সাড়ে ৩ কোটি টাকা আত্মসাত করায় কর কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত

মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৬, ২০২১

খুলনা: করদাতার করের সাড়ে ৩ কোটি টাকা সরকারি হিসাবে জমা না দিয়ে আত্মসাতের দায়ে খুলনা কর অঞ্চলের সাবেক কর কমিশনার মো. মেজবাহ্উদ্দিনকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার এ বিষয়ে আদেশ জারি করেছে অর্থমন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খুলনা কর অঞ্চলের বিভিন্ন সার্কেলে কর্মরত অবস্থায় অভিযুক্ত সহকারী কর কমিশনার মো. মেজবাহ্উদ্দিন করদাতাদের জমা দেয়া পে অর্ডার, ডিডি, ক্রসচেক সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে অবৈধভাবে জমা দিয়ে তা আত্মসাত করেন।
এ অভিযোগ আমলে আসার পর ২০১৯ সালে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করে এবং তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ। তদন্তে তিনি দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে চাকরিচ্যুত করার প্রস্তাবে গত ২৩ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি অনুমোদন দেন।
জানা গেছে, খুলনা কর অঞ্চলের ১০নং সার্কেলের এই সহকারী কর কমিশনার অভিনব কায়দায় বিভিন্ন সার্কেলে কর্মরত অবস্থায় করদাতাদের দেয়া ৩ কোটি ৪৭ লাখ ৩৪ হাজার ৪২৯ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। ২০১৭ সালের ৯ মার্চ থেকে ২০১৯ সালের ১৭ এপ্রিলের মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংক, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংকে তিনি আত্মসাৎকৃত টাকা জমা রাখেন। এ ঘটনার পর কর কমিশনার কার্যালয়ের আভ্যন্তরীণ তদন্তে মেজবাহের অভিযোগের প্রমাণ মেলার পর তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।
এ ঘটনায় ২০১৯ সালের ২১ জুলাই খুলনার কর অঞ্চলের উপ-করকশিনার খন্দকার মো. তারিফ উদ্দিন উপ-পরিচালক দুদক বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি আমলে নিয়ে প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশক্রমে গত ১৩ অক্টোবর দুদকের সহকারী পরিচালক মো. শাওন মিয়া মেজবাহকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই সময়ে মামলার বাদী মো. শাওন মিয়া জানান, সবকিছু যাচাই-বাছাই শেষে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। দুদকের প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশক্রমেই তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এর পরে ২০১৯ সালের ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় তাকে খুলনা নগরীর বয়রা সবুরের মোড় এলাকার নিজ বাসভবনের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।