প্রবাসীর স্ত্রীর আপত্তিকর ভিডিও ফাঁসের ভয় দেখিয়ে পাঁচ লাখ টাকা আদায়

শুক্রবার, ডিসেম্বর ৪, ২০২০

টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রবাসীর স্ত্রীর আপত্তিকর ভিডিও-ছবি দিয়ে জিম্মি করে টাকা আদায় করতেন এক যুবক। তিনি ওই গৃহবধূকে হত্যার হুমকিও দেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না তার।

অভিযুক্ত বখাটে যুবক মঞ্জুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে স্থানীয় পুলিশ। বুধবার (২ ডিসেম্বর) রাত ১০টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঞ্জুর রহমান উপজেলার ভাওড়া ইউনিয়নের হাড়িয়া গ্রামের ইন্নছ আলীর ছেলে। বৃহস্পতিবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

স্বামী বিদেশ থাকার সুবাদে হাড়িয়া গ্রামের ইন্নছ আলীর ছেলে মঞ্জুর রহমানের কুনজর পড়ে ওই গৃহবধূর ওপর। মঞ্জুর তাকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। তিনি বখাটের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় হুমকি এবং ভয়ভীতি দেখাতেন।

একপর্যায় ওই যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে যান ওই গৃহবধূ। প্রেমের ফাঁদে ফেলে তার বাড়িতে গিয়ে কৌশলে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করেন এবং আপত্তিকর ছবি তুলেন। পরে গৃহবধূ তার ভুল বুঝতে পেরে মঞ্জুরকে তার পথ থেকে সরে দাঁড়াতে বললে তিনি অস্বীকৃতি জানান।

কিন্তু মঞ্জুর গৃহবধূর কাছে টাকা দাবি করেন। গৃহবধূ কয়েক দফায় মঞ্জুরকে পাঁচ লাখ টাকা দেন। এতেও মঞ্জুর ক্ষান্ত হননি। তিনি পুরো ছয় লাখ টাকা দাবি করেন ওই গৃহবধূর কাছে। তা নাহলে সব ভিডিও ও ছবি ভাইরাল করে দেয়ার হুমকিও দেন। ওই টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে প্রবাসে থাকা গৃহবধূর স্বামীকে ভিডিও ও ছবির কথা বলে দেন মঞ্জুর। এই ভিডিও ও ছবি তিনি গৃহবধূর কয়েকজন আত্মীয়ের ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারেও পাঠান। এই ঘটনার পর স্বামীর বাড়ি থেকে শিশু সন্তান নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যেতে বাধ্য হন ওই গৃহবধূ।

এদিকে, প্রবাসীর স্ত্রী এলাকায় ন্যায় বিচার না পেয়ে গত ২১ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মির্জাপুর আমলি আদালতে মঞ্জুর রহমানকে আসামি করে মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর মঞ্জুর রহমান ও তার সহযোগীরা প্রবাসীর স্ত্রী, তার পরিবারকে হত্যাসহ নানাভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখান। পরিবারের এবং নিজের নিরাপত্তা চেয়ে গত ১২ অক্টোবর অসহায় গৃহবধূ মির্জাপুর থানায় আবার জিডি করেন।

জিডির পর প্রসিকিউশন করে আদালতে পাঠানো হয়। তার ভিত্তিতে আদালত মঞ্জুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে বুধবার রাত ১০টার দিকে মির্জাপুর থানা পুলিশ মঞ্জুরকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে।

মির্জাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, প্রবাসীর স্ত্রীর আপত্তিকর অবস্থার ছবি ভাইরাল হয়েছে। গৃহবধূ পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা ও থানায় জিডি করেছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতারি পরোয়ানামূলে মঞ্জুর রহমানকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।