রাজধানীতে ছাত্রদল-পুলিশ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, আটক ১০ (ভিডিও)

বৃহস্পতিবার, জুন ১৭, ২০২১

ঢাকা : রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ধাওয়াপাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ-সময় বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় পুলিশ ১০ জনকে আটক করেছে। ময়মনসিংহে ছাত্রদলের বিভাগীয় আলোচনা সভাকে কেন্দ্র করে পুলিশের অতর্কিত হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) বিকালে নয়াপল্টনে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ মিছিল বের করলে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে ছাত্রদলের মিছিলে পুলিশ বাধা দিলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কিছুক্ষণ রাস্তায় থেকে পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এবং আশপাশের গলিতে অবস্থান নেয়। পরে তারা সংগঠিত হয়ে আবার হাতে লাঠি নিয়ে কার্যালয়ের সামনে মিছিল বের করে। তখন পুলিশ আর বাধা দেয়নি। তবে এ সময় পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে তারা কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়।

পরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে ১০ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।

পল্টন থানার ওসি আবু বক্কর সিদ্দিকী বলেন, হঠাৎ করে ছাত্রদলের কর্মীরা পল্টন এলাকায় রাস্তায় নেমে ভাংচুর শুরু করে। তারা অতর্কিতভাবে পুলিশ বক্সে হামলা এবং গাড়িতে ভাংচুর করে। এ ছাড়া তারা রাস্তায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে। পরে পুলিশ জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ছাত্রদলের কর্মীদের রাস্তা থেকে উঠিয়ে দেয়। পুলিশ রাস্তায় নামার পর তারা নিজেরাই সরে গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে। এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকার কর্তৃত্ববাদী শাসন কায়েম করে দেশকে পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। ভিন্ন মত ও পথের রাজনীতি, সরকারবিরোধী আন্দোলন তো বটেই, শহিদ জিয়ার শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানও সরকার নিষ্ঠুর কায়দায় দমন করছে।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪০তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে ছাত্রদলের আয়োজনে ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাবিবুর রশিদ হাবিব, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামলসহ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে আলোচনা সভায় পুলিশ নির্বিচারে লাঠিচার্জ, গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। পুলিশের হামলায় ছাত্রদল কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীসহ ১০ জন নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হন, গ্রেফতার করা হয় অনেক নেতাকর্মীকে এবং শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। এরই প্রতিবাদে বিকালে ঢাকায় নয়াপল্টনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হলে পুলিশ মিছিলের পেছন দিক থেকে ন্যক্কারজনকভাবে বেধড়ক লাঠিচার্জ ও গ্রেফতার করে। পুলিশ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রাখে। কার্যালয়ে প্রবেশ বা বের হওয়ার সময় পুলিশ এ পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে।

বিবৃতিতে তিনি এই ঘটনাকে বর্বোরচিত হামলা উল্লে­খ করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, বিগত ১২ বছর যাবৎ নিষ্ঠুর কায়দায় দমন, নিপীড়ন চালিয়ে সরকার বিএনপিকে ধ্বংস করতে চেয়েছে, কিন্তু পারে নাই।

হামলা-প্রতিবন্ধকতা চালিয়ে কোনো সরকার বেশি দিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না, বিনাভোটের এই কর্তৃত্ববাদী শাসকও পারবে না। তিনি ময়মনসিংহ ও ঢাকায় গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তি এবং হয়রানি বন্ধ করার দাবি জানান।