বিএনপিকে জনসম্মুখে টিকা গ্রহণের অনুরোধ তথ্যমন্ত্রীর

মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২১

ঢাকা : দেশের টিকা নিয়ে বিরূপ প্রচারণা চালানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, যারা বিরূপ প্রচারণা চালিয়েছিল তারা এখন টিকা নিচ্ছে এবং অন্যদেরকেও নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি’র কোনো কোনো নেতা গোপনেও টিকা নিয়েছে। আমি অনুরোধ জানাবো, আপনারা এভাবে গোপনে লুকিয়ে লুকিয়ে না নিয়ে যেভাবে জনসম্মুখে কথা বলেন, ঠিক সেভাবে টিকা গ্রহণ করুন। লুকিয়ে লজ্জা নিয়ে টিকা নেবেন না। আমরা আপনাদেরও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য বদ্ধপরিকর।

মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ইন্ডিয়ান মিডিয়া করেসপন্ডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ অনুরোধ জানান।

দুই দেশের মধ্যে আন্তঃসংযোগ বাড়ানোর কথা জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর অন্যান্য দেশগুলো নিজেদের মধ্যে কানেকটিভিটি বাড়াচ্ছে, আন্তঃসংযোগ বাড়াচ্ছে। একটা সময় ইউরোপের এক দেশ থেকে আরেক দেশে যেতে ভিসা লাগত, বর্তমানে সেটি আর লাগে না। তারা দেখেছে রাজনৈতিক সীমারেখা দিয়ে জনগণকে আবদ্ধ রেখে এবং ব্যবসা বাণিজ্যে দূরত্ব রেখে লাভ হয় না। আন্তঃসংযোগ বাড়ানোর ফলে তাদের জিডিপি গ্রোথ বেড়েছে, কর্মসংস্থান বেড়েছে। বঙ্গবন্ধু যেসব চুক্তি করে গিয়েছিলেন এর ফলে আমাদের মধ্যে কিছুটা হলেও আন্তঃসংযোগ স্থাপিত হয়েছে।

ভারতের বিরোধিতা করে বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভব না জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ১৯৭৫ সালে দেশ যখন উল্টো পথে হাঁটা শুরু করল, তখন ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলে ভোট নেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়েছে। সেই কারণে আমাদের ক্ষতি হয়েছে, এই অঞ্চলের ক্ষতি হয়েছে। দেশে বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল আছে যাদের মূল বিষয় হচ্ছে ভারত বিরোধিতা। যখন নির্বাচন আসে তখন ভারত বিরোধিতাকে সামনে নিয়ে আসে। অথচ ভারত আমাদের দেশের তিন দিকে পরিবেষ্টিত। যে দেশ আমাদের সংগ্রামের সময় রক্ত ঝরিয়েছে, যাদের সহযোগিতা ছাড়া আমাদের নয় মাসের মধ্যে মুক্তির সংগ্রাম লাভ করা সম্ভব ছিল না, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তাদের যে কূটনৈতিক তৎপরতা-এটি ছাড়া বঙ্গবন্ধুকে মুক্ত করা সম্ভব ছিল না, সে দেশের সঙ্গে বিরোধিতা করে আমাদের দেশের উন্নয়ন সম্ভব না। তারা এটি বুঝেও বুঝে না।

ভুল, অসত্য ও তথ্য নির্ভর নয় এমন সংবাদ যেন বাংলাদেশের মিডিয়াতে প্রকাশ না হয় সেই বিষয়ে সতর্ক করে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে এমন কোনো সংবাদ যেন পরিবেশিত না হয় যেটি দু’দেশের মধ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। কিছুদিন আগে কিছু ভুল ও অসত্য সংবাদ পরিবেশিত হয়েছে সংবাদ মাধ্যমে। একইসঙ্গে শুধু এটি আমাদের দেশে পরিবেশিত হয়েছে তা নয়, ভারতের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমেও পরিবেশিত হয়েছে। যেটি দুই দেশের মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। যখন মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় তখন দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

তিনি বলেন, করোনা নিয়ে ভারতের একটি সংবাদমাধ্যমে ভুল সংবাদ পরিবেশিত হলো। আর সেটির সূত্র ধরে আমাদের দেশের সব গণমাধ্যম যেভাবে সংবাদ পরিবেশন করল-অথচ পুরো তথ্যটা ছিল ভুল এবং মিথ্যা। আর সেটি যে ভুল সংবাদ ছিল তা প্রমাণ করতে ভারতের স্বাস্থ্য সচিবকে সংবাদ সম্মেলন করতে হয়েছে, সিরাম ইনস্টিটিউটকে সংবাদ সম্মেলন করতে হয়েছে এবং আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ আমাদেরকেও কথা বলতে হয়েছে। অথচ দেখা গেল, চুক্তি অনুযায়ী যে সময়ের মধ্যে করোনার টিকা আসার কথা, সে সময়ের মধ্যে এসেছে তো বটেই, একইসঙ্গে ভারত আমাদের ২০ লাখ টিকা উপহার হিসেবে দিয়েছে। এটিই হচ্ছে দুই দেশের মধ্যে মৈত্রী বন্ধনের উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ, আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা এবং লেখক ও সাংবাদিক হারুন হাবীব, সভাপতি বাসুদেব ধর, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।