মুখোমুখি চিকিৎসক-পুলিশ

মঙ্গলবার, এপ্রিল ২০, ২০২১

ঢাকা: চলমান লকডাউনে দায়িত্ব পালন নিয়ে পুলিশ ও চিকিৎসকেরা মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন। দুই পেশাজীবীদের প্রধান সংগঠনগুলো পাল্টাপাল্টি বিবৃতি দিয়েছে। চিকিৎকেরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে বলেছেন, তাদের হয়রানি করা হলে চিকিৎসবা সেবা ব্যাহত হবে। বিপরিতে পুলিশ সদস্যদের পক্ষ থেকে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চিকিৎসকের আচরণে পুলিশের প্রতিটি সদস্য অত্যন্ত মর্মাহত।

এবার লকডাউনে চলাচল নিয়ে বিশেষ কড়াকড়ি আরোপ করে সরকার। এর অংশ হিসেবে পুলিশের কাছ থেকে মুভমেন্ট পাস (চলাচলের জন্য ছাড়পত্র) নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। আর এই ছাড়পত্র নিয়েই পুলিশ ও চিকিৎসকদের মধ্যে টানাপড়েন দেখা দেয়।

চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা কর্মস্থলে যাওয়ার সময় দেশের বিভিন্ন জায়গায় আইনশৃঙ্খলাবাহিনী কর্তৃক ‘হয়রানি’ ও ‘নিগ্রহের’ শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠতে থাকে ১২ মার্চ ‘সর্বাত্মক’ লকডাউনের শুরুর দিন থেকে।

এর মধ্যে রোববার রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে একজন চিকিৎসকের পরিচয়পত্র প্রদর্শন নিয়ে পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার ভিডিও ভাইরাল হলে এ বিরোধ তুঙ্গে ওঠে।

ওই ঘটনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাঈদা শওকত জেনিকে ‘হেনস্তা’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে দোষীদের পুলিশ কর্মকর্তাদের শাস্তি দাবি করেছেন চিকিৎসকদের প্রধান পেশাজীবী সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)। চিকিসকদের আরও বেশ কয়েকটি সংগঠন বিবৃতি দিয়েছে।

ওই ঘটনায় ডা. জেনির কাছে যে কর্মকর্তারা পরিচয়পত্র দেখতে চেয়েছিলেন, তারা হলেন নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এ কাইয়ুম এবং ডিএমপির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন।

অপর দিকে ওই ঘটনায় ডা. জেনিকেই দায়ী করে তার শাস্তি দাবী করেছে পুলিশ কর্মকর্তাদের সংগঠন পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।

রোববার এলিফ্যান্ট রোডে পরিচয়পত্র দেখতে চাওয়া নিয়ে ডা. জেনির সঙ্গে পুলিশের তর্ক হয়, যা এক পর্যায়ে উত্তপ্ত বিতন্ডায় রূপ নেয়। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ভাইরাল হয় এবং দিনভর এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হয়। ডা. জেনি যখন এসব কথা পুলিশকে বলছিলেন, তখন তাকে ‘ভুয়া ডাক্তার’ বলা হয়েছে বলে তিনি নিউজবাংলার কাছে অভিযোগ করেছেন। এমনকি এক পর্যায়ে অবৈধ যৌন ব্যবসা চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার শামীমা নূর পাপিয়ার সঙ্গে তাকে তুলনা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন তাদের বিবৃতিতে বলেছে, ডা. জেনি পুলিশ কর্মকর্তাদের ‘তুই-তোকারি’ করেছেন, ‘দেখে নেয়ার’ ‍হুমকি দিয়েছেন।

ডা. জেনি একজন রেডিওলজিস্ট। এই সূত্রে রেডিওলজিস্টদের সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি, রাইটস অ্যান্ড রেসপনসিবিলিটিজ এক বিবৃতিতে ওসি কাইয়ুমের শাস্তি দাবি করেছে। তারা বলেছে, ‘পতিতাবৃত্তির পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা পাপিয়ার সঙ্গে পুলিশ ডা. জেনির তুলনা করেছে, যা একজন নারী চিকিৎসকের জন্য চরম অবমাননাকর।’

ওই ঘটনায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আতঙ্কগ্রস্ত ও হতাশ হয়ে পড়ছেন বলে সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)। এই বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ চাওয়ার পাশাপাশি ঘটনার দ্রুত তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত এবং বিভাগীয় শাস্তির আওতায় আনার দাবি করেছে সংগঠনটি।

ডা. জেনিকে ‘হেনস্তার’ প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, স্বাচিপের বিএসএমএমইউ শাখাও।

বিএমএ মহাসচিব ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল বলেন, ‘চিকিৎসকদের হয়রানি বন্ধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, এভাবে চিকিৎসক হয়রানি চলতে থাকলে আমরা ঠিকভাবে কাজ করতে পারব না, চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হবে। এখনও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি এটা দুঃখজনক।’

পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা পালন করা কঠিন উল্লেখ করে এই চিকিৎসক নেতা বলেন, ‘অধিদপ্তরের জানা উচিত দেশের ৮০ শতাংশ চিকিৎসকের কাছে কোনো ডাক্তারি পরিচয়পত্র নেই।’

জেনিকে হেনস্তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বললেন চিকিৎসকরা

ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি, রাইটস অ্যান্ড রেস্পন্সিবিলিটিজ, এফডিএসআর -এর মহাসচিব শেখ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, লকডাউনে হাসপাতাল থেকে ফেরার পথে বা কর্মস্থলে যাওয়ার সময় চিকিৎসকদের সুপরিকল্পিতভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। এটার অন্য কোনো উদ্দেশ্য ও ষড়যন্ত্র রয়েছে।

সোমবার লকডাউন চলমান অবস্থায় চিকিৎসক হয়রানির প্রতিবাদে ওই সংগঠনের উদ্যোগে একটি অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি এ অভিযোগ করেন।

আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, কোনো একটি মহল করোনাকালে চিকিৎসা সেবা ব্যহত করতে এবং সরকার ও পুলিশের কাছে চিকিৎসকদের প্রশ্নবিদ্ধ করতেই এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। আইনশৃঙ্খালা বাহিনীর মাধ্যমে এটির তদন্ত দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনায় বলা আছে, চিকিৎকরা মুভমেন্ট পাসের আওতামুক্ত থাকবেন। তারপরও কিছু পুলিশ কর্মকর্তা এ কাজটি করেছেন। আমরা এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা আশা করবে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে দ্রুতই ব্যবস্থা নেবেন। পুলিশের নির্দেশনা উপেক্ষা করে যারা এ রকম হয়রানি করছে, আমরা তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

পুলিশ কী বলছে

চিকিৎসকের পরিচয়পত্র দেখানো নিয়ে এ ‍তুলকালামের ঘটনায় পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এক পাল্টা বিবৃতি দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক সাঈদা শওকত জেনিকেই দায়ী করেছে।

সোমবার বিকেলে গণমাধ্যমকে পাঠানো এ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের প্রতি জনৈক চিকিত্সক কর্তৃক এহেন অপেশাদার ও অরুচিকর আচরণে বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্য অত্যন্ত মর্মাহত।…একজন গর্বিত পেশার সদস্য হয়ে অন্য একজন পেশাদার বাহিনীর সদস্যদের প্রতি কটাক্ষ বা অসৌজন্যমূলক আচরণ কখনোই কাম্য নয়।’

মহামারিকালে ঘরের বাইরে এলে পরিচয়পত্র প্রদর্শন বাধ্যতামূলক জানিয়ে বলা হয়, ‘মন্ত্রণালয়ের বৈধ আদেশ লঙ্ঘন এবং কর্তব্যরত বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের নিকট উক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন জোর দাবি জানাচ্ছে।’

ওই ভিডিওচিত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোববার রাজধানীর এফিল্যান্ট রোডের বাটা সিগন্যাল এলাকায় জেনির গাড়ি আটকে তার পরিচয়পত্র দেখতে চান নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এ কাইয়ুম।

ওই গাড়িতে ডা. জেনির কর্মস্থল বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালের স্টিকার সাঁটানো ছিল, তার গায়েও চিকিৎসকের অ্যাপ্রন ছিল। তারপরেও কেন পরিচয়পত্র দেখাতে হবে – এ নিয়ে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে জেনি তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিচয়ও বলেন। ওসি কাইয়ুমও জানান, তিনিও মুক্তিযোদ্ধার ছেলে।

এই উত্তপ্ত তর্কের এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলে আসেন ঢাকা মহানগর পুলিশের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুন। আধা ঘণ্টা পর তিনি ঘটনাটির মীমাংসা করতে সক্ষম হন।

পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তিনি (ডা. জেনি) নিজ পেশার পরিচয় বাদ দিয়ে অপ্রাসঙ্গিক পরিচয় তুলে ধরে পুলিশ ও বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছেন এবং জাতির সামনে পেশাজীবী সংগঠনগুলোকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর অপচেষ্টা করেছেন।’

গত ১৪ এপ্রিল থেকে চলা লকডাউনে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যারা বাইরে যেতে চান, তাদেরকে মুভমেন্ট পাস সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। তবে চিকিৎসকদের জন্য এই পাস নেয়ার দরকার নেই। তাদের ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র দেখালেই হবে বলে জানিয়েছিল পুলিশ।

পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন বিবৃতিতে বলেছে, ‘ডা. জেনিকে পরিচয়পত্র দেখাতে বললে তিনি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনকভাবে বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন, যা একজন পেশাদার ও সচেতন নাগরিকের কাছ থেকে কোনোভাবেই কাম্য নয়।

