বাংলাদেশি নারী কর্মীদের ফাঁদে ফেলে যৌন কর্মে বাধ্য করার অভিযোগ

বৃহস্পতিবার, জুন ১৭, ২০২১

নিউজ ডেস্ক: প্রতারণা করে অল্প বয়সী নারীদের পাসপোর্টে বয়স বাড়িয়ে পাঠানো হচ্ছে বিদেশে, ফাঁদে ফেলে বাধ্য করা হচ্ছে যৌনকর্মে।

মৌরিশাসে কাজের জন্য গিয়ে যৌন নির্যাতের শিকার হচ্ছেন বাংলাদেশি নারী কর্মীরা। অভিযোগ ওঠেছে প্রতারণা করে নানাভাবে পাসপোর্টে বয়স বাড়িয়ে কম বয়সী নারীদের বাংলাদেশ থেকে নিয়ে যাওয়া হয় মৌরিশাসে। সেখানে তাদের অনেককেই ফাঁদে ফেলে বাধ্য করা হচ্ছে যৌন কর্মে। আর এ কাজে সহায়তা করছে বাংলাদেশি কয়েকটি দালাল চক্র।

আয়তনে ছোট হলেও দক্ষিণ পূর্ব আফ্রিকার দ্বীপ দেশ মৌরিশাসে বাংলাদেশের কর্মী রয়েছে ৭১ হাজার। এর মধ্যে নারী কর্মী ১৮ হাজারের বেশি। যার বড় সংখ্যকই গার্মেন্টসখাতের। তাদের অনেকেই যৌন নির্যাতনের শিকার। এমনই একজন মুখ খুলেছেন গণমাধ্যমের কাছে।

ধর্ষণের শিকার ভুক্তভোগী নারী জানান, তাদের কথা না শুনলে গোপনে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয় দালাল ও তার সহযোগীরা।

মৌরিশাসে ফায়ার মাউন্ট টেক্সটাইল নামে এক গার্মেন্টস কোম্পানির মালিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এই নারী কর্মীর।

গত বছর ফেব্রুয়ারিতে আক্তার এন্ড সন্স নামে এক রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। তার মেডিক্যাল রিপোর্টেও গর্ভপাতের বিষয়টির প্রমাণ মিলেছে। আর অনৈতিক কাজে কোম্পানির মালিক অনিল খলিলের সহযোগী হিসেবে কাজ করে দালালচক্রের মোহাম্মদ শাহ আলম, ফুরকান, আসলাম এবং সিদ্দিক।

রিক্রুটিং এজেন্সি অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। অভিযুক্ত আক্তার এন্ড সন্স রিক্রুটিং এজেন্সির ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ আল-আমিন জানান এর দায় সরকারের ওপর বর্তায়। বিদেশে যাওয়ার পর কোনও কর্মীকে জোর করে যৌনকর্মে বাধ্য হলে তার দায় দূতাবাস ও সরকারকে নিতে হবে এখানে এজেন্সির কোনও দায় নেই বলেও জানায় রিক্রুটিং এজেন্সি।

তারা সাংবাদিকদের উপস্থিতিতেই কথা বলেন ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত ফায়ারমাউন্ট কোম্পানীর মালিক অনিল খলিলের সাথে।

বিষয়টি গুরত্বের সাথে খতিয়ে দেখার কথা জানালেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইমরান আহমদ।