পশ্চিমবঙ্গে ঈদের দিনে ভোট, পেছানোর দাবি জামায়াতের

মঙ্গলবার, এপ্রিল ২০, ২০২১

নিউজ ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন চলার মধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে সামশেরগঞ্জ ও জঙ্গিপুরে দু’জন প্রার্থীর মৃত্যুতে নির্ধারিত ভোটের দিন পিছিয়ে ১৩ মে করায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন মুসলিমরা। ১৩ মে সম্ভাব্য ঈদুল ফিতর হতে পারে বলে মনে করছেন মুসলিমদের বিভিন্ন সংগঠন। ওই ইস্যুসহ অন্যান্য দাবিতে আজ (মঙ্গলবার) নির্বাচন কমিশনের দফতরে স্মারকলিপি দিয়েছেন মুসলিম নেতৃবৃন্দ।

জামায়াতে ইসলামি হিন্দ পশ্চিমবঙ্গ শাখার পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সামশেরগঞ্জ ও জঙ্গিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী সম্প্রতি করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ায় ২৬ এপ্রিল প্রস্তাবিত নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। ওই দিনের পরিবর্তে আগামী ১৩ মে নতুনভাবে নির্বাচনের দিন ঘোষণা করা হয়েছে। জামায়াতের রাজ্য সভাপতি মাওলানা আব্দুর রফিক এক বিবৃতিতে বলেন, ১৩ মে সম্ভাব্য ঈদুল ফিতর হওয়ায় তা মুসলিম সম্প্রদায়ের উৎসবের দিন। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই এতে শামিল হন। সেজন্য আগামী ১৩ মে প্রস্তাবিত নির্বাচনের দিন পরিবর্তন করে নির্বাচন কমিশনের কাছে নতুন দিন ঘোষণার দাবি জানিয়েছি।’

এ ব্যাপারে জামায়াতে ইসলামী হিন্দের রাজ্য সভাপতি মাওলানা আব্দুর রফিক আজ (মঙ্গলবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘সামশেরগঞ্জ ও জঙ্গিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী মারা যাওয়ার কারণে সেখানে নতুন করে ভোট হবে। ১৩ মে ভোটের দিন ধার্য করা হয়েছে। ১৩ মে সম্ভাব্য ঈদুল ফিতরের দিন অথবা ১৪ মে ঈদ হওয়ার কথা। ১৩ মে ঈদ হলে মুসলিমরা ভোট দান প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না। এজন্য আমরা নির্বাচন কমিশনে দাবি জানিয়েছি ১৩ মে’র ভোট বাতিল করে ভোটটা দুদিন আগে অথবা দুদিন পরে করার জন্য। যাতে মুসলিমরা অপ্রস্তুতির শিকার না হয়, ভোট দান থেকে বিরত থাকতে না হয়, এবং তারা ভোট প্রদান করতে পারে।’ নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় আশ্বাস দিয়েছেন বলে মাওলানা মাওলানা আব্দুর রফিক মন্তব্য করেন।

ওই ইস্যুসহ অন্যান্য দাবিতে জামায়াতে ইসলামী হিন্দ, পশ্চিমবঙ্গ শাখার সভাপতি মাওলানা আব্দুর রফিকের নেতৃত্বে ৬ সদস্য সমন্বিত মুসলিম প্রতিনিধিদল রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দফতরে স্মারকলিপি দিয়ে তাঁদের দাবিদাওয়া জানান। প্রতিনিধি দলে ছিলেন, জমিয়তে আহলে হাদিসের জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা মারুফ সালাফী, মজলিসুল উলেমা আল আইম্মা’র শাদাব মাসুম, সাপ্তাহিক ‘মীযান’ পত্রিকার সম্পাদক মসিউর রহমান, কোলকাতা খিলাফত কমিটির সেক্রেটারি শেখ নাসির আহমেদ এবং সারা বাংলা মুসলিম ম্যারেজ রেজিস্টার অ্যান্ড কাজী সোসাইটি’র যুগ্ম-সম্পাদক সুজাউদ্দিন আহমেদ। সূত্র: পার্সটুডে