মহেশখালী পৌর নির্বাচনে আওয়ামীলীগ উজ্জীবিত, বিএনপিতে নির্বাচনে আগ্রহ নেই!

শুক্রবার, জানুয়ারি ২২, ২০২১

উপকূলীয় প্রতিনিধি : মহা টেনশন সৃষ্টি হয়েছে আওয়ামীলীগ মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে! আওয়ামীলীগ সভানেত্রী এবং দায়িত্বশীল নেতারা শুরু থেকে বলছে কোন হাইব্রিড, অনুপ্রবেশকারী, প্রার্থীর পরিবার বহু দলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল, ইয়াবা কারবারী, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী মানবতা বিরোধী ট্রাইবুনালে চলমান মামলায় আত্মীয় স্বজনের সংশ্লিষ্টতা ব্যক্তি এবং ব্যক্তি বিশেষকে মনোনয়ন দেবেনা।

এমনকি? দলের বিদ্রোহীদের মনোনয়ন দেবেনা বলে পরিষ্কার ঘোষনা করেছেন। বর্তমান মেয়র মকসুদ মিয়ার বিরুদ্ধে ত্যাগী আওয়ামীলীগদের ২৮৫ পৃষ্ঠার ডকুমেন্টারি প্রধানমন্ত্রী দৃষ্টিগোচরে এনেছেন বলে একাধিক আওয়ামীলীগ নেতারা স্বীকার করেছেন।

বর্তমান মেয়র মকসুদ মিয়ার বিরুদ্ধে ইয়াবা কানেকশনে তাঁর ঢাকার বাসা থেকে তার ছেলের কাছে ৩ লাখ ৫০ হাজার পিচ ইয়াবা এবং নগদ ৭ কোটি ৮৫ হাজার নগদ টাকা আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী উদ্ধার করে।

বর্তমান মেয়র মকছুদ মিয়ার বিরুদ্ধে ২২৯ কোটি টাকার সরকারি ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ধ্বংস করে চিংড়ী ঘের তৈরী করে উপকূলীয় এলাকার লক্ষ লক্ষ বাসিন্দাকে অনিরাপদ ও ঝুঁকির মধ্যে নিপতিত করেছে বলে প্রকাশিত ডকুমেন্টারিতে উল্লেখ করেছেন। বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা চলমান আছে।

মানবতা বিরোধী অপরাধ ট্রাইবুনাল মামলার সাক্ষী রবীন্দ্র লাল দে কে শারিরীক ভাবে নির্যাতন করার প্রেক্ষিতে রবীন্দ্র লাল দে কক্সবাজার জেলা প্রশাসককে লিখিত অভিযোগ জানালে উক্ত অভিযোগ অনুযায়ী সাক্ষী সুরক্ষা আইন মতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে যুদ্ধপরাধীর সন্তান হিসেবে বর্তমান মেয়র মকসুদ মিয়ার বিরুদ্ধে আইনানুগ দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পত্র ইস্যু করেন।

যা ডকুমেন্টারিতে সংযুক্ত আছে দেখা যায়। অন্যদিকে মহেশখালী প্রেস ক্লাবের বর্তমান সেক্রেটারি এবং মহেশখালী পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছালামত উল্লাহ কে নিজ হাতে গুরুতর জখম করার অভিযোগ রযেছে। তৎকারনে ছালামত উল্লাহ স্ত্রী বাদী হয়ে বর্তমান মেয়র মকসুদ মিযাকে প্রধান আসামী করে মামলা রুজু করেন। যা বিচারাধীন রয়েছে।

অন্যদিকে মহেশখালী প্রেস ক্লাবের সেক্রেটারি ও কাউন্সিলর সালামত উল্লাহ মহেশখালী পৌরসভার দূর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ বাংলাদেশ দূর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বারবরে মেয়র মকসুদ মিয়ার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, পৌরসভার ফান্ড তসরুপ, দূর্নীতি তদন্ত করার জন্য পত্র দেন, তাতে কাজ না হলে সালামত উল্লাহ মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ফৌজদারি রিভিশন ২৯৯৭/২০১৯ দাযের করেন।

