পরিস্থিতি যাই হোক, কখনও পরমাণু যুদ্ধে জড়ানো যাবে না: পুতিন-বাইডেনের যৌথ বিবৃতি

বৃহস্পতিবার, জুন ১৭, ২০২১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বৈঠক পূর্বনির্ধারিতই ছিল। শেষ পর্যন্ত প্রথমবার মুখোমুখি বসলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী প্রতীক্ষিত বৈঠক শেষে দুই প্রেসিডেন্ট যৌথ বিবৃতিতে শিগগিরই পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত সংলাপ শুরু করতে সম্মতির ঘোষণা দিয়েছেন। সেইসঙ্গে যেকোনও উত্তেজনাকর পরিস্থিতিই সৃষ্টি হোক না কেন, কোনোভাবেই সামরিক সংঘাত ও পরমাণু যুদ্ধে জড়ানো যাবে না বলেও বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছেন তারা।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভার ভিলা লা গ্রেঞ্জে স্থায়ীয় সময় বুধবার (১৬ জুন) মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে এ বৈঠক হয়।

ওইদিনই দুপুরে ভিলা লা গ্রেঞ্জের সামনে দুই প্রেসিডেন্ট করমর্দনের মধ্য দিয়ে তাদের প্রথম সামনাসামনি বৈঠকের সূচনা করেন। বৈঠকে বসার আগে পুতিন ও বাইডেন একে অপরের সঙ্গে কিছুক্ষণ একান্তে কথা বলেন।

বৈঠক শেষে বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর এ দুই নেতার যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া এ পর্যন্ত এ কথা প্রমাণ করেছে যে, তার চরম উত্তেজনাকর মুহূর্তেও সামরিক সংঘাত ও পরমাণু যুদ্ধ এড়িয়ে যেতে সক্ষম।

বিবৃতিতে পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণবিষয়ক দ্বিপক্ষীয় স্টার্ট চুক্তি নবায়নের প্রতি ইঙ্গিত করে বলা হয়, এ থেকে বোঝা যায়- দু’দেশ পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

প্রেসিডেন্টদ্বয়ের যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পরমাণু যুদ্ধে কেউ বিজয়ী হতে পারবে না। কখনোই এ ধরনের যুদ্ধে জড়ানো যাবে না।

পুতিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে বাইডেন বলেছেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক ও সহযোগিতার উন্নয়ন শুধু দুটি দেশের স্বার্থই রক্ষা করবে না, সেইসঙ্গে তা গোটা বিশ্বের কল্যাণ বয়ে আনবে। তিনি ইরানের পরমাণু সমঝোতা নিয়েও রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানান।

বাইডেন দাবি করেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ স্বার্থে দুটি দেশ এ নিশ্চয়তা অর্জন করতে চায় যে, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে না।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেয়ার পর প্রথম বিদেশ সফরে গত ১০ জুন যুক্তরাজ্যে পৌঁছান জো বাইডেন। ওইদিন কর্নওয়ালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও বাইডেনের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক হয়। দীর্ঘ ৮০ বছরের স্মৃতি ফিরিয়ে নতুন আটলান্টিক সনদে সই করেন বাইডেন ও জনসন। ১৯৪১ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে আটলান্টিক সনদে সই করেছিলেন তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিল ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট।

বাইডেন মূলত জি৭ সম্মেলনে ট্রান্স-আটলান্টিক পলিসি, রাশিয়াকে কোণঠাসা করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সমঝোতা ও চীন নিয়ে ঐক্যমত্য- এ তিনটি বিষয়কে সামনে রেখেই প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথমবার দেশের বাইরে পা রাখেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাশিয়ার দীর্ঘদিন ধরেই শীতল-উষ্ণ সম্পর্ক। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের একনায়কোচিত মনোভাব যুক্তরাষ্ট্র পছন্দ করে না। বাইডেন চান, ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে সমঝোতায় এসে রাশিয়ার বিরুদ্ধে শক্তি গড়ে তুলতে। চীনের ক্ষেত্রেও একই নীতি নিতে চান তিনি।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাশিয়ার ক্ষেত্রে ঐক্যমত্য সম্ভব হলেও চীনের বিরুদ্ধে তা গড়ে তোলা সম্ভব হবে না। কারণ চীনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে সায় দিয়েছে জার্মানি ও ফ্রান্স। ফলে তারা এমন কিছু করবে না, যাতে চীনের সঙ্গে বিরূপ সম্পর্ক তৈরি হয়।