বরগুনায় আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী প্রার্থীকে আজীবন বহিস্কার

বুধবার, জানুয়ারি ১৩, ২০২১

বরগুনা : আওয়ামী লীগের দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় বরগুনা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) রাতে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো: জাহাঙ্গীর কবীরের স্বাক্ষরিত প্রেস নোট প্রকাশ করা হয়। এর পরই বরগুনা শহরে মাইকিং করে সর্ব সাধারণের জানানো হয়।

প্রেস নোটে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র মোতাবেক ও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবং দলীয় মনোনয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্ত অমান্য করে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থী কামরুল আহসান মহারাজের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেনন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন।

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শাহাদাত হোসেনকে সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হল। এই সিদ্ধান্তের পরে শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের বরগুনা জেলা শাখাসহ কোন শাখার সম্পৃক্ততা থাকবে না। তার কোন কর্মকান্ডের জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দায়ী থাকবে না।

উল্লেখ্য, শাহাদাত হোসেন ২০১১ সালে আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে প্রথমবারের মত বরগুনা পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়। পরে ২০১৫ সালে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কামরুল আহসান মহারাজের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনেও তিনি আবার দলীয় মমনোনয়ন না পেয়ে নৌকা মার্কার প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। তাই দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শাহাদাত হোসেনকে আজীবনের জন্য আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

বহিষ্কারের বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা আবদুল মোতালিব মৃধা বলেন, আমরা শাহাদাত হোসেনকে নৌকার প্রার্থীর বিরোধিতা না করার জন্য বহু বার বলেছি। কিন্তু তিনি আমাদের কোন কথা শোনেননি৷ তিনি দলীয় গঠনতন্ত্র অমান্য করেছেন৷ তার সাথে আওয়ামী লীগের আর কোন সম্পর্ক নেই।

এবিষয়ে পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী শাহাদাত হোসেন বলেন, সাংগঠনিক নিয়ম অনুসারে দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছি। বঙ্গবন্ধু আর জননেত্রী শেখ হাসিনাকেও তো আর আমার মন থেকে বহিষ্কার করা যাবেনা। জনগণের ভালোবাসার কাছে পরাজিত হয়েই নির্বাচন করতে বাধ্য হচ্ছি।