জিয়াউর রহমান ছাড়া আমরা স্বাধীনতা পেতাম কিনা সন্দেহ ছিল: রিজভী

সোমবার, জানুয়ারি ২৫, ২০২১

ঢাকা : জিয়াউর রহমান ছাড়া আমরা স্বাধীনতা পেতাম কিনা সন্দেহ ছিল বলে মন্তব্য করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

আজ সোমবার (২৫ জানুয়ারি) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের আয়োজিত মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়া ও মাহফিলের অনুষ্ঠানে একথা বলেন রিজভী।

তিনি বলেন, এ দেশের জাতীয় ইতিহাসের একটা বড় অংশ হলো জিয়া পরিবার। আজও যতটুকু কথা বলা যায় তা একমাত্র দেশ ও নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাহসেই বলতে পারি। সেই পরিবারের কনিষ্ঠপুত্রের উপর যে ভয়ঙ্কর নির্যাতন চালিয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

তিনি আরো বলেন,সেতো কোন রাজনৈতিক দলের নেতা ছিলেন না। তাহলে কেন স্বেচ্ছাসেবক দল তার জন্য দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছেন? কারণ তিনি ছিলেন দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। তার মৃত্যু স্বাভাবিক কোনো মৃত্যু ছিল না। এটি প্রকারান্তরে একটি হত্যাকাণ্ড। তার জন্য আজকের এই দোয়া মাহফিল এবং আত্মার মাগফেরাত কামনা করা। এই সংকট আর ক্রান্তিলগ্নে আরাফাত রহমান কোকোর জন্য দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে স্বেচ্ছাসেবক দল।

এই নেতা আরও বলেন, সরকারের আন্দোলনের ফসল মইনুদ্দিন ফখরুল গ্রেপ্তার করেছিল দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে, তারেক রহমানকে এবং আরাফাত রহমান কোকোকে। সময় পাশাপাশি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আজিজুল বারী হেলাল। তিনি এসব আমাকে বলেছিলেন। কোকোর প্রতি নির্দয়, নিষ্ঠুর অমানবিক অত্যাচার করেছে সরকার। এবং তার গোয়েন্দা বাহিনী।

মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেখতে পান তার মাকে বালুর বস্তা, কাঠের ভ্যান দিয়ে ঘেরাও করে রেখেছে। আর তার মায়ের দিকে ছোঁড়া হচ্ছে টিয়ার গ্যাস। এমন অবস্থায় বাচ্চা ছেলেটি কি ঠিক থাকতে পারে? তার মায়ের প্রতি এত অত্যাচার দেখে শেয়ার বেঁচে থাকতে পারেনি। প্রকারান্তরে শেখ হাসিনাই আরাফাত রহমান কোকোকে হত্যা করেছে।

রিজভি আরো বলেন, বিএনপির লোক মারা গেলে কোন মামলা নেই। ২০১৮ সালের ৩০ শে ডিসেম্বর একটি নির্বাচন হলো। লক্ষ নেতাকর্মীদের নামে মামলা দেওয়া হয়েছিল। কবরস্থানের মৃত মানুষদের নামেও মামলা দিয়েছিল সরকার।

তিনি আরো বলেন, কোকো কুকুর মারা গেছে তারা জানাজা হবে। শেখ হাসিনার চক্রান্ত আর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বেষ্টনী ভেঙে জানাযায় নেমেছিল জনতার ঢল। এই জনতার ঢল দুটি বার্তা দেয়। একটি হল জিয়া পরিবারের প্রতি হাসিনার হিংসার বিরুদ্ধে জনগণের ভূমিকা আর অন্যটি হলো এই সরকার গণতন্ত্রকে আটকে রেখেছে। আর মানুষ সুযোগ পেলেই গণতন্ত্র রক্ষায় রাস্তায় বাঁধভাঙ্গা স্রোতে নামবে।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভুইয়া জুয়েলের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন মীর সরাফত আলী সপু সহ বিএনপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।