ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ, পরীমনিকে সেই রাতে যেভাবে ধর্ষণচেষ্টা করা হয়েছিল

বুধবার, জুন ১৬, ২০২১

বিনোদন ডেস্ক : ঢাকাই নায়িকা পরীমনিকে বোট ক্লাবে পানীয়র সঙ্গে নেশাদ্রব্য খাইয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, পরীমনিকে নাসিরের কাছে তুলে দিয়েছিলেন অমি। পানীয়র সঙ্গে নেশাদ্রব্য খাইয়ে তাকে ধর্ষণচেষ্টা করা হয় সেখানে। বোট ক্লাবের সিসিটিভি ফুজেটে ঘটনার প্রমাণ মিলেছে। এরইমধ্যে পুলিশের কাছে দোষ স্বীকার করেছেন অমি ও নাসির।

ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পরীমনির করা মামরার প্রেক্ষিতে নাসির ও অমিকে গ্রেফতারের পর ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

এদিকে গণমাধ্যমে বোট ক্লাবের সিসিটিভি ক্যামেরার যে ফুটেজ প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে অচেতন অবস্থায় পরীকে কোলে করে দৌড়ে বেরিয়ে আসার একটি দৃষ্য দেখা গেছে।

ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, ৯ জুন রাত ১২টা ২২ মিনিটে ঢাকা বোট ক্লাবের সামনে একটি কালো গাড়ি দাঁড়ায়। নামতে দেখা যায় পরীমনি, জিমি ও অমিকে। কিছুক্ষণ পর গাড়ি থেকে বের হন বনি। ক্লাবের রিসিপশনেও অমির সঙ্গে পরীমনিসহ অন্যদের ঢুকতে দেখা যায়। সেখানে আগে থেকেই ছিলেন নাসির ইউ আহমেদ।

দেড় ঘণ্টা পর পরীমনিকে অচেতন অবস্থঅয় কোলে করে দৌড়ে বের হতে দেখা যায় মিজি ও একজন নিরাপত্তা প্রহরীকে। পেছনে আসেনও অমিও। ক্লাবে অমির কালো গাড়িতে গেলেও পরীমনি ফিরেছেন সাদা রঙের একটি গাড়িতে। এসময় অমি সাহায্য তো করেনইনি, উল্টো শাসিয়েছেন সবাইকে।

সেখান থেকে রাত ৩টা ৫২ মিনিটে বনানী থানায় আসেন পরীমনি। থানার ডিউটি অফিসারের রুমেও তাকে অসুস্থ দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর সেখান থেকে বেরিয়ে যান। পুলিশ গাড়িতে করে এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয় পরীকে।

ক্লাবের ভেতরে সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকলেও ১৫ সেকেন্ডের ফুটেজে ভাঙচুর ও পরীমনিকে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করতে শোনা যায় নাসিরকে। পরীর দাবি, জোর করে তাকে মদ পান করানো হয়েছিল।

ডিএমপির গোয়েন্দা উত্তর বিভাগের যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশীদ জানান, পরীমনিকে পরিকল্পিতভাবেই ঢাকা বোট ক্লাবে নিয়ে গিয়েছিলেন অমি। জিজ্ঞাসাবাদে পরীকে নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছেন নাসির।

গোয়েন্দারা বলছে, নাসির-অমির নারী ও মাদক কারবারে জড়িত টঙ্গীর নাজিম ও তুহিন। এ দুজনকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

গেল ৯ জুন রাতে বন্ধু তুহিন সিদ্দিকী অমির সঙ্গে উত্তরা বোট ক্লাবে যান চিত্রনায়িকা পরীমনি। সেখানে ক্লাবের পরিচালক ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ জোরপূর্বক পরীমনিকে মদপান ও ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এমনকি তাকে মেরে ফেলারও হুমকি দেয়া হয়। ঘটনার ৪ দিন পর গত ১৩ জুন সন্ধ্যা ৭টা ৫৩ মিনিটে পরীমনি ‘আমাকে রেপ ও হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে’ অভিযোগ করে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দেন।

ওই স্ট্যাটাসে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে পরী লিখেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমি পরীমণি। এ দেশের একজন বাধ্যগত নাগরিক। আমার পেশা চলচ্চিত্র। আমি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমাকে রেপ এবং হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।’

ওই রাতেই বনানীর বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন পরীমনি। পরদিন অর্থাৎ গত ১৪ জুন দুপুরে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ, বন্ধু অমি ও অজ্ঞাত আরও ৪ জনসহ মোট ৬ জনকে আসামি করে সোমবার (১৪ জুন) দুপুরে সাভার থানায় এ মামলা করেন পরীমনি। মামলা নম্বর ৩৮।

মামলা দায়েরের পর ওই বিকেলেই রাজধানীর উত্তরা-১ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর রোডের বাসা থেকে ওই ৫ জনকে গ্রেফতার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত মামলায় ৫ আসামি হলেন- নাসির উদ্দিন মাহমুদ (৬৫), তুহিন সিদ্দিকী অমি (৩৩), লিপি আক্তার (১৮), সুমি আক্তার (১৯) ও নাজমা আমিন স্নিগ্ধা (২৪)।

এছাড়া আসামিদের বিরুদ্ধে ওই রাতেই (১৪ জুন) বিমানবন্দর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আরও একটি মামলা করেন গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গুলশান জোনাল টিমের উপপরিদর্শক (এসআই) মানিক কুমার সিকদার।

গতকাল পরীমনির করা ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টার মামলায় আসামিদের ৭ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।

এদিকে তুহিন সিদ্দিকী অমিসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট আইনে মঙ্গলবার (১৫ জুন) রাতে রাজধানীর দক্ষিণখান থানায় আরও একটি মামলা করেছেন সাভার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কামাল হোসেন। অমির অফিস থেকে ১০২টি পাসপোর্ট উদ্ধারের ঘটনায় দক্ষিণখান থানায় এ মামরা হয়েছে। মামলায় তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। অমি ছাড়াও অন্য দুই আসামি হলেন বাছির ও মশিউর।