করোনা সঙ্কট বৈশ্বিক ব্যর্থতার নজির: ডব্লিউএইচও

মঙ্গলবার, জানুয়ারি ১৯, ২০২১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : করোনাভাইরাস নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে বার বার সতর্ক করা সত্ত্বেও তাদের ধীর এবং অদক্ষ সাড়াদান কীভাবে এ সঙ্কট বৈশ্বিক ব্যর্থতার একটি নজির হয়ে উঠেছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) এক প্রতিবেদনে সেই চিত্রই উঠে এসেছে।

ভুল ধারণা, ত্রুটিপূর্ণ পরিকল্পনা এবং যথাযথ পদক্ষেপ নিতে বিলম্ব কীভাবে ২০ লাখের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি প্যানেলের তৈরি করা এই অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন তাও দেখিয়েছে। যে ব্যর্থতার পেছনে এমনকি খোদ ডব্লিউএইচওর ভুল পদক্ষেপও রয়েছে। মহামারির বিস্তার ঠেকানোর চেষ্টাকে ব্যর্থ করার পেছনেও এসব ভুল পদক্ষেপ রয়েছে।

নিউ জিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হেলেন ক্লার্ক ও লাইবেরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট এলেন জনসন সারলিফের নেতৃত্বে গঠিত এই প্যানেল এখনও তাদের কাজ শেষ করেনি। কোভিড-১৯ মহামারিতে বিশ্বের সাড়াদান পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস এই স্বাধীন প্যানেল গঠন করেন।

বছরজুড়ে চলা করোনাভাইরাস মহামারির শুরুর দিকেই অনেক দেশে পর্যাপ্ত সুরক্ষা সামগ্রী না পাওয়া এবং বড় পরিসরে কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং করতে না পারার মত ব্যর্থতাগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। তবে তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদনের খসড়ায় এটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, নতুন কোনো রোগের প্রাদুর্ভাবে সাড়া দেওয়ার কর্মপদ্ধতি নিয়ে বিশ্বকে নতুন করে ভাবতে হবে।

মহামারি মোকাবেলার প্রস্তুতি ও সাড়াদান বিষয়ে “সামগ্রিকভাবে আমরা ব্যর্থ হয়েছি, মানুষের জন্য একটি সুরক্ষা বলয় তৈরি করার জন্য আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে চেষ্টাও করতে পারিনি,” ভুল ধারণা, ত্রুটিপূর্ণ পরিকল্পনা সংস্কারের লক্ষ্য নিয়ে গঠিত এই স্বাধীন প্যানেল তাদের প্রতিবেদনে এমনটাই বলেছে।

মহামারিতে সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক দেশের সরকারে সমন্বয়ের অভাব এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, সতর্কতা জারির ক্ষেত্রে শ্লথ গতি ও অস্পষ্টতা, প্রস্তুতির বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে তৈরি করা পরিকল্পনা সময়মত বাস্তবায়ন করতে না পারা- এরকম এক একটি ব্যর্থতা কী করে আরেকটি ব্যর্থতা ডেকে এনেছে, সেই বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে এই খসড়ায়।

প্যানেল বলছে, জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেনি। ২০১৯ সালের শেষে চীন থেকে করোনাভাইরাস ছড়াতে শুরু করার পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করার জন্য কেন ২০২০ এর ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিল, তা বোধগম্য নয়।

ডব্লিউএইচও প্যানেলের প্রতিবেদন বলছে, এই সঙ্কট উত্তরে নেতৃত্ব দেওয়ার, মানুষকে সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব যাদের ওপর ছিল, বার বার তারাও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।

বহু বছর ধরেই সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছিল যে কোনো একটি ভাইরাস মহামারির আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সেরকম জরুরি পরিস্থিতির জন্য ডব্লিউএইচওকে প্রস্তুত করতে নানা রকম কমিটি, টাস্কফোর্স আর উচ্চ পর্যায়ের প্যানেল কাজ করলেও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। ফলে যখন কোভিড-১৯ এল, তখন পুরো বিশ্ব সেই বিপদের সামনে উন্মুক্ত অবস্থায় ছিল বলে মনে করছে প্যানেল।

আবার স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা যখন স্পষ্ট হুঁশিয়ারি উচ্চরণ করলেন, বহু দেশ তা সময়মত আমলে না নেওয়ায় পরিস্থিতি যে আরও জটিল হয়েছে, সে কথাও বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।

প্যানেল বলেছে, এই খসড়া প্রতিবেদন তারা তৈরি করেছে শত শত নথিপত্র পর্যালোচনা করে, বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে। সামনের সারিতে থাকা শতাধিক ব্যক্তির সাক্ষাৎকারও সেজন্য নেওয়া হয়েছে।