প্রি-বুকে মাত্র ১০,৯৯৯ টাকায় ওয়ালটন ‘প্রিমো আরএক্সএইট মিনি’

বৃহস্পতিবার, জুন ১০, ২০২১

ঢাকা : স্মার্টফোন বাজারে একের পর এক চমক দিচ্ছে দেশীয় প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন। সাশ্রয়ী মূল্যে সর্বাধুনিক ফিচারে সমৃদ্ধ হ্যান্ডসেট উৎপাদন ও বাজারজাতের মাধ্যমে ওয়ালটন অর্জন করেছে প্রযুক্তিপ্রেমীদের আস্থা। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন মডেলের আরেকটি গেমিং স্মার্টফোন বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিলো ওয়ালটন। যাতে ব্যবহৃত হয়েছে স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসর, ফুল এইচডি প্লাস রেজুলেশনের বড় পর্দা, ট্রিপল ব্যাক ক্যামেরা, শক্তিশালী র‌্যাম-রম, টাইপ-সি ফাস্ট চার্জিংসহ নজরকাড়া সব ফিচার। ফোনটির প্রি-বুকে থাকছে আকর্ষণীয় মূল্যছাড়।

ওয়ালটন সেল্যুলার ফোন বিক্রয় বিভাগের প্রধান আসিফুর রহমান খান জানান, ‘প্রিমো আরএক্সএইট মিনি’ মডেলের ওই গেমিং ফোনটির দাম ধরা হয়েছে মাত্র ১১,৯৯৯ টাকা। এখন নেয়া হচ্ছে প্রি-বুক। প্রি-বুক দেয়া ক্রেতাদের জন্য থাকছে ১০০০ টাকা মূল্যছাড়। ফলে এর দাম পড়বে মাত্র ১০,৯৯৯ টাকা। ইতোমধ্যেই ফোনটি প্রযুক্তিপ্রেমিদের মাঝে দারুণ সাড়া ফেলেছে। এই কনফিগারেশন ও প্রাইসে ‘প্রিমো আরএক্সএইট মিনি’ বর্তমানে বাংলাদেশের সেরা ফোন বলে অভিহিত করছেন ক্রেতারা।

তিনি জানান, অনলাইনের মাধ্যমে ঘরে বসেই ওয়ালটন ই-প্লাজা (eplaza.waltonbd.com) থেকে বিনামূল্যে ফোনটির প্রি-বুক দেয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি দেশের যে-কোনো ওয়ালটন প্লাজা, মোবাইলের ব্র্যান্ড ও রিটেইল আউটলেটে ফোনটির আগাম ফরমায়েশ দেয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রি-বুক দেয়া যাবে ১৬ জুন ২০২১ পর্যন্ত। ওয়ালটন সেল্যুলার ফোন মার্কেটিং ইনচার্জ হাবিবুর রহমান তুহিন বলেন, ‘প্রিমো আরএক্সএইট মিনি’ স্মার্টফোনে ব্যবহৃত হয়েছে ৬.৩ ইঞ্চির ফুল এইচডি প্লাস ডিসপ্লে। ১৯:৯ অ্যাসপেক্ট রেশিওর পর্দার রেজ্যুলেশন ২৩৪০ বাই ১০৮০ পিক্সেল। ফলে বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার এবং ভিডিও দেখা, গেম খেলা, বই পড়া বা ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ে অনন্য অভিজ্ঞতা পাবেন গ্রাহক। আইপিএস ইনসেল প্রযুক্তির স্মার্টফোনটিতে রয়েছে ধূলা ও আঁচররোধী ২.৫ডি কার্ভড গরিলা গ্লাস প্রোটেকশন। ৮.৩৬ মিমি স্লিম ফোনটির ব্যাক কভারে গ্লাস ব্যবহৃত হওয়ায় এটি দেখতে অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর।

ফোনটি অ্যান্ড্রয়েড ১০ অপারেটিং সিস্টেমে পরিচালিত। এতে ব্যবহৃত হয়েছে ২.২ গিগাহার্টজ গতির কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৬ সিরিজ অক্টাকোর প্রসেসর। সঙ্গে রয়েছে কোয়ালকমের অ্যাড্রেনো ৫১২ গ্রাফিক্স এবং ৪ গিগাবাইট র‌্যাম। ফলে এই ফোনের কার্যক্ষমতা ও গতি হবে অনেক বেশি। বিভিন্ন অ্যাপস ব্যবহার, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, থ্রিডি গেমিং এবং দ্রুত ভিডিও লোড ও ল্যাগ-ফ্রি ভিডিও স্ট্রিমিং সুবিধা পাওয়া যাবে। ফোনটির অভ্যন্তরীণ মেমোরি ৬৪ গিগাবাইটের। যা মাইক্রো এসডি কার্ডের মাধ্যমে ২৫৬ গিগাবাইট পর্যন্ত বাড়ানো যাবে।

