কবর জিয়ারতকালে কেবলামুখী হওয়া আবশ্যক?

বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২৮, ২০২১

ধর্ম ডেস্ক: আখিরাতের স্মরণের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো কবর জিয়ারত। এর মাধ্যমে ইহকালীন অনাসক্তি ও অন্তরে আল্লাহর ভয় সৃষ্টি হয়। অনেকেই কবর জিয়ারতকালে কবরের দিকে তাকিয়ে দোয়া-মুনাজাত করে। আবার অনেকেই কিবলামুখী হয়ে মুনাজাত করে। তবে প্রচলিত এই দুই পদ্ধতির মাঝে কোনটি শরিয়ত সম্মত বা কিবলামুখী হওয়ার জন্য কি কোন নির্দেশনা বা আবশ্যকতা আছে?

হ্যা, কবর থেকে সরে কিবলামুখী হয়ে দুআ করতে হবে। কবরের দিকে ফিরে দুই হাত তুলে দোয়া করা ঠিক নয়। তাই কবরের দিকে পিঠ দিয়ে কিবলামুখী হয়ে দোয়া করবে। (ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৩৫০, কিতাবুল কারাহিয়্যা) কেউ চাইলে হাত না তুলেও মনে মনে দোয়া করতে পারবে।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ যুলবিজাদাইন রা.-এর দাফনের ঘটনায় তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আবদুল্লাহ যুলবিজাদাইন-এর কবরে দেখেছি, যখন তিনি তার দাফন থেকে ফারেগ হলেন, দুই হাত তুলে কেবলামুখী হয়ে তার জন্য দুআ করেন, ইয়া আল্লাহ, আমি তার উপর সন্তুষ্ট, আপনিও তার উপর সন্তুষ্ট হয়ে যান। (মুসনাদে বাযযার, হাদীস ১৭০৬; হিলয়াতুল আওলিয়া ১/১২২; ফাতহুল বারী ১১/১৪৮; আলবেনায়াহ শরহুল হেদায়াহ ৩/২৬২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩৫০)

তবে কবরবাসীর কাছে কিছু কামনা করা, নামাজ আদায় করা বা সেজদা করা, তার উছিলায় মুক্তি প্রার্থনা করা, সেখানে দান-সদকা ও মানত করা, গরু-ছাগল, মোরগ ইত্যাদি দেওয়া বা কোরবানি করা ইত্যাদি সবই শিরকেরই অন্তর্ভুক্ত। তাই কোনো কবরের কাছে গিয়ে এমনটি করা সম্পূর্ণ অনুচিত।

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) নারী কবর জিয়ারতকারী, কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণকারী ও তাতে বাতি প্রজ্বালনকারীদের অভিশাপ দিয়েছেন।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৩২৩৬)