‘গত ১৪ এপ্রিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা সেবাসহ অন্যান্য কার্যক্রমে জড়িত সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের দাপ্তরিক পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) অবশ্যিকভাবে ব্যবহারের নির্দেশনা থাকলেও তিনি তা অমান্য করেছেন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তার পরিচয় প্রদান না করে নিজ মন্ত্রণালয়ের আদেশ লঙ্ঘন করেছেন।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘উক্ত চিকিৎসক বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে বাদানুবাদকালে যে শব্দ প্রয়োগ করেছেন তা অত্যন্ত অরুচিকর ও লজ্জাজনক। এক পেশার সদস্য হয়ে আরেক পেশার কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি কী ভাষা প্রয়োগ করেছেন, তা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত ও প্রকাশিত হয়েছে। তিনি কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের “তুই” বলে সম্বোধন করেছেন এবং “আর আমি কী, সেটা এখন তোদের দেখাচ্ছি হারামজাদা” বলে হুমকি দিয়েছেন।’

‘বৈশ্বিক মহামারির এই দুঃসময়ে পুলিশ বাহিনীর সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ সর্বজন স্বীকৃত’ উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, কোভিডে আক্রান্ত হয়ে ৯১ জন পুলিশ সদস্য মারা গেছেন, ২০ বিশ হাজারের বেশি আক্রান্ত হয়েছেন। এর পরেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের জীবন রক্ষায় পুলিশ সদস্যরা তীব্র দাবদাহে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে কাজ করছেন।

বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জায়েদুল আলম  বলেন, ‘ওই ঘটনার ভিডিও আছে, ভিডিও থেকে আপনারাই এর মূল্যায়ন করবেন। আমাদের কথা হলো, কোনো পেশাকেই খাটো করে না দেখে সবার পেশাকেই সবার সম্মান করা দরকার। অতিমারির সময় আমরা যেন সবাই ধৈর্যশীল হই এবং সঠিক আইনের মাধ্যমে পরিচালিত হই। তাহলে অনাকাংঙ্খিত ঘটনা ঘটবে না।’

দুই পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি বিবৃতি এ দুই পেশাজীবীদের মধ্যে বিরোধের বহিঃপ্রকাশ কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট বলেছি, আমরা প্রতিটি পেশাকেই সম্মান করি। সবাই মিলে যেন আরও সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে সব কিছু মোকাবেলা করি।’

আরও যা যা ঘটেছে

লকডাউনের শুরু থেকেই দায়িত্ব পালনরত চিকিৎসকদের সঙ্গে পুলিশের টানাপড়েন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রথম দিন এক চিকিৎসক পরিচয়পত্র দেখানোর পরেও তাকে জরিমানা করা হয়। আরেকজনকে একটি চেকপোস্টে ‘কসাই’ ডাকার অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া কয়েকজন চিকিৎসককে কর্মস্থলে নামিয়ে দিয়ে আসা গাড়িকে আটকে জরিমানা করা হয়েছে। এক চিকিৎসক পুলিশের সঙ্গে ফোনে কথা বললে তাকে কারাগারে পাঠানোর ‍হুমকি দেয়া হয়েছে।

পরিচয়পত্র দেখানোর পরও মুভমেন্ট পাস না থাকায় জরিমানা করা হয় স্কয়ার হাসপাতালের কোভিড ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) কর্মরত নাজমুল ইসলাম হৃদয়কে। বিষয়টি জানিয়ে তার স্ত্রী ইসরাত জাহান ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন। এরপর বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তার সেই টাকা ফিরিয়ে দেয় পুলিশ।

একইভাবে হেনস্থার শিকার হন চিকিৎসক দম্পতি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার কামরুন নাহার মুক্তা ও গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার এনামুল কবির খান।

ডা. মুক্তা জানান, তার বাসা এলিফ্যান্ট রোডেই। সকালে তাকে হাসপাতালে নামিয়ে গাড়ি নিয়ে চালক ফিরছিলেন। তিনি তাকে তার আইডি কার্ড দিয়ে পুলিশকে দেখাতে বলেন।

পুলিশ আটকালে চালক জানান, চিকিৎসককে হাসপাতালে দিয়ে এসেছেন। প্রমাণ স্বরূপ তিনি চিকিৎসকের আইডি কার্ড দেখান। পুলিশ সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করলে চালক কথা বলার জন্য ফোনে ওই চিকিৎসককে ধরিয়ে দেন। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি।

এনামুল কবির খান আরও কিছু ঘটনা জানিয়েছেন । তিনি বলেন, ‘গত শুক্রবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হেমাটোলজি বিভাগের চিকিৎসক ইমরান হাবিব রাজু ডিউটি সেরে সিএনজি নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলের সামনে পুলিশ তাকে নামিয়ে সিএনজি রেখে বাসায় যেতে বলে।’

ডা. মুক্তা ও এনামুল কবির খানের মতো হয়রানির শিকার হয়েছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভাইরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নুজরাত আরফিনও।

এই চিকিৎসককেও ঢাকা মেডিক্যালে নামিয়ে বাসায় ফিরছিল গাড়িচালক। শাহবাগ মোড়ে গাড়ি থামিয়ে জরিমানা করা হয়। চিকিৎসকের গাড়ি শোনার পরেও ভ্রুক্ষেপ ছিল না পুলিশের।