নিঃসন্তান প্রবাসী ভাইয়ের কাছে নিজের মেয়ের মর্যাদা বাড়াতে ভাতিজিকে হত্যা, অতঃপর…

শনিবার, জুন ১২, ২০২১

হবিগঞ্জ : আপন ভাতিজিকে হত্যার অভিযোগে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলা থেকে রবিউল ইসলাম (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন বাটালিয়ন (র‌্যাব)। সংসারে নিজের মেয়ের মর্যাদা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ভাতিজিকে খুন করেছেন বলে তিনি র‌্যাবের কাছে স্বীকার করেছেন।

শুক্রবার দিবাগত রাতে রবিউলকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে র‌্যাব। এর আগে গত বৃহস্পতিবার নবীগঞ্জ উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর গোয়ালগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। নিহত মেয়েটির নাম সানজিদা বেগম (১৬)। সে রবিউলের আপন ভাতিজি ও ছয়ফুল ইসলামের মেয়ে।

স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে র‌্যাব সিলেট ক্যাম্পের মিডিয়া কর্মকর্তা ওবাইন জানান, অভিযুক্ত রবিউলের আরও চার ভাই রয়েছেন। ভাইদের মধ্যে রবিউল সবার ছোট। তাদের দ্বিতীয় ভাই লুৎফুর রহমান সংসার চালানোর জন্য ইংল্যান্ড থেকে সানজিদার বাবা ছয়ফুল ইসলামের কাছে টাকা পাঠাতেন। ইংল্যান্ড প্রবাসীর কোনও সন্তান না থাকায় তিনি তার বড় ভাইয়ের মেয়ে সানজিদাকে বেশি আদর করতেন এবং বিদেশ থেকে টাকা পাঠানোর বিষয়ে সানজিদাকে জানাতেন, যা রবিউল মেনে নিতে পারেনি।

রবিউল সব সময় মনে করতেন যদি সানজিদা জীবিত থাকে তবে তার মেয়ে প্রবাসী ভাইয়ের আদর যত্ন থেকে বঞ্চিত হবে। এজন্য মেয়ের মর্যাদা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে সম্প্রতি রবিউল তার স্ত্রী সন্তান নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে চলে যান এবং সানজিদাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

গত ৮ জুন স্ত্রী সন্তান ছাড়া শুধু রবিউল একা বাড়িতে ফিরে আসেন। রাতে সবাই ঘুমিয়ে থাকলে রবিউল তার নিজ কক্ষ থেকে সানজিদার কক্ষে যায় এবং ঘুমন্ত অবস্থায় মেয়েটির নাক ও মুখ চেপে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।

ঘটনায় জগন্নাথপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হলে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ রবিউলকে গ্রেফতার করেছে। সানজিদা স্থানীয় একটি মাদরাসায় লেখাপড়া করতো বলেও জানিয়েছে র‌্যাব।