‘ট্রাম্পের বিতাড়িত’ সেই বাংলাদেশি নারী হোয়াইট হাউসে

মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৬, ২০২১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মুসলমান হওয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের টিমে টিকতে না পারা রুমানা আহমেদ আবারও হোয়াইট হাউসে ফিরেছেন। সদ্য সাবেক হওয়া প্রেসিডেন্টের প্রশাসন থেকে মাত্র ৮ দিনের মাথায় পদত্যাগ করা রুমানা ইউনাইটেড স্টেটস এজেন্সি ফর গ্লোবাল মিডিয়া (ইউএসএজিম) এর রিভিউ প্যানেলের সাত সদস্যের অংশ হয়ে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছেন।

প্রতিবাদী রুমানা হিজাব পরায় ট্রাম্পের লোকজনের কাছে প্রায়ই অপদস্থ হতেন। তাকে কেউই স্বাভাবিকভাবে নিতে পারতেন না। ২০১৭ সালে পদত্যাগের নেপথ্য এই কারণগুলো জানিয়ে দ্য আটলান্টিকে একটি কলাম লেখেন রুমানা। ওই লেখা প্রকাশিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়।

তার বাবা ১৯৭৮ সালে লেখাপড়ার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান। মা দেশটিতে একটি দোকানে ক্যাশিয়ারি হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে নিজের উদ্যোগে একটি ডে কেয়ার সেন্টার চালু করেন। বাবা ব্যাংকে অব আমেরিকায় লেটনাইট কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। পরে একটি শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রমোশন পান। রুমানার বাবার স্বপ্ন ছিল পিএইচডি করবেন। কিন্তু ১৯৯৫ সালে তার সেই স্বপ্ন থেমে যায়। সড়ক দুর্ঘটনায় একটি গাড়ি তার বাবার প্রাণ নিয়ে নেয়।

রুমানা জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি থেকে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার পরপর বারাক ওবামার প্রশাসনে যোগ দেন। সাবেক প্রেসিডেন্টের আমলে দেশটির ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলে কাজ করতে থাকেন।

রুমানা তার সেই আলোচিত কলামে জানান, ওবামা ক্ষমতা ছাড়লে হোয়াইট হাউসে তার অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে। সপ্তাহ পার হতে না হতেই তাকে চাকরি ছেড়ে দিতে হয়।

‘ আমার কাজ ছিল দেশের সেবা করা। ওয়েস্ট উইংয়ে আমি ছিলাম একমাত্র হিজাবী। ওবামা প্রশাসন সব সময় আমাকে স্বাগত জানিয়েছে, ‘রুমানা কলামে লিখেছেন, ‘অন্য মুসলিমদের মতো ২০১৬ সালে আমিও ট্রাম্পের কাজকর্ম দেখতে থাকি। আমি ভেবেছিলাম, দেশের জন্য তার প্রশাসনে আমার থাকা উচিত। আমি আটটা দিন টিকতে পেরেছিলাম।’

‘ট্রাম্প যখন সাতটি মুসলিম-প্রধান দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেন, তখনই বুঝে যাই আমার আর সময় নেই। ভাবতে থাকি, এমন একটা প্রশাসনে কাজ করি, যারা আমাকে অধীনস্থ নাগরিক মনে করে, হুমকি হিসেবে দেখে।’

রুমানা বলেন, ২০১৬ সালের পরিস্থিতি তার কাছে ৯/১১’র মতো মনে হচ্ছিল। মুসলিম হওয়ায় অধিকাংশ মানুষ তাকে এড়িয়ে যেতে থাকে। অনেকে কথা বলতে চাইত না।