আনুশকা ধর্ষণ-হত্যা: দিহানের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ২১ মার্চ

মঙ্গলবার, মার্চ ২, ২০২১

ঢাকা : রাজধানীর কলাবাগানে মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ‘ও’ লেভেল শিক্ষার্থী আনুশকা নূর আমিনকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে করা মামলার একমাত্র আসামি ফারদিন ইফতেফার দিহানের (১৮) বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২১ মার্চ নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২ মার্চ) মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কলাবাগান থানা পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) আ ফ ম আসাদুজ্জামান প্রতিবেদন দাখিল না করে সময় আবেদন করলে তা মঞ্জুর করে নতুন এ দিন ধার্য করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন মেজিস্ট্রেট বেগম ইয়াসমিন আরা।

এর আগে গত ১১ ফেব্রুয়ারিও সময় আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রতিবেদন দাখিল পিছিয়ে ২ মার্চ দিন ধার্য করেছিলেন আদালত।

গত ৭ জানুয়ারি কলাবাগানে নিজেদের বাসা থেকে ‘ও’ লেভেলের ওই ছাত্রীকে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে নিয়ে যান তার বন্ধু দিহান। তবে হাসপাতালে নেয়ার আগেই মেয়েটির মৃত্যু হয়।

পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ সাংবাদিকদের জানান, আনুশকার শরীরের কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া না গেলেও তার যৌনাঙ্গ ও পায়ুপথে ক্ষত চিহ্ন পাওয়া যায়। বিকৃত যৌনচারের কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে আনুশকার মৃত্যু হয়েছে।

এ ঘটনায় ৭ জানুয়ারি রাতেই আনুশকার বাবা মো. আল আমিন আহমেদ বাদী হয়ে দিনাহকে একমাত্র আসামি করে কলাবাগান থানায় একটি মামলা করেন। ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে করা সেই মামলায় পুলিশ দিহানকে গ্রেফতার দেখায়। পরে তিনি ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন।

মামলার অভিযোগে বাদী উল্লেখ করেন, বৃহস্পতিবার (ঘটনার দিন ৭ জানুয়ারি) সকালে সাড়ে ৮টায় আমার স্ত্রী অফিসের এবং আমি সকাল সাড়ে ৯ টায় ব্যবসায়ী কাজের উদ্দ্যেশ্যে বের হয়ে যায়। পরে আনুশকা সকাল সাড়ে ১১ টায় আমার স্ত্রীকে ফোন দিয়ে বলে সে কোচিং এর পেপার্স আনতে বাহিরে যাচ্ছে। এই কথা বলে সে সকাল ১১ টা ৪৫ মিনিটে বাসা থেকে বের হয়ে যায়।

এজাহারে আরও বলা হয়, বেলা ১টা ১৮ মিনিটে ইফতেখার ফারদিন দিহান আমার স্ত্রীকে ফোন দিয়ে বলে আনুশকা তার বাসায় গিয়েছিল, আনুশকা সেখানে হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়ায় তাকে রাজধানীর আনোয়ার খান মর্ডান মেডিকেল কলেজ হাসপাতলের জরুরি বিভাগে ভর্তি করিয়েছে। এ কথা শুনে আমার স্ত্রী বেলা ১টা ৫২ মিনিটের দিকে হাসপালে পৌছায়। সেখানে গিয়ে আমার স্ত্রী কর্তব্যরত চিকিৎসকের কাছে জানতে পারে আনুশকাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

মো. আল আমিন আহমেদ এজাহারে আরও অভিযোগ করেন, পরে আমরা বিভিন্নভাবে জানতে পারি দিহান আমার মেয়েকে প্রেমের প্রলুব্ধে ধর্ষণের উদ্দ্যেশ্যে তার বাসায় বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টার দিকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে দিহান ফাঁকা বাসায় আমার মেয়েকে একা পেয়ে ধর্ষণ করে।

ধর্ষণের সময় অমানবিক কার্যকলাপ করায় আনুশকার গোপাঙ্গ দিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়ে অচেতন হয়ে যায়। পরে ধর্ষণের ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে দিহান চালাকি করে আমার মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আমার মেয়ে মৃত ঘোষণা করেন।