একই পরিবারের চার জনকে হত্যায় আসামির মৃত্যুদণ্ড

মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২১

সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার কলারোয়ায় একই পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে হত্যা মামলার একমাত্র আসামি রায়হানুর রহমানকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শেখ মফিজুর রহমান এ আদেশ দেন।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১১ মাসের মধ্যে এ রায় ঘোষণা করা হলো। এ সময় আদালত চত্বরে কৌতুহলী জনতার ভিড় লক্ষ্য করা যায়।

মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া রায়হানুল এ মামলার চার্জশিটভুক্ত একমাত্র আসামি। তিনি নিহত শাহীনুর রহমানের ভাই।

রাষ্ট্রপক্ষে এ মামলা পরিচালনা করেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট আবদুল লতিফ। তিনি মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। অপরদিকে, আসামিপক্ষ ছিলেন অ্যাডভোকেট এস এম হায়দর।

এর আগে ১৮ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ এবং মামলার বাদী ও বিবাদীপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনসহ অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় জেলা ও দায়রা জজ আদালত রায় ঘোষণার জন্য ১ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করেছিলেন। পরে এই তারিখ পরিবর্তন করে ১৪ সেপ্টেম্বর ধার্য করা হয়।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের খলিষা গ্রামের শাহজাহান ডাক্তারের ছোট ছেলে রায়হানুর রহমান (৩৬) বড় ভাই শাহীনুরের সংসারে খাওয়া-দাওয়া করতেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে কোনো কাজ না করায় গত বছরের ১০ জানুয়ারি স্ত্রী তাকে তালাক দেয়।

সংসারে টাকা দিতে না পারায় ভাবি রায়হানুরকে মাঝে মাঝে গালমন্দ করতেন। এরই জের ধরে গত বছরের ১৪ অক্টোবর রাতে ভাই শাহীনুর রহমান (৪০), ভাবি সাবিনা খাতুন (৩০), তাদের ছেলে সিয়াম হোসেন মাহী (১০) ও মেয়ে তাসমিন সুলতানাকে (৮) কোমল পানীয়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ায় রায়হানুর রহমান।

এরপর ভোর ৪টার দিকে হাত-পা বেঁধে তাদের একে একে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এ সময় তাদের চার মাসের শিশু মারিয়াকে হত্যা না করে লাশের পাশে ফেলে রেখে যায়। এ ঘটনায় শাহীনুরের শাশুড়ি ময়না খাতুন বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তে নেমে সিআইডি আসামি হিসেবে শাহীনুরের ভাই রায়হানুর রহমান, একই গ্রামের রাজ্জাক দালাল, আব্দুল মালেক ও ধানঘরা গ্রামের আসাদুল সরদারকে গ্রেফতার করে। রায়হানুরকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে ২১ অক্টোবর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম বিলাস মন্ডলের কাছে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

ওই পরিবারে বেঁচে থাকা একমাত্র শিশু মারিয়া বর্তমানে হেলাতলা ইউপি সদস্য নাছিমা খাতুনের কাছে বড় হচ্ছে। গত ২৪ নভেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম আসামি রায়হানুর রহমানের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এ মামলায় গত ১৪ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের মধ্যদিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।