আন্দোলনে লাঠি ব্যবহার করলে কেড়ে নেওয়ার হুমকি গয়েশ্বরের

শনিবার, মার্চ ৬, ২০২১

ঢাকা : উন্মুক্ত রাজপথে আন্দোলনে বাধা দিলে বিকল্প পথ খুঁজতে কর্মীরা বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

শনিবার (৬ মার্চ) “লেখক ও সাংবাদিক মুশতাক আহমেদ এবং সাংবাদিক বোরহান উদ্দিন মুজাক্কির হত্যার প্রতিবাদে” জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত এক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামের অনেক পথ আছে। উন্মুক্ত রাজপথে আন্দোলনে বাধা দিলে বিকল্প পথ খুঁজতে কর্মীরা বাধ্য হবে। সেই বিকল্প পথে যদি যায় তাহলে দেশটা কি হবে তা কিন্তু আপনাদের ভাবতে হবে। সুতরাং নিরাপত্তা শুধু আমাদের প্রয়োজন নয়, নিরাপত্তা সকলেরই প্রয়োজন। এদেশে নিরস্ত্র জনগণ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে পরাস্ত করেছেন। তাদেরকে পরাজিত করে দেশের মাটিতে ফেরত পাঠিয়েছে। আন্দোলনের মুখে কোনো অস্ত্র ও পোশাকের ভয় দেখিয়ে কখনই সত্য কথা আড়াল করা যাবে না। সেই কারণেই বলছি মুক্তি দিন, প্রতিবাদ করতে দিন, গণতন্ত্রকে ফেতর আসতে দিন।

গয়েশ্বর বলেন, গণতন্ত্র ফিরে আসলে গণতন্ত্রের প্রশাসনে যারা চাকরি করবেন, তারা গর্বিত প্রশাসক হিসাবে জনগণের সামনে নিজেদেরকে হাজির করবেন। গণতন্ত্রবিহীন রাষ্ট্রে, স্বৈরাতন্ত্রের নায়িকা শেখ হাসিনাকে বাঁচানোর জন্য রাষ্ট্রীয় প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন জনগণের সেবা করা বাদ দিয়ে লাঠিচার্জ করেন, জনগণ বাধ্য হবে লাঠি কেড়ে নিতে। জনগণের দেশ জনগন ডিসাইড করবেন, জনগণের গণতন্ত্র জনগণ ফিরিয়ে আনবে। এখানে কোনো মন্ত্র-তন্ত্র কাজে লাগবে না।

তিনি বলেন, আগামীকাল ৭ মার্চ, এদিনে তারেক রহমানের গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদী শক্তি নির্মূলের যে সূচনা হয়েছে তা সারাদেশ দেখেছে। বাংলাদেশের লেখক, বুদ্ধিজীবীরা গ্রেফতার হন, বিনা বিচারে জেল থেকে লাশ হয়ে বের হন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, মুশতাকের মৃত্যু নাকি স্বাভাবিক?

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, শুধু শেখ হাসিনার কথায় লেখক-বুদ্ধিজিবি-সাংবাদিক খুন হন না। শেখ হাসিনাকে যারা লালনপালন করেন, বাংলাদেশকে যারা শোষণ করেন, তাদের ইচ্ছায়-অনিচ্ছার ওপর বাংলাদেশের অনেকেরই ভবিষ্যৎ। বাংলাদেশ বাংলাদেশের জায়গায় নেই, বাংলাদেশ দিল্লির শৃঙ্খলে আবদ্ধ। সবাই মিলে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে। এই স্বাধীনতা ভোগ করতে চাইলে, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হলে, সকল শ্রেণীপেশার মানুষ এক কাতারে সামিল হতে হবে। যেকোনো বাঁধাকে অতিক্রম করে তাদেরকর পাকিস্তানিদের মত পরাজিত করে যার যার ঘরে পাঠিয়ে দিতে হবে।

সুশৃঙ্খল বাহিনী ছাড়া যুদ্ধ হয় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলের শৃঙ্খলাসহ যা কিছু আছে মেনে নিয়ে ঐক্যমত ও নিজেদের মধ্যে ইস্পাত কঠিন থাকা দরকার। জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিটি কর্মীকে ইস্পাত কঠিন ঐক্যের মধ্যে দিয়ে গণতন্ত্রের লড়ায়ে জিততে হবে। শহীদ জিয়ার বাংলাদেশ, গণতন্ত্রের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল ৯টার পর থেকেই জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা কর্মীদেরকে সমাবেত হতে দেখা গেছে। কয়েকশ’ নেতা কর্মী এই সমাবেশে অংশ নেন। তাদেরকে প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে বসে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা গেছে।

এদিকে স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কদম ফোয়ারা, তোপখানা রোডে ও সচিবালয়ের সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কঠোর নিরাপত্তার বলয় গড়ে তুলেন। এসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরকে পথচারীদের তল্লাসী করে দেখা গেছে। কর্মসৃচিতে যোগ দিতে আসা নেতা কর্মীদেরকে আইনশঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বাধা দিয়েছেন বলেও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে অভিযোগ করেন নেতারা।

সমাবেশে উপস্থিতি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূইয়া জুয়েল, সিনিয়র সহ-সভাপতি গোলাম সরোয়ার, সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ প্রমুখ।