অন্যের চিকিৎসক সনদ চুরি করে রোগী দেখতেন মনিরুজ্জামান

রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২১

ঢাকা: অন্যের চিকিৎসক সনদ চুরি সেখানে নিজের নাম ও ছবি বসিয়ে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক সেজে রোগী দেখে আসছেন শেখ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান (৫৬) নামে একজন প্রতারক। প্রতারণার বিষয়টি জানার পর প্রকৃত চিকিৎসক মো. ফজলুল হক (সৌরভ) আদালতে শেখ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

আদালত এরইমধ্যে ওই ভুয়া চিকিৎসকের চেম্বারটি বন্ধ করে দিয়েছে এবং আদালতে তাকে নথিপত্র জমা দিতে বলেছেন। মামলা চলা অবস্থায় ভুয়া চিকিৎসক মনিরুজ্জামান সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ফজলুল হকের চেম্বারে ও বাসায় হামলা করেছে। এখনও তাকে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছেন ওই প্রতারক।

চিকিৎসক ফজলুল হক বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বলেন, গত ২৫ বছর ধরে বগুড়া শহরের নামাজগড় এলাকায় হোমিও চিকিৎসাসেবা চালিয়ে আসছেন তিনি। ১৯৯৬ সালে তিনি রাজশাহী হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজ ও রাজশাহী হাসপাতাল থেকে ডিপ্লোমা ইন হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি (ডিএইচএমএস) কোর্সটি সম্পন্ন করি। যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর-১৩১২৪। সার্টিফিকেট প্রদানের তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০০২।

জানা যায়, বেশ কয়েকবছর ধরে প্রতারক মনিরুজ্জামানও নামাজগড় এলাকায় হোমিওপ্যাথির চেম্বার খুলে ডাক্তারি শুরু করেন।

ফজলুল হক বলেন, আমার ডাক্তারি সনদ নম্বর ও তার সনদ নম্বর একই। শুধুমাত্র নামের জায়গা ও ছবিতে পরিবর্তন।

বিষয়টি তাকে জানালে হুমকি-ধমকি দিয়ে ভুয়া চিকিৎসক বলেন, এ নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে ফল ভালো হবে না।

এরপর গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর বগুড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার করেন চিকিৎসক ফজলুল হক।

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে ফজলুল হক বলেন, মামলা করার পর আদালত তার ভুয়া চেম্বারটি বন্ধ করলেও এখন তিনি বাসার ভেতরে রোগী দেখছেন। এছাড়া আদালতের নির্দেশনার পর সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ফজলুল হকের হোমিও চেম্বার ও বাসায় হামলা করে ভাঙচুর চালান।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নামাজগড় এলাকায় শেখ মনিরুজ্জামান ভুয়া সনদ দিয়ে হোমিও চেম্বার চালালেও তার আড়ালে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তিনি। ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ নানা মাদক বিক্রিতে জড়িত থাকার তথ্য রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি বগুড়ার ডাক্তার সমিতি তার হোমিও মেডিকেল সার্টিফিকেট দেখতে চাইলে তিনি ঢাকায় পালিয়ে যান।

নামাজগড় এলাকার একজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মনিরুজ্জামান একজন ভুয়া হোমিও চিকিৎসক। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। এলাকার সবাই জানে চিকিৎসার আড়ালে তিনি মাদক বিক্রি করেন। তার বাড়ি মূলত যশোরে। যশোরের অভয়নগর এলাকায় তিনি অসৎ উপায়ে অনেক মানুষের কাছ থেকে ব্যবসার কথা বলে টাকা আত্মসাৎ করেন। ১৯৯০ সালের দিকে একটি মামলায় কারাগারে যান তিনি। এরপর বের হলে অবস্থা বেগতিক দেখে তিনি এলাকা ছেড়ে শ্বশুরবাড়ি এলাকা বগুড়ায় চলে আসেন।

বগুড়াতেও প্রথমে মাহবুব নামে একজনকে সঙ্গে নিয়ে একটি ভুয়া এনজিও খুলে অনেক মানুষের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। মাহবুবের নামে মামলা হলেও মনিরুজ্জামানের নামে কোনো মামলা করেনি কেউ। কারণ মনিরুজ্জামান ছিলেন চতুর প্রকৃতির। তিনি যা করেছেন সবই মাহবুবের নামে। অথচ তিনি সব টাকা মেরে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন মাহবুব।

এসব বিষয় খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন চিকিৎসক ফজলুল হকসহ নামাজগড় এলাকার বাসিন্দারা।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শেখ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, মামলা হওয়ার পর আমি ডাক্তারি পেশা বন্ধ করে দিয়েছি। বাসাতেও রোগী দেখি না। এখন ঢাকায় থাকি আবার বগুড়াতেও থাকি। সনদটা আমার ভুয়া ছিল। এখন সেটি আর নেই। যে মামলা করেছিল তার সঙ্গে মীমাংসা হয়ে গেছে।