গণধর্ষনে অভিযুক্ত ধর্ষক হাজতে

বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২১, ২০২১

বরিশাল : বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি জাকির সন্যামতের ভাতিজা যুবলীগ সদস্য তৌকির সন্যামতকে ধর্ষণের অভিযোগে জেল হাজতে পাঠিয়েছে আদালত।

৬ বছর পলাতক থেকে ২১ জুন বৃহস্পতিবার বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক আবু শামীম আজাদ জামিন না মঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী আজিবর রহমান জানায়, তৌকির সন্যামত সহ দুইজনের বিরুদ্ধে বাকেরগঞ্জ থানায় ২০১৪ সনের ৭ জুন মামলা দায়ের করেন এক তরুণী। অভিযোগে তিনি জানায়, বরিশাল কাউনিয়া থানাধীন চড়বাড়িয়া ইউনিয়নের চরবাড়িয়া গ্রামের গ্রাম পুলিশের মেয়ে।

বাউফল উপজেলার বগা ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামের সাইফুল ইসলাম সজিবের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। সজিবের সাথে ঘুরতে ২০১৪ সনের ৭ জুন তিনি লঞ্চ যোগে বাকেরগঞ্জের ফরিদপুর ইউনিয়নের ডিসি লঞ্চ ঘাটে যায়।

সজিব টাকা লোড করার জন্য মোবাইলের দোকানে যায়। সেখান থেকে রাত সাড়ে ৮ টায় পশ্চিম ভাতশালা গ্রামের আনছার সন্যামতের ছেলে তৌকির সন্যামত, পূর্ব ভাতশালা গ্রামের মৃত আদুল খালেক রাড়ির ছেলে আউয়াল রাড়ি বাদিনীকে অপহরন করে সংকর সাধুর বাড়ীর পুকুর পাড় নির্জন স্থানে নিয়ে জোড়পূর্বক ধর্ষন করে।

এতে ধর্ষিতা বেহুশ হয়ে পড়লে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় বাকেরগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন অাইন ২০০০ সংশোধনী ০৩ এর ৭/৯(৩)/৩০ ধারায় মামলা দায়ের করে। মামলার তদন্তকারী অফিসার মোঃ মাছুম তালুকদার তদন্ত শেষে একই সালের ৫ আগস্ট ৩ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।

আদালতের বিচারক ২০১৪ সনের আগস্ট মাসে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করেন। দীর্ঘ ৬ বছর পার হলেও বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ আসামীদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি ।

এ ব্যাপারে সংবাদপত্রে লেখালেখি হলে তৌকির আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানায়। আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেন। হাজতে যাওয়া তৌকির সন্যামত বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভাতশালা গ্রামের যুবলীগ সদস্য এবং বাকেরগঞ্জ উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি জাকির সন্যামতের ভাতিজা হয় বলে ভাতশালা গ্রামের এক বাসিন্দা জানায়।