কমিটি গঠন নিয়ে আ’লীগের ২ গ্রুপের সংঘর্ষ: অগ্নিসংযোগ, আহত শতাধিক

রবিবার, জানুয়ারি ৩, ২০২১

পিরোজপুর : পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার শাঁখারীকাঠি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন নিয়ে অগ্নিসংযোগ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে উভয়পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

রোববার বিকালে ওই ইউনিয়নের চালিতাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় দুই দফা সংঘর্ষে হামলাকারীরা ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন উপলক্ষে স্থাপন করা স্টেজে অগ্নিসংযোগসহ প্রায় তিন শতাধিক চেয়ার ভাংচুর করা হয়। এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারেফ হোসেন খানকে লাঞ্ছিত করা হয়।

জানা গেছে, জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থান্দার খাইরুল ইসলাম ও জেলা নেতাদের সামনেই দ্বিতীয় দফা হামলার ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই দিন বিকালে ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পদপ্রত্যাশী দুই গ্রুপের মধ্যে দুই দফা এ হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। প্রথমে বিকাল সাড়ে ৩টা ও পরে বিকাল পৌনে ৫টার দিকে এ হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ওই ইউনিয়নের ১নং বাঘাজোড়া ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মো. মোশারেফ শরীফ জানান, আমরা কিছু লোক ওই দিন বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে সম্মেলন স্থলে এসে দেখি কিছু সন্ত্রাসী সম্মেলনের স্টেজে অগ্নিসংযোগ চেয়ার-টেবিল ভাংচুর করছে। আমরা এতে বাধা দিলে হামলাকারীরা আমাদের ওপরও হামলা করে।

ওই সম্মেলনের অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নুরুল ইসলাম জানান, সম্মেলন পরিচালনার জন্য মাইকে কথা বলার সময় কিছু অপরিচিত লোক স্টেজের দিকে এসে অগ্নিসংযোগ, বোমা নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ করে। এ সময় তারা বঙ্গবন্ধুর ছবি, ব্যানার ও প্রায় ২ শতাধিক চেয়ার ভাংচুর করে।

ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদপ্রত্যাশী মো. আল-আমীন খান বলেন, বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মো. আক্তারুজ্জামান গাউসের নেতৃত্বে সভামঞ্চে হামলা, অগ্নিসংযোগসহ বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। পরে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পিরোজপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মুজিবুর রহমান খালেক ঘটনাস্থলে এসে সম্মেলন উদ্বোধন করেন। এ সময় আমরা সেখানে এগিয়ে গেলে তার সঙ্গে থাকা ক্যাডার বাহিনী আমাকেসহ আমাদের লোকজনের ওপর হামলা করে। এতে আমাদের প্রায় ৭০-৮০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

এ হামলার সঙ্গে নিজেকে জড়িত থাকার সব অভিযোগ অস্বীকার করে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. আক্তারুজ্জামান গাউস বলেন, ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী মো. আল-আমীন খানের নেতৃত্বে ওই দিন বিকালে প্রথম হামলা হয়। এতে আমার কমপক্ষে ৫০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। পরের হামলা কারা কীভাবে ঘটিয়েছে তা আমার জানা নাই।

এ ব্যাপারে নাজিরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জাকারিয়া হোসেন জানান, কোনো গুলি বা বোমা হামলার ঘটনা ঘটেনি। উভয়পক্ষের কর্মীদের হামলায় কিছু চেয়ার ভাংচুর হয়েছে।

এদিকে ওই দিন সকালে উপজেলার শ্রীরামকাঠি ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে পকেট কমিটি গঠনের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সুনীল কুমার হালদার।