উক্ত মামলায় দুদক চেয়ারম্যান এবং মকসুদ মিয়াকে বিবাদী করা হয়। বর্তমান মামলাটি বিচারাধীন আছে। একই পরিবারে মকসুদ মিয়ার আপন বড় ভাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুবকর তাঁর ছোট ভাই আতাউল্লাহ জেলা বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক।

অনেক ত্যাগী আওয়ামিলীগ কর্মীরা মেয়র মকছুদ মিয়ার সাথে বিএনপির সাবেক মন্ত্রী সালাহউদ্দিনের সাথে সম্পর্ক আছে বলে অভিমত দেন প্রকাশিত ডকুমেন্টারিতে তা উল্লেখ আছে। স্থানীয় মহেশখালী কুতুবদিয়ার এমপির আশকারায় আওয়ামীলীগের পৌর আহবায়ক এবং জেলা আওয়ামিলীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন মর্মে আওয়ামিলীগ ত্যাগী নেতারা স্বীকার করেছেন।

অন্যদিকে সাবেক চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগ নেতা, মহেশখালী উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি মো.শাহজাহান বলেন, ১৯৯০ স্বৈরচার গনতান্ত্রিক আন্দোলন থেকে প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনে তিনি আওয়ামিলীগ প্রার্থীদের নির্বাচনে প্রানপন ভুমিকা রেখেছেন, তৎমধ্যে প্রয়াত ইসহাক এমপি, বর্তমান কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, বর্তমান জেলা আওয়ামিলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট ফরিদুল ইসলামের নিকট জিজ্ঞাসিত হলে পরিষ্কার ধারনা পাওয়া যাবে।

কক্সবাজার আওয়ামীলীগ পরিবারের নিকট জিজ্ঞসিত হলে আমি জামায়াত বিএনপি জোট সরকারের নিকট কি পরিমান নির্যাতিত তার একটি চিত্র পাওয়া যাবে। জামাত বিএনপির একাধিক ডিটেনশনের শিকার হয়ে আমি কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে ছিলাম মাসের পর মাস।

এত ত্যাগ স্বীকারের পরে ও বিএনপি জামায়াতের প্রেতাত্মা, হঠাৎ অনুপ্রবেশকারী মহেশখালী কুতুবদিয়ার এমপির বদন্যতায় কিভাবে আওয়ামীলীগের শীর্ষ পদে স্থান করে নিয়েছে তাবৎ বিষয় তদন্ত করা উচিত বলে মনে করেন।

অন্যদিকে সাবেক মেয়র বিএনপি জামায়াতের নির্যাতনের স্বীকার সরোয়ার আজম বলেন, হাইব্রিড, অনুপ্রবেশকারী, ইয়াবাকারবারীরা আজ দলে ত্যাগী নেতাকর্মীদের কোনঠাসা করে রেখেছে।

বর্তমান মেয়রের নির্যাতনে,বর্তমান মেয়রের পিতা এবং চাচা কর্তৃক ধর্ষিতা শিখারানী ও রানী বালা দে বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি চেয়ে ও পাইনি। বর্তমান মেয়র মকছুদ মিয়ার নির্যাতনের স্বীকার হয়ে আইসিটি ট্রাইবুনালের বহু সাক্ষী এলাকা ছাড়া হয়ে অন্যত্রে চলে গেছেন বলে জানান।

সর্বেশষ বিশ্লেষণে দেখা যায়, মহেশখালী পৌরসভার সাধারন নাগরিকের কাছ থেকে জানা যায়, বর্তমান মেয়র মকসুদ মিয়ার স্বেচ্ছাচারী কর্মকান্ড সাধারন মানুষ ভীতি সন্ত্রস্ত। তাঁর পরিবার প্রথমে নেজাম ইসলাম পার্টি, জিয়ার আমলে বিএনপি, জাতীয় পার্টির আমলে এরশাদ, খালেদা জিয়ার আমলে বিএনপি, হামিদুর রহমান আজাদের আমলে জামায়াত, ২০০৯ সনে আওয়ামীলীগের আমলে কুতুবদিয়া মহেশখালীর এমপি আশেক উল্লাহর অনুকম্পায় আওয়ামিলীগ! বিএনপির সভাপতি আবুবকর জানান আসন্ন মহেশখালী পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির পক্ষে প্রার্থী হতে কোন ব্যক্তি আগ্রহী নয়। অথচ তিনি মহেশখালী পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের ভোটার এবং বাসিন্দা!