ওয়ালটনের নতুন এই ফোনটির পেছনে রয়েছে এলইডি ফ্ল্যাশযুক্ত এফ ১.৮ অ্যাপারচার সমৃদ্ধ পিডিএএফ প্রযুক্তির ৬পি লেন্সযুক্ত অটোফোকাস এআই ট্রিপল ক্যামেরা। এর ১২ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরায় রয়েছে সনি আইএমএক্স ১/২.৮৬ ইঞ্চির সেন্সর। যা দেবে উজ্জ্বল, ঝকঝকে রঙিন ছবি। ৮ মেগাপিক্সেলের দ্বিতীয় ক্যামেরায় ওয়াইড-অ্যাঙ্গেলে ছবি তোলা যাবে। আর ৫ মেগাপিক্সেলের তৃতীয় ক্যামেরায় আছে ডেপথ সেন্সর। আকর্ষণীয় সেলফির জন্য সামনে রয়েছে এফ ২.২ অ্যাপারচার সমৃদ্ধ পিডিএএফ প্রযুক্তির ৫পি লেন্সযুক্ত ১৩ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। যা অল্প আলোতেও দেবে নিখুঁত সেলফি। উভয় ক্যামেরায় ফুল এইচডি ভিডিও ধারণ করা যাবে। রয়েছে বিএসআই সেন্সর, বোকেহ, বিউটি, কিউট, টাচ ফোকাস, টাচ ক্যাপচার, ভলিউউম ক্যাপচার, ফিঙ্গারপ্রিন্ট ক্যাপচার, সেলফ টাইমার, গ্রিড লাইন, হোয়াইট ব্যালান্স, ফেস ডিটেকশন, ডিজিটাল জুম, টাইম ল্যাপস, জিফ, এইচডিআর, কিউআর কোডসহ অসংখ্য আকর্ষণীয় ফিচার।

কানেক্টিভিটি হিসেবে আছে ওয়াই-ফাই ৮০২.১১, ব্লুটুথ ভার্সন ৫, ওয়ারলেস ডিসপ্লে, ল্যান হটস্পট, ওটিএ এবং ওটিজি। সেন্সর হিসেবে রয়েছে প্রোক্সিমিটি, ওরিয়েন্টেশন, লাইট (ব্রাইটনেস), এক্সিলারোমিটার (থ্রিডি), গ্রাভিটি (থ্রিডি), ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার, গেম রোটেশন ভেক্টর, মোশন ডিটেক্টর, স্টেপ ডিটেক্টর, নয়েজ ক্যান্সেলেশন, জিপিএস, এ-জিপিএস নেভিগেশন ইত্যাদি।

পর্যাপ্ত পাওয়ার ব্যাকআপের জন্য ডিভাইসটিতে রয়েছে ১৮ ওয়াট ফাস্ট চার্জিংসহ ৩৬০০ এমএএইচ লি-পলিমার ব্যাটারি। কালো রঙের ফোনটির অন্যান্য ফিচারের মধ্যে রয়েছে ফেস আনলক, ডুয়াল ফোরজি সিম, সিকিউরিটি স্লাইডার, ডার্ক থিম, আরজিবি নোটিফিকেশন, প্রেয়ার টাইম, রেকর্ডিং সুবিধাসহ এফএম রেডিও, ফুল এইচডি ভিডিও প্লে-ব্যাক ইত্যাদি।

দেশে তৈরি এই স্মার্টফোনে রয়েছে বিশেষ রিপ্লেসমেন্ট সুবিধা। স্মার্টফোন কেনার ৩০ দিনের মধ্যে ত্রুটি ধরা পড়লে ফোনটি পাল্টে ক্রেতাকে নতুন আরেকটি ফোন দেয়া হবে। এছাড়াও, ১০১ দিনের মধ্যে প্রায়োরিটি বেসিসে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ক্রেতা বিক্রয়োত্তর সেবা পাবেন। তাছাড়া, স্মার্টফোনে এক বছরের এবং ব্যাটারি ও চার্জারে ছয় মাসের বিক্রয়োত্তর সেবা তো থাকছেই।