পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরে দুর্নীতি

নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্যে রাজা হেমায়েত, ভুয়া বিল উত্তোলনে পটু আশরাফুন্নেছা

বুধবার, ডিসেম্বর ২, ২০২০

ঢাকা : রাহুর গ্রাসে পড়েছে পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতর। কয়েকজন কর্মকর্তার অব্যাহত অনিয়ম-দুর্নীতি প্রতিষ্ঠানটিকে নানা প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ ইতোমধ্যেই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষ করে উচ্চপদে প্রমোশন না নিয়ে জোরপূর্বক নিম্নপদে থেকে গিয়ে বছরের পর বছর নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া পরিচালক মো. হেমায়েত হুসেন ও কাজ না করে কোটি টাকার বিল তুলে নেওয়া আইইএম-এর লাইন ডাইরেক্টর আশরাফুন্নেছার দুর্নীতি নিয়েই সম্প্রতি আলোচনায় উঠে এসেছে পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতর।

অনুসন্ধানে এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে বলে জানিয়েছে দুদকের একাধিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। দুদকের সিনিয়র সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত জানান, দুদকের হটলাইনে আসা একটি অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের বেশকিছু অনিয়মের সত্যতা মেলে। সেসব অভিযোগের তদন্ত চলছে। শুধু হেমায়েত হুসেন বা আশরাফুন্নেছাই নন, দুদকের নজরদারিতে রয়েছেন আরো বেশকিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী।

ভোরের পাতা অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন দফতর, অধিদফতর ও সংস্থার পদগুলোকে খুবই ‘লোভনীয়’ পদ হিসেবে মনে করা হয়। তাই এসব প্রতিষ্ঠানে যে কোনো পদে নিয়োগ পেতে চলে তদবির-লবিং-নিয়োগ বাণিজ্য। যে কোনো পন্থায় এখানে একবার পদায়িত হলে কেউ আর বদলি হাতে চায় না। যত উচ্চপদেই প্রমোশন বা যত ভালো জায়গাতেই বদলি হোক না কেন, অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিম্নস্তরের পদ আঁকড়ে অধিদফতরেই বসে থাকেন বছরের পর বছর। এমনকি নিজেদের প্রমোশন বা বদলি ঠেকাতে লাখ লাখ টাকার ঘুষের কারবার বা উপর মহলে তদবিরেও সিদ্ধহস্ত হয়ে পড়েছেন তারা। কারণ-এখানে বসেই দুহাতে কামাই হয় লাখ লাখ উপরি টাকা। এসব উপরি আয়ের ঘটনা এখানে ওপেন-সিক্রেট। স্বাস্থ্য অধিদফতরের স্বাস্থ্য ভেঙে দিয়ে অসাধু কর্তারা ওপেট-সিক্রেট উপরি আয় দিয়েই স্বাস্থ্যবান হয়ে উঠছেন। হয়ে উঠছেন আঙুল ফুলে কলাগাছ। অবৈধ পথে উপার্জনের অধিকাংশ অর্থই পাচার করছেন বিদেশে।

নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য করে শত কোটির টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ ওঠা অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন) অতিরিক্ত সচিব মো. হেমায়েত হুসেন সম্পর্কে জানা গেছে, তিনি নিয়মবহির্ভূতভাবে স্বপদে বহাল রয়েছেন বছরের পর বছর।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অধিদফরের একাধিক কর্মকর্তারা ভোরের পাতাকে জানিয়েছেন, পরিচালক পদটি উপসচিব সমমর্যাদার। সেখানে তিনি অতিরিক্ত সচিব হয়েও দুই ধাপ নিচের পদে কাজ করে যাচ্ছেন। দেড় মাস আগে তার বদলির আদেশ আসলেও তিনি পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের পদ ছাড়েননি। গত ৬ আগস্ট মো. হেমায়েত হুসেনকে স্থানীয় সরকার বিভাগের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যালয়ের রেজিস্টার জেনারেল পদে বদলি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে একটি আদেশ জারি করা হয়। কিন্তু সেই পদে তিনি যোগ না দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় তদবির চালিয়ে পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরেই রয়ে গেছেন। অতিরিক্ত সচিব হয়েও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে সংযুক্ত হিসেবে পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের দায়িত্ব পালন করছেন।

সূত্রটি আরো জানায়, বদলি হওয়া পদে হেমায়েত হুসেন যোগদান না করায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ শাহজাহানকে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের রেজিস্টার জেনারেল পদে নিয়োগ দিয়ে আরেকটি আদেশ জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. হেমায়েত হুসেন ভোরের পাতাকে মুঠোফোনে বলেন, ‘আমি কোন অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে পারবো না। তাছাড়া গণমাধ্যমের সঙ্গে এসব বিষয়ে কথা বলতে চাইও না। যদি কথা বলতে হয় তাহলে মহাপরিচালকের অনুমতি নিতে হবে।’ এই বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালক সাহান আরা বানু, এনডিসি’র সঙ্গে মুঠোফোন যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

