লকডাউন উপেক্ষা করে অষ্টমী স্নানে চিলমারীতে লক্ষাধিক মানুষ

মঙ্গলবার, এপ্রিল ২০, ২০২১

কুড়িগ্রাম: করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশব্যাপী সকল প্রকার গণজমাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি এবং চলমান সর্বাত্মক লকডাউনকে উপেক্ষা করে কুড়িগ্রামের চিলমারীতে অষ্টমী স্নান সম্পন্ন করেছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলমান লকডাউনে ব্রহ্মপুত্র তীরে অষ্টমী স্নানে লক্ষাধিক মানুষ জমায়েত হওয়ায় উদ্বিগ্ন এলাকাবাসী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সোমবার গভীর রাত থেকে বিভিন্ন অঞ্চলের সনাতন ধর্মাবলম্বী পূণ্যার্থীরা ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে সমবেত হয় এবং স্নান উৎসবে যোগ দেয়। স্নান উৎসবে যোগ দেওয়া জীবন চন্দ্র নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‌‌‘কোনো করোনা-টরোনা নাই। আমাদের কোনো মাস্ক লাগে না।’

ভূরুঙ্গামারী থেকে আসা স্মৃতি রাণী ও কাউনিয়া থেকে আসা আদরী রাণী বলেন, ‘আমাদের ঐতিহ্যবাহী ও বৃহৎ একটি পর্ব অষ্টমী স্নান। যা বছরে একদিন আসে, দিনটি আমাদের জন্য পাপ মোচনের দিন। যতই লকডাউন হোক, আমাদের ধর্ম পালন করতে হবে।’

পূণ্যার্থী বিশ্বনাথ বলেন, ‘‌গত বছর প্রশাসনিক বাধার কারণে স্নান করতে পারিনি। তবে এবার শান্তিপূর্ণভাবে স্নান করতে পেরেছি।’ ব্রাহ্মণ পবিত্র চক্রবর্তী বলেন, ‘করোনায় আমাদের কোনো সমস্যা হবে না, ভগবান আছে।’

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ চিলমারী শাখার সভাপতি ডা. সলিল কুমার সরকার জানান, অষ্টমী স্নানের বিষয়ে ইউএনও স্যারের কাছে গেছিলাম। তিনি লকডাউনের কারণে অনুমতি দেননি। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্নান না করতে মাইকিং করা হয়নি। কিংবা আমাদেরকেও মাইকিং করতে বলা হয়নি।’

চিলমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্র তীরে যাতে জনসমাবেশ না ঘটে সে লক্ষ্যে গত রাত থেকে বিভিন্ন মোড়ে আমাদের টহল অব্যাহত ছিল। রাতে ইউএনও মহোদয়সহ আমি নিজে ঘাটে ঘাটে গিয়ে সকলকে জনসমাগম করতে নিষেধ করেছি। অনেককে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে অলি-গলি দিয়ে কিছু লোক চলে এসেছে নদী তীরে।’

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ ডব্লিউ এম রায়হান শাহ্ বলেন, ‘গত রাত ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত ঘুরে ঘুরে লোকজনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। মানুষ যদি নিজ থেকে সচেতন না হয়, তাহলে কার কি করার আছে। আমাদের পক্ষ থেকে যা করার তা করেছি।’