পুলিশকে বিচারিক ক্ষমতা প্রদান ও জনগণের ওপর লাঠিপেটার উদ্যোগ

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীকে লিগ্যাল নোটিশ

শুক্রবার, মে ১৪, ২০২১

ঢাকা: পুলিশকে বিচারিক ক্ষমতা প্রদান ও জনগণের ওপর লাঠিপেটার উদ্যোগের খবরে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীকে লিগ্যাল নোটিশ

সংবিধান ও মানবাধিকার লংঘন করে সরকার কর্তৃক জনগণের ওপর পুলিশকে লাঠিপেঠার নির্দেশ ও বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষমতা প্রদানের উদ্যোগের খবর প্রকাশের পর জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী।

ন্যাশনাল ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এস এম জুলফিকার আলী জুনু বৃহস্পতিবার ই-মেইলের মাধ্যমে এই নোটিশ পাঠিয়েছে বলে আজ শুক্রবার তিনি জানিয়েছেন।
লিগ্যাল নোটিশে দেশের প্রচলিত সংবিধান ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করে সরকার জনগণের ওপর পুলিশ দ্বারা লাঠিপেটার নির্দেশ ও বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষমতা দেয়ার সিদ্ধান্তের উদ্যোগ কেন বেআইনি ও সংবিধানবিরোধী হবে না তা জানতে চাওয়া হয় নোটিশে।

গণমাধ্যমে সংবিধানবিরোধী বক্তব্য দেয়া কেন সংবিধান লঙ্ঘন ও মন্ত্রী হিসেবে নেয়া শপথ ভঙ্গের শামিল হবে না তাও জানতে চাওয়া হয় নোটিশে এবং ওই ধরনের সংবিধানবিরোধী কার্যকলাপ নেয়ায় মিডিয়ার মাধ্যমে মন্ত্রীকে রাষ্ট্রের মালিক জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার অনুরোধ মর্মে লিগ্যাল নোটিশ দেয়া হলো।

নোটিশে বলা হয়েছে, ‘আপনাকে অত্র লিগ্যাল নোটিশের মাধ্যমে জানানো যাচ্ছে যে- অদ্য বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারি যে, সরকারের নির্দেশে করোনা নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে বিচারিক ক্ষমতা ও জনগণের ওপর লাঠিপেটার নির্দেশ দেয়ার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার।’ নোটিশে বাংলা নিউজে প্রকাশিত সংবাদে প্রতিমন্ত্রীর উদ্ধৃতিসহ নিউজটি উল্লেখ করা হয়।

‘জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীকে জনস্বার্থে লিগ্যাল নোটিশের মাধ্যমে জানানো যাচ্ছে যে, আপনি সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হয়ে রাষ্ট্রের মালিক জনগণের ওপর পুলিশের লাঠিপেটা করার নির্দেশের উদ্যোগ নিতে পারেন না। গণমাধ্যমে দেয়া আপনার এরূপ বক্তব্য সংবিধানবিরোধী। অতএব মন্ত্রী হিসেবে সংবিধান লঙ্ঘনের উদ্যোগ নেয়া মন্ত্রী হিসেবে নেয়া শপথ ভঙ্গের শামিল।

‘অতএব পুলিশকে বিচারিক ক্ষমতা প্রদান ও রাষ্ট্রের জনগণের ওপর লাঠিপেটার সিদ্ধান্তের উদ্যোগ বন্ধের অনুরোধ জানাচ্ছি এবং মন্ত্রী হিসেবে নেয়া শপথ ভঙ্গ অর্থাৎ সংবিধানবিরোধী বক্তব্য গণমাধ্যমে দেয়ায় জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আবেদন করছি।’

লিগ্যাল নোটিশ প্রাপ্তির ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সংবিধানবিরোধী কার্যকলাপ ও সিদ্ধান্ত বন্ধ করা না হলে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় যথাযথ নির্দেশনা চেয়ে রিট দায়ের করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়।