২২ দিনের শিশুসন্তান বিক্রি করে ভ্যান কিনলেন বাবা

মঙ্গলবার, মার্চ ২, ২০২১

নাটোর : সুদি মহাজনের টাকা পরিশোধের চাপে বাধ্য হয়ে ২২ দিনের শিশুকন্যাকে বিক্রি করে দিয়েছেন ভ্যানচালক বাবা। এক লাখ ১০ হাজার টাকায় শিশুটি বিক্রি করেন তিনি। পরে ওই টাকা ভাগাভাগি করে নেন সুদি মহাজনেরা। বাকি টাকায় ভ্যান কিনলেন শিশুটির বাবা।

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার নগর ইউনিয়নের কয়েন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সোমবার (০১ মার্চ) সন্ধ্যায় ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

বিক্রি হওয়া শিশু চাঁদনী খাতুন কয়েন গ্রামের দরিদ্র ভ্যানচালক রেজাউল করিমের মেয়ে। তবে রেজাউল করিম বলছেন, বিক্রি নয়; শিশুটিকে দত্তক দেওয়া হয়েছে।

এরই মধ্যে শিশুটির বাবা রেজাউল করিম, সুদের কারবারি একই গ্রামের আব্দুস সামাদ ও সানোয়ার হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেয় পুলিশ। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

স্থানীয়রা জানায়, কয়েক মাস আগে রেজাউল তার প্রতিবেশী সুদি কারবারি কালাম হোসেন এবং আব্দুস সামাদ ও তার ভাই সানোয়ার হোসেনের কাছ থেকে কিছু টাকা ধার নেন। এর মধ্যে কিছু সুদ পরিশোধ করলেও চক্রবৃদ্ধি হারে বেড়ে তার ঋণের পরিমাণ ৮০ হাজারে দাঁড়ায়। এসব টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন মহাজনেরা।

এমনকি তার আয়ের একমাত্র উৎস ভ্যানটিও কয়েক দিন আগে কালাম হোসেন জোর করে নিয়ে যান। তারপরও টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দিলে ২২ দিনের শিশুকন্যাকে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু স্ত্রী ফুলজান বেগম এতে বাধা দিলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ঘরের বেড়া কুপিয়ে কাটার পাশাপাশি নিজের পায়ে কোপ দেন রেজাউল। সেই সঙ্গে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার হুমকি দেন।

এতে বাধ্য হয়ে শিশুটিকে স্বামীর হাতে তুলে দেন ফুলজান। পরে সুদি মহাজন আব্দুস সামাদের আত্মীয় পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সরাইকান্দি কারিগরপাড়ার রফিকুল ইসলামের কাছে এক লাখ ১০ হাজার টাকায় শিশুটিকে বিক্রি করেন রেজাউল।

বিক্রির পর আব্দুস সামাদসহ অন্যান্য সুদি কারবারিরা পাওনা টাকা ভাগাভাগি করে নেন। অবশিষ্ট টাকা দিয়ে রেজাউলকে ভ্যান কিনে দেন।

প্রত্যক্ষদর্শী মশিউর রহমান বলেন, ভ্যানচলক রেজাউল সুদ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা ধার নেন। সময়মতো পরিশোধ করতে না পারায় চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়ে। সুদের টাকা পরিশোধ করতে এক লাখ ১০ হাজার টাকায় ২২ দিনের শিশুসন্তানকে বিক্রি করে দেন রেজাউল। পরে টাকা ভাগাভাগি করে নেন সুদের কারবারিরা।

কয়েন বাজারের রিকশা-ভ্যান বিক্রেতা আফতাব উদ্দিন বলেন, সোমবার রেজাউলকে সঙ্গে করে আব্দুস সামাদ আমার কাছে এসে একটি ভ্যান কেনার জন্য ২৮ হাজার টাকা দেন। মেয়েকে বিক্রি করে সুদের টাকা দিয়ে বাকি টাকায় ভ্যান কিনেছেন রেজাউল।

বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আমরা এ বিষয়ে তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানাতে পারব।

এ বিষয়ে নাটোরের পুলিশ সুপার (এসপি) লিটন কুমার সাহা ঢাকা পোস্টকে বলেন, ঘটনাটি জানার পর দুজন সুদের কারবারি ও শিশুটির পরিবারকে থানায় নিয়ে আসা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে শিশুকন্যাকে দত্তক দেওয়ার কথা জানান শিশুটির বাবা। এ সংক্রান্ত একটি অঙ্গীকারনামা দেখানো হয়েছে। তবে ঘটনাটির অধিকতর তদন্ত চলছে।