে মেঘনা নদীতে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে পড়ে দুটি মাছধরা ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে ইউছুফ মাঝি (৫০) নামে এক জেলের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ১৪ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও সোমবার সকাল পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছে আবুল কালাম নামে আরও এক জেলে। নিহত জেলে হাতিয়ার ২নং চানন্দী ইউনিয়নের পশ্চিম আদর্শ গ্রামের মৃত মো. হোসেনের ছেলে ইউছুফ মাঝি। নিখোঁজ জেলে একই এলাকার মো. বাতেনের ছেলে আবুল কালাম।

জানা যায়, মাছ ধরা একটি ছোট ট্রলার শনিবার রাতে নদীতে মাছ শিকারে যায়। রোববার সকালে অন্য ট্রলারের লোকজনের মাধ্যমে সংবাদ পায় ট্রলারটি নদীতে ডুবে গেছে। পরে অন্য ট্রলারের সহযোগিতায় ৭ মাঝিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

একই ঘাটের ইউছুফ মাঝির ট্রলারটিও একই সময়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। অন্য ট্রলারের লোকজন ইউছুফ মাঝির ট্রলারের ৭ মাঝিকে জীবিত উদ্ধার করে। এ সময় ট্রলারের মালিক ইউছুফ মাঝিকে পাওয়া যায়নি। পরে ডুবে যাওয়া ট্রলারটি উদ্ধার করলে ট্রলারের কেবিনের মধ্যে ইউছুফ মাঝির লাশ পাওয়া যায়।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন বলেন, নিখোঁজ জেলের লাশ উদ্ধারে কাজ করছে স্থানীয় প্রশাসন।