ইউএনও-পুলিশকে লক্ষ্য করে ব্যবসায়ীদের ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

বুধবার, এপ্রিল ২১, ২০২১

ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় লকডাউনে অধিক কড়াকড়ি নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে যাওয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। এ সময় বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। লাঠি নিয়ে তাড়া ও বৃষ্টির মতো ইট নিক্ষেপের মধ্যে পুলিশ দৌড়ে পালাতে বাধ্য হয়। তবে এ সময় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শহরের বড় মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় সব ব্যবসায়ী সড়কে নেমে বিক্ষোভ মিছিল করে ও লাঠি-ইটপাটকেল হাতে নিয়ে সড়কে অবস্থান নেয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মনসুর লকডাউনে স্থানীয় বড় মসজিদ মার্কেটে গিয়ে সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে নির্দেশ দেন। এ সময় তার সঙ্গে দোকানদারদের বাকবিতণ্ডা হয়।

খবর পেয়ে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। তখন দোকান ফেলে ব্যবসায়ীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করতে থাকে। পুলিশ চড়াও হলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

পরে বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ব্যর্থ হয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গাড়ি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে থানায় আশ্রয় নেন। লাঠিসোটা নিয়ে ইট বৃষ্টির মধ্যে টিকতে না পেরে পুলিশও দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে ব্যবসায়ীরা বড় মসজিদের সামনে অবস্থান নেয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যবসায়ী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, চলতি লকডাউনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যখন যার যেভাবে যেমন ইচ্ছা তখন সেভাবেই তারা নানা কথা বলছেন। তারা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলেও জানান। সে জন্য ছোট ছোট দোকানদার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মাঝে বিভিন্ন ধরনের ক্ষোভ রয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান খোলা রেখে বেঁচে থাকার জন্যই ব্যবসা বাণিজ্য চালু রাখতে চান বলে তারা জানান।

ঘটনার বিষয় অস্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার ওসি মোহাম্মদ দুলাল আকন্দ বলেন, সরকারের নির্দেশনা পালনে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। বড় মসজিদের সামনে ব্যবসায়ীদের লকডাউন সম্পর্কে বুঝানো হয়েছে। এরপর তারা ব্যবসায়ীদের বুঝিয়ে থানায় চলে যান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মনসুর বলেন, সরকারের নিয়মিত ডিউটি পালন করতে বড় মসজিদ মার্কেটে যাওয়া হয়। এ সময় লকডাউন ও স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে ব্যবসায়ীদের বুঝানো হয়। এরপর কী ঘটনা ঘটেছে এটা তার জানা নেই।

এদিকে এর আগের দিন সোমবার বিকালে শহরের মনিরামবাড়ী এলাকায় লকডাউন সফল করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের সাথে সিএনজি অটোরিকশা চালকদের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এতে সোহরাব হোসেন ও শামসুল হক নামের দুই অটোরিকশা চালক আহত হন। এ সময় স্থানীয় জনতা উত্তেজিত হয়ে রাস্তায় নেমে আসলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও থানার ওসি ঘটনাস্থলে পৌঁছে জনগণকে বুঝিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।