চিঠি পৌঁছানোর ১৩ মিনিট আগে পালান পিকে হালদার

সোমবার, মার্চ ১, ২০২১

ঢাকা: প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে প্রশান্ত কুমার ওরফে পিকে হালদার দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞায় দুদকের চিঠি পৌঁছানোর ১৩ মিনিট আগে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বিদেশে পালিয়ে গেছেন বলে তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) ইমিগ্রেশন শাখা।

সোমবার (১ মার্চ) বিকেলে বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক।

তিনি বলেন, ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যান পিকে হালদার। যদিও যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই পিকে হালদার যাতে বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারেন দুর্নীতি দমন কমিশনের এমন চিঠির কপি পায় বেনাপোল স্থলবন্দরে দায়িত্বরত ইমিগ্রেশন।

গ্রেফতার ও তার পাসপোর্ট জব্দ করার নির্দেশ দেয়ার পরও কীভাবে পিকে হালদার দেশ ত্যাগ করলেন তা নিয়ে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন হাইকোর্ট। পিকে হালদার যেদিন দেশত্যাগ করেন সেদিন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনে কারা দায়িত্বরত ছিলেন তাদের নামের তালিকা দাখিল করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের আইজিপিকে নির্দেশ দেন আদালত। আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে এ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পিকে হালদারের পালানোর বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষকে মৌখিকভাবে তথ্য জানিয়েছে এসবির ইমিগ্রেশন ইউনিট।

দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান বলেন, অনুসন্ধ্যানের স্বার্থে দুদক আগে থেকেই পদক্ষেপ নিয়েছিল। এরই অংশ হিসেবে পিকে হালদার যাতে দেশত্যাগ করতে না পারে সেজন্য দুদক এসবির মাধ্যমে ইমিগ্রেশনে চিঠি দেয়। কিন্তু পি কে হালদার পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে যদি কারও কোনও গাফিলতি থাকে সেটা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক বলেন, এসবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যা দুদকের চিঠি পাওয়ার আগেই বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে যান পিকে হালদার।

এদিকে পিকে হালদার এবং তার সহযোগী ও ৩৯ প্রতিষ্ঠানের প্রায় তিন হাজার কোট টাকা ফ্রিজ করেছে দুদক। এসব টাকা পিকে হালদার ও তার সহযোগীদের ব্যাংক হিসাবে গচ্ছিত ছিল। বএফআইইউর সহযোগিতায় দুদক এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ফ্রিজ করেছে। বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে দুদক।