সেনাবাহিনী ও পুলিশে নারীর ‘সতীত্ব’ পরীক্ষার নিয়ম বাতিল

বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১২, ২০২১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইন্দোনেশিয়ার সেনাবাহিনী ও পুলিশে যোগ দিতে ইচ্ছুক এমন নারীদের যোগ্যতা পরীক্ষায় ‘সতীত্বের প্রমাণ’ দেওয়ার একটি নিয়ম চালু ছিলো। নানা সমালোচনা ও বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও দেশটির নারীদের উপর এই পরীক্ষা চলে আসছিলো ১৯৬৫ সাল থেকে। মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) ইন্দোনেশিয়ার সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সেনাবাহিনীতে আর হবে না এই ধরনের পরীক্ষা।

তবে দেশটির পুলিশ বিভাগের বিষয়ে সেখানে কিছুই উল্লেখ করা হয়নি। আজ বুধবার (১১ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এমনটাই জানিয়েছে লন্ডন ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই এই পরীক্ষা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আসছে। যে পদ্ধতিতে চিকিৎসকরা সেনাবাহিনীতে নিয়োগ পেতে ইচ্ছুক নারীদের সতীত্ব পরীক্ষা করতেন, তা কৌশলগত নিপীড়ন ও নিষ্ঠুরতা বলে আখ্যা দিয়েছিল হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। এমনকি বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই পরীক্ষার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

১৯৬৫ সাল থেকে দেশটির নারীদের ওপর চলমান এই পরীক্ষা বিষয়ে উচ্চপদস্থ অফিসারদের যুক্তি ছিল, একজন নারী যিনি সেনা হিসাবে দেশের সেবা করতে চান তাকে মানসিক এবং শারীরিক দিক থেকে অত্যন্ত দৃঢ় হতে হবে। তাদের দাবি, ‘কুমারীত্বই যেকোনো নারীর দৃঢ় মানসিকতার পরিচয়।’

তবে ১৯৯৯ সালে ইন্দোনেশিয়ার মানবাধিকার কমিশন এই নিয়মকে বেআইনি ঘোষণা করে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনও এই পরীক্ষায় নিষেধাজ্ঞা দাবি করে। কিন্তু এত কিছুর পরেও চুপ ছিল ইন্দোনেশিয়া প্রশাসন।

এমনকি, ২০১৪ সালে ইন্দোনেশিয়া পুলিশে নিয়োগের এটি বিজ্ঞপ্তি পৃথিবীব্যাপী ঝড় তোলে। তাতে লেখা ছিল, যোগ্যতা নির্ণায়ক পর্বে অন্যান্য পরীক্ষার পাশাপাশি নারীদের ‘কুমারীত্ব’-এর প্রমাণ দেওয়া বাধ্যতামূলক।