ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেছে সরকার : ফখরুল

বুধবার, মে ১২, ২০২১

ঢাকা : সারা দেশে সরকার ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করে রেখেছে বলে অভিযোগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বুধবার (১২ মে) সাংবাদিকদের কাছে বিএনপি মহাসচিব এই অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, ‘যে রাজনৈতিক দলটি দীর্ঘকাল সংগ্রাম করেছে গণতন্ত্রের জন্য,মানুষের অধিকারের জন্য সেই দলটির হাতেই গত এক যুগ ধরে এদেশের মানুষ যেভাবে অত্যাচারিত-নির্যাতিত হচ্ছে-এটা ধারণার বাইরে। সারাদেশে একটা ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করে রাখা হয়েছে।’

‘আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন এই যে, এখানে ঢোকার আগে কমপক্ষে ১২ থেকে ১৫ জন গোয়েন্দা বাহিনীর লোক দাঁড়িয়ে আছে এবং তাদের কাজটাই হচ্ছে এভাবে গোটা বাংলাদেশে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করা।’

মির্জা আরও ফখরুল বলেন, ‘এদেশে কেউ নিরাপদ নয়। এখানে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস এমন পর্যায় চলে গেছে যে রাজনৈতিক নেতা-কর্মী তো বটেই সাধারণ মানুষেরও জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।’

‘আমরা বার বার বলেছি, আবারো বলছি- সরকার এগুলো বন্ধ করুক। আমার তো মাঝে মাঝে মনে হয়, আসলে কি আওয়ামী লীগ দেশ চালায়? এটা আমার কাছে একটা বড় প্রশ্ন। আমি খুব সিনসিয়ারলি এই কথাটা বলছি- কে দেশ চালায়? এটাও বুঝতে পারে না আমরা সাধারণ মানুষ যারা আছি অথবা রাজনীতি যারা করি তারা বুঝতে পারি না। কার ইঙ্গিতে এসব ঘটনা ঘটছে?’

বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করে বলেন, ‘ইলিয়াস আলীর গুমের ৯ বছর পার হয়ে গেছে। আমরা কিছুদিন আগে তার গুম দিবসও পালন করেছি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে অত্যাচার-নির্যাতন-ত্রাস সৃষ্টি করার নতুন একটি ফেনোমেনা চৌধুরী আলম ও ইলিয়াস আলীর ঘটনা দিয়ে শুরু হলো। তারও আগে ১৯৭৫ সালে সেই সময়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় তারা কিন্তু এই ঘটনা ঘটিয়েছে, আগে অনেক রাজনৈতিক ও সমাজকর্মী গুম হয়ে গেছে।’

ইলিয়াসের পরিবারের কথা বলতে গিয়ে আবেগজড়িত কণ্ঠে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই যে ইলিয়াসের দুই ছেলে একজন ব্যারিস্টার হয়েছে। ইলিয়াস যখন নিখোঁজ হয়ে যায় তখন ওরা দুই ছেলে ছোট, মেয়েটা ছোট ছিল। ওদের মা…এরা জানে না ওরা কী করবে? বাবার জন্য কি কুলখানি করবে, কোনো কবরের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে দোয়া করবে। তারা তো জানে না বাবা কোথায়?’

ঈদ উপলক্ষে ‘নিখোঁজ’ ইলিয়াস আলীর পরিবারের খোঁজ-খবর নিতে দুপুরে তার বনানীর বাসায় যান বিএনপি মহাসচিব। তিনি ইলিয়াসের সহধর্মিনী তাহসিনা রুশদীর লুনা, দুই ছেলে আবরার ইলিয়াস ও লাবিদ সারার সাথে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজ-খবর নেন এবং দলের পক্ষ থেকে দেয়া ঈদ উপহারও তাদের হাতে তুলে দেন।

এ সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন ও যুবদলের সাবেক সহসভাপতি কাইয়ুম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।