কর্মশালার নামে অর্থ লুট: এদিকে পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের আইইএম ইউনিটের লাইন ডাইরেক্টর আশরাফুন্নেছার বিরুদ্ধে পাওয়া গেছে কাজ না করেই ভুয়া বিল-ভাউচার বানিয়ে কোটি টাকা হাতি নেওয়ার এন্তার অভিযোগ। কর্মশালা না করে, বিভিন্ন কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে কোটি টাকার বিল উত্তোলন করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মীরা। তার ভুয়া বিলে টাকা উত্তোলন, আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বিভাগের মন্ত্রী তার অনিয়মের ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানায় সূত্রটি।

সূত্র জানায়, দেশের বিভিন্ন জেলায় স্কুল-মাদরাসা শিক্ষকদের বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ কিশোর-কিশোরীর প্রজলন স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে অবহতিকরণ কর্মশালা করার কথা পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের আইইএম ইউনিটের। এ কর্মসূচির আওতায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশের উপজেলা পর্যায়ে ৪৮৬টি কর্মশালা পরিচালনার কথা ছিল। এজন্য বরাদ্দও ছিলো ৭ কোটি টাকা। কিন্তু কোনো কর্মশালা না কওে প্রকল্পের পুরো অর্থই তুলে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। যেসব বিল ভাউচার জমা দিয়ে প্রকল্পের টাকা উত্তোলন করা হয়েছে সেসব ভাউচারে উল্লেখিত প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশেরই কোন অস্তিত্ব নেই। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে, পরিবার পরিক্ল্পনা অধিদফতরে আইইএম ইউনিটে সম্প্রতি অভিযান পরিচালনা করে দুদক। দুদক কর্মকর্তারা দেখতে পান, গত অর্থবছরে উপজেলা পর্যায়ে ৪৮৬টি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে তথ্য দেখানো হয়েছে কিন্তু এসব কর্মশালার বিল-ভাউচারে নানা অসামঞ্জস্যতা রয়েছে।

দুদক কর্মকর্তাদের মাধ্যমেই জানা গেছে, আমদানি-রফতানিকারকের লাইসেন্সধারী ‘সুকর্ন ইন্টারন্যাশনাল কোং’ এবং মেসার্স রুহী এন্টারপ্রাইজ’ নামে দুটি প্রতিষ্ঠানকে বিজ্ঞাপন প্রচারের কাজ দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ আছে অধিদফতরের রিপোর্টি। কিন্তু দরপত্রের শর্ত লঙ্ঘন করে এ দুটি প্রতিষ্ঠানকে ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকার বিল দেওয়া হয়েছে বলে দুদকের তদন্তদলের কাছে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এসব বিষয়ে বিস্তারিত ও অধিকতর অনুসন্ধানের অনুমতি চাওয়া হবে বলে জানিয়েছে দুদক সূত্র।

আইইএম ইউনিট সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় ৪৮৬টি কর্মশালার নামে কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল এবং ভুয়া বিল এবং ভাউচারের মাধ্যমে সবটাকা উত্তোলন করা হয়েছে। কর্মশালার ব্যয়বাবদ তিনি (আশরাফুন্নেসা) যেসব বিল ভাউচার করেছেন তার বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের কোন অস্তিত্ব নেই। কর্মশালার ব্যবহারের জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো ধরনের টেন্ডার বা কোটেশন ছাড়াই ব্যাগ, কলম, প্যাড ক্রয় করেছেন। তিনটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আইইএম পরিচালকের মৌখিক নির্দেশের ভিত্তিতে এসব পণ্য সরবরাহ করে। যেখানে ব্যাগের জন্য ৩৭০ টাকা এবং কলম ও প্যাড যথাক্রমে ১০ ও মূল্য নির্ধারণ করা হয়। সেখানে বিল ভাউচারে ব্যাগের দাম দেখানো হয়েছে ১ হাজার ৫০ টাকা, প্যাড ৭০ টাকা, কলম ৮০ টাকা। এছাড়া কর্শশালার রিসোর্স পার্সনদের সম্মানী ভাতা আয়করসহ ১ হাজার ৬৮০ টাকা, অংশগ্রহণকারীদের ভাতা বাবদ ৭শ’ টাকা দেখিয়ে স্বাক্ষর জাল করে উত্তোলন করা হয়েছে।

