আশুলিয়ায় করোনার প্রভাবে বন্ধ হলো ৫ পোশাক কারখানা

বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ৩, ২০২০

জাহিন সিংহ, সাভার থেকে : মহামারি করোনার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের বৈদেশিক রপ্তানী নির্ভর তৈরি পোশাক খাতে। ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় ব্যাপক লোকসানের মুখে শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় ৫টি পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে মালিকপক্ষ।

এরমধ্যে ৩টি কারখানা স্থায়ী বন্ধ এবং অপর দু’টি লে-অফ ঘোষণা করা হয়। বন্ধ হয়ে যাওয়া এসব কারখানায় কাজ করত প্রায় ২ হাজার ১৫০ জন শ্রমিক।

বৃহস্পতিবার সকালে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ বস্ত্র ও পোশাক শিল্প শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সরোয়ার হোসেন।

জানা গেছে, আশুলিয়ার ধনাইদ এলাকার সিগমা ফ্যাশনস লিমিটেড কারখানা স্থায়ী বন্ধ ও জামগড়া এলাকার মদিনা অ্যাপারেলস কারখানা ৪৫ দিনের লে-অফ ঘোষণা করা হয়।

এছাড়াও আশুলিয়ার ন্যাচারাল সোয়েটার ও পূর্বা সোয়েটার স্থায়ী বন্ধ ঘোষণার খবর পাওয়া গেছে। ন্যাচারাল সোয়েটারে ১ হাজার ১০০ শ্রমিক ও পূর্বা সোয়েটারে ২৫০ জন শ্রমিক কাজ করত। অন্যদিকে নিউ আইডিএস সোয়েটার কারখানার একটি সেকশন লে-অফ ঘোষণা করা হয়েছে। যেখানে কাজ করে ১০০ জন শ্রমিক।

সিগমা ফ্যাশনের দেওয়া নোটিশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে করোনা পরিস্থিতির কারণে কারখানা কর্তৃপক্ষ শতচেষ্টা করেও পর্যাপ্ত অর্ডার সংগ্রহ করতে পারেনি। ক্রমাগত ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ার ফলে বর্তমানে কাজ শূন্যের কোঠায় নেমেছে।

এ কারণে কারখানা চরম আর্থিক লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছে, দিন দিন ঋণের বোঝা বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ৩০ নভেম্বর থেকে কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে শ্রমিকদের ত্রিপক্ষীয় কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক আইনানুগ যাবতীয় সুবিধা আগামী ৭ ডিসেম্বর পরিশোধ করা হবে।

অপরদিকে মদিনা অ্যাপারেলস কারখানার নোটিশে বলা হয়, করোনা পরিস্থিতি ও আকস্মিক বিপত্তির কারণে কারখানার বিভিন্ন সেকশনে কাজ না থাকায় উৎপাদন বন্ধ থাকায় কারখানা আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ায় বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ১২ ধারা মোতাবেক ১ ডিসেম্বর থেকে ৪৫ দিনের লে-অফ ঘোষণা করা হলো।

এই আইন অনুযায়ী কারখানায় কাজ না থাকলে অথবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হলে কর্তৃপক্ষ লে-অফ ঘোষণা করতে পারে। এ সময়কাল মাসিক হারে ১ বছর ধরে চাকরি করা শ্রমিকরা তাদের মূল বেতনের অর্ধেক পাবেন।

মদিনা অ্যাপারেলসের ম্যানেজার (অ্যাডমিন) এসকে খোকন জানান, করোনার কারণে কারখানায় কাজ না থাকায় লে-অফ ঘোষণা করা হয়েছে। কিছু ক্রয়াদেশ স্থগিত আছে, এসব স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হলে আবার চালু হবে কারখানা।

এবিষয়ে বাংলাদেশ বস্ত্র ও পোশাক শিল্প শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সরোয়ার হোসেন বলেন, করোনার কারণে কারখানাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এ কথা সত্য, তবে কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া অশনি সংকেত। শ্রমিকদের মুখের দিকে তাকিয়ে ক্রয়াদেশ বাড়ানো জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টির দাবি জানান তিনি।