করোনা টিকার ঘাটতি মেটাতে সরকারের জোর কূটনৈতিক চেষ্টা

বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২২, ২০২১

ঢাকা : বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বিবিসিকে বলেছেন, ভারতে কোভিড ভ্যাকসিন রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা সত্বেও সেখান থেকে টিকা আনার জন্য জোর কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। এ জন্য ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত দিল্লিতে গেছেন।

এদিকে, সরকারি সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় ডোজ টিকার জন্য প্রয়োজনীয় ডোজের চেয়ে ১২ লাখ ডোজ ঘাটতি রয়েছে। সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে প্রথম ডোজ টিকা দেয়া অব্যাহত রাখা হলেও এর হার কমে এসেছে।

চুক্তি অনুযায়ী ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে বাংলাদেশে প্রতিমাসে ৫০ লাখ ডোজ করে টিকা আসার কথা ছিল।

কিন্তু গত দুই মাসে কোন চালান আসেনি। কবে নাগাদ টিকার চালান আসতে পারে, তা কেউ বলতে পারছে না।

চুক্তির পর ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে দু’টি চালানে ৭০ লাখ ডোজ টিকা বাংলাদেশ পেয়েছে গত জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারি মাসে। এছাড়া ভারত সরকার উপহার হিসাবে দিয়েছে ৩২ লাখ ডোজ।

কিন্তু এখনও পর্যন্ত প্রথম ডোজ টিকা যে সংখ্যক মানুষ নিয়েছেন, তাতে প্রায় ১২ লাখ ডোজ টিকার ঘাটতি থাকার বলছে সরকারি সূত্রগুলো।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল বাসার মো: খুরশিদ আলম বলেছেন, প্রথম ডোজ যারা নিয়েছেন, এখনকার টিকা থেকে তাদের বেশিরভাগকেই দেয়া সম্ভব হবে। তবে কিছুটা চ্যালেঞ্জ হতে পারে।”

তিনি উল্লেখ করেছেন, টিকার সরবরাহ নিয়ে তাদের চিঠির জবাব দিয়েছে সিরাম ইনস্টিটিউট, কিন্তু তাতে ভারতের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

“ভ্যাকসিন যেটা আমরা কিনেছিলাম, সেটার চালানগুলো সময়মতো এসে পৌঁছায় নাই। আমরা এ ব্যাপারে সিরাম এবং বেক্সিমকোকে চিঠি দিয়েছি। তারা জবাবে আমাদের জানিয়েছে, তাদের ভ্যাকসিন প্রস্তুত আছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ক্লিয়ারেন্স পেলেই তারা আমাদের দিতে পারে। আমাদের সময় আছে। আশা করছি, এর মধ্যে কিছু না কিছু পেয়ে যাব” বলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

বাংলাদেশ সরকার বেসরকারি কোম্পানি বেক্সিমকোর মাধ্যমে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তিন কোটি টিকা কেনার চুক্তি করেছিল। সে অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রতিমাসে ৫০ লাখ ডোজ করে টিকা পাওয়ার কথা ছিল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন বেক্সিমকোর পক্ষ থেকেও টিকা পাওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারকে ভারতের সাথে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর অনুরোধ করা হয়েছে। কোম্পানিটির কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নি।

তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, তারা তৎপরতা চালাচ্ছেন এবং টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হবে না বলে তিনি মনে করেন।

“ভারত আমাদের বলেছে যে, বাংলাদেশের সাথে যে চুক্তিটা হয়েছিল, সেটা হয়েছে ভারতের নতুন অ্যারেঞ্জমেন্টের (রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা) আগে। সুতরাং তাদের নতুন নীতির প্রভাব আমাদের ওপর পড়া উচিৎ নয়। তবে যেহেতু ভারতের নিজেদেরই চাহিদা অনেক বেড়েছে এবং তাদের অনেক আন্দোলন হচ্ছে যেন কোথাও টিকা দেয়া না হয়, সেজন্য ভারত সময়মত চালানটা পাঠায় নাই।”

তিনি আরও বলেছেন, “এরমধ্যেও ভারত কথা দিয়েছে, ভারতের হাইকমিশনার এমুহুর্তে নয়াদিল্লীতে আছেন, যাতে আমাদের সরবরাহ ডিস্টার্ব না হয়, সেজন্য তিনি ওখানে কাজ করছেন।”

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, আগে থেকেই বিকল্প না রেখে একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করার কারণে বাংলাদেশ টিকা সরবরাহের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

তবে এখন বিকল্প উপায় বা অন্য দেশ থেকে টিকা কীভাবে আনা যাবে, সেটা যাচাই করে সরকার একটি কমিটি গঠন করেছে। সেই কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে হবে।

কর্মকর্তারা বলেছেন, যে দেশগুলোতে টিকা উৎপাদন হচ্ছে, এখন সে ধরনের সব দেশের সাথেই যোগাযোগ করে টিকা পাওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, রাশিয়া এবং চীন থেকে টিকা আনার জন্য তৎপরতা শুরু করা হয়েছে।

তিনি জানিয়েছেন, রাশিয়ার প্রস্তাব অনুযায়ী যৌথভাবে তাদের স্পুটনিক টিকা বাংলাদেশ উৎপাদনের বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, “রাশানদের নিজেদের উৎপাদন ক্ষমতা সীমিত। সেজন্য তারা আমাদের একটা প্রস্তাব দিয়েছে যে তোমাদের দেশে আমরা কো-প্র্রোডাকশনে যেতে চাই। তোমাদের দেশে অনেক ভাল ঔষধ কোম্পানি আছে, তারা যদি ইচ্ছা প্রকাশ করে তাহলে আমরা এই টেকনোলজি শেয়ার করে টিকা উৎপাদন করতে পারবো। এটা আমাদের পছন্দ হয়েছে।”

“আমরা এজন্য এর উপর কাজ করছি। রাশানদের কো-প্রোডাকশনের ভিত্তিতে আনার চেষ্টা করছি। আর তাছাড়াও আমরা চায়না থেকেও আনার চেষ্টা করছি। এ নিয়ে আমরা কাজ করছি,” বলেন মি: মোমেন।

তিনি দাবি করেছেন, রাশিয়ার সাথে যৌথভাবে বাংলাদেশে টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে এবং তিন মাসের মধ্যে সেই উৎপাদন শুরু করা সম্ভব।
খবর- বিবিসি বাংলা