জানা গেছে, মৌলভীবাজারে অনুষ্ঠিত কর্শশালার জন্য ‘মেসার্স আচল পেপার’ ‘স্টেশনারী এন্ড লাইব্রেরি’ থেকে ব্যাগ, প্যাড, কলম কেনার তথ্য রয়েছে। যার ঠিকানা স্টেশন রোড, মৌলভীবাজার। ক্যাশ মেমোতে ক্রেতার নাম-ঠিকানা লেখা হয়েছে ‘পরিচালক আইইএম এবং প.প. অধি, ঢাকা’। এছাড়া ‘সাম্পান রেস্টুরেন্ট এন্ড ক্যাটেরিং’ নামে একটি ক্যাশ মেমোতে ক্রেতার একই ঠিকানা ব্যবহার করে আপ্যায়ন উদ্বোধনী ও আপ্যায়ন সমাপনী নামে বিল করা হয়েছে। কিন্তু কোন পণ্যের নাম সেইখানে নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মৌলভীবাজার স্টেশন রোড নামে কোন সড়ক নেই। এমনকি ‘মেসার্স আচল পেপার, স্টেশনারী এন্ড লাইব্রেরি’ ‘সাম্পান রেস্টুরেন্ট এন্ড ক্যাটারিং’ নামেও কোন প্রতিষ্ঠান নেই। একই ঘটনা ঘটেছে দেশের প্রায় বেশিরভাগ উপজেলায়। মাত্র তিন দিনে ময়মনসিংহ বিভাগের চারটি জেলার ৩৩টি উপজেলায় কর্মশালা সম্পন্ন করা হয়েছে বলে তথ্য রয়েছে যা বাস্তবে অসম্ভব। উপজেলা পর্যায়ে কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের সম্মানী প্রদানের তালিকার নাম ও স্বাক্ষর ঢাকা অফিসে বসেই ইচ্ছেমত বসিয়ে এসব টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেই জানিয়েছে বিশ্বস্ত সূত্র।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট শাখার একাধিক কর্মকর্তা ভোরের পাতাকে জানান, কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের ব্যাগ কেনেন পরিচালক আশরাফুন্নেছা। তবে কোন ধরনের টেন্ডার বা কোটেশন ছাড়াই তিনজন সরবরাহকারীকে তিনি ব্যাগ প্রদানের জন্য মৌখিক নির্দেশ দেন। তার প্রেক্ষিতে ইউমেক্স ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, জারিন এন্টারপ্রাইজ এবং এমআর এন্টারপ্রাইজ যথাক্রমে ৮ হাজার, ৩ হাজার ৪শ’ এবং ২ হাজার ব্যাগ সরবরাবহ করে। কিন্তু ৩৭০ টাকা থেকে ৪শ’ টাকার ব্যাগ সরবরাহ করলেও তিনি সরবরাহকারীদের অর্ধেক টাকা পরিশোধ করলেও বাকি টাকা দিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন।

সূত্র জানায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে কোন কাজ না করেই ৪৮টি কোটেশনের মাধ্যমে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন আশরাফুন্নেছা। যার কোন নথিপত্র নেই। ভুয়া কার্যাদেশ তৈরি করে বিলের সঙ্গে সংযুক্ত করে এসব বিল এজি অফিস থেকে পাশ করানো হয়েছে। যদিও সরকারি নিয়মানুযায়ী একজন পরিচালকের বছরে ৬টির বেশি কোটেশন করার কোন নিয়ম নেই।

সম্প্রতি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে আশরাফুন্নেছাকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন দীর্ঘ ৪ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘অধিদফতরের একটি প্রকল্প অনিয়ম নিয়ে একটি অভিযোগ উঠেছে। সেই বিষয়ে দুদকের কিছু জিজ্ঞাসা ছিল, তাদের কাছে আমি আমার বক্তব্য দিয়েছি।’

এই বিষয়ে দুদকের সিনিয়র সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত বছর আমাদের হটলাইন ১০৬-এ একটি অভিযোগ আসে, সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে কিছু অনিয়মের সত্যতা মেলে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে তথ্য মিলেছে বলেই এ জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’

তবে এই অভিযোগের আগে ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের উপপরিচালক জাকিয়া আখতার, উপ পরিচালক (স্থানীয় সংগ্রহ) আবু তাহের মো. সানাউল্লাহ নূরী, সহকারী পরিচালক এ কে এম রোকনুজ্জামান ও গবেষণা কর্মকর্তা পীযূষ কান্তি দত্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। গত ৩ সেপ্টেম্বর তাদের তলব করে নোটিস পাঠিয়েছিল দুদক।

এই অভিযোগের বিষয়ে একাধিক দুদক কর্মকর্তা ভোরের পাতাকে জানান, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের আইইএম (তথ্য, শিক্ষা ও উদ্বুদ্ধকরণ) ইউনিট দেশে ৪৮৬টি ওয়ার্কশপ ও সেমিনার আয়োজন করার কথা বলে অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মানী ভাতা ও যাতায়াত বাবদ বিল- ভাউচারের মাধ্যমে স্বাক্ষর জাল করে অগ্রণী ব্যাংকের ওয়াসা ভবন শাখা থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। এর মধ্যে অধিদফতরের আইইএম ইউনিট খাতে বরাদ্দ ছিলো (২০১৯ সালে) এক কোটি ২৯ লাখ টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩৯টি কোটেশনের বিল দেওয়া হয়েছে। যার পরিমাণ ছিলো ১০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ওই বছরেই পরিচালক (আইইএম) ও লাইন ডাইরেক্টর (আইইসি) আশরাফুন্নেছা তার ভাগ্নের মালিকানাধীন কোম্পানি রূহী এন্টারপ্রাইজ কোন কাজ না করেই ৮৫ লাখ; এবং চাচাতো ভাই সুকর্ণ এন্টারপ্রাইজের নামে বরাদ্দ ১ কোটি ৮৫ বিল উত্তরা ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখা থেকে উত্তোলন করা হয়।