জুভেন্টাসের অফসাইড, বার্সার জয়

বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২০

স্পোর্টস ডেস্ক : ৩ গোলই করেন জুভেন্টাস স্ট্রাইকার আলভারো মোরাতা। তিনবার অফসাইডের মধ্যে দুবার লাইন্সম্যান ফ্ল্যাগ তুলেই জানিয়ে দেন অফসাইডের কথা। কিন্তু তৃতীয় গোলটা নিয়ে ছিল সংশয়। তাইতো সাহায্য নিতে হয়েছিল ভিআরএ-এর। আর ভিআরএ দেখা যায় ৩ নম্বর গোলটিও ছিলো অফসাইড।

ঘরের মাঠে রোনালদোকে ছাড়াই মাঠে নামতে হয়েছিল জুভেন্টাসকে। তবে দলের সেরা তারকাকে ছাড়া সুবিধা করে উঠতে পারেনি দলটি। বুধবার দিবাগত রাতে বার্সেলোনার বিপক্ষে ২-০ গোলের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ওল্ড লেডিরা।

বার্সার হয়ে গোল দুটি করেন ফ্রেঞ্চ তারকা ওসমান ডেম্বেলে ও লিওনেল মেসি। এই জয়ের মাধ্যমে দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ জির তুঙ্গে বার্সা। আর এক জয় ও পরাজয়ে তিন পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে ইতালিয়ান জায়ান্ট জুভেন্টাস।

ইনজুরি ও সাসপেনশনের কারণে ম্যাচের শুরুর একাদশে কিছু পরিবর্তন আনতে হয়েছে বার্সা বস রোনাল্ড কোম্যানকে। ইনজুরিতে দলে জায়গা হয়নি ব্রাজিলিয়ান তারকা ফিলিপ কোটিনহোর। গত ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় বাদ পড়েছেন ডিফেন্ডার জেরার্ড পিকে। তার জায়গায় নেমেছেন তরুণ ডিফেন্ডার রোনাল্ড আরাহো। এছাড়া রাইট ব্যাকে সার্জিনো ডেস্টের জায়গায় খেলেছেন অভিজ্ঞ সার্জিও রবার্তো। এদিকে করোনার কারণে জুভেন্টাস দলে পাননি সেরা খেলোয়াড় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তাও শক্তিশালী একাদশ নিয়েই মাঠে নেমেছে দুদল।

ম্যাচ শুরুর তিন মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত অতিথি বার্সেলোনা। ডিবক্সের বাইরে থেকে নেয়া পিয়ানিচের বল ঠেকিয়ে দেন জুভেন্টাসের গোলকিপার সেজনি। ফিরতি বলে গ্রিজম্যানের জোরালো শট বারে লেগে ফিরে আসে।

এবার রক্ষা পেলেও ১০ মিনিট পরই গোল করে বার্সেলোনা। ম্যাচের ১৩ মিনিটে মেসির লং পাসটি ডিবক্সের বাইরে পান ওসমান ডেম্বেলে। সেখান থেকে জোরালো শটে গোল করেন। যদিও বলটি জুভেন্টাস প্লেয়ার কিয়েসার পায়ের সঙ্গে লেগে কিছুটা ডিফ্লেকটেড হয়েছিল। এতে জুভেন্টাস গোলকিপার সেজনির তাকিয়ে থাকা ছাড়া কোনো উপায়ই ছিল না।

পরের মিনিটেই বার্সেলোনার জালে বল ঢোকান মোরাতা তবে সেটি অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। এরপর ২২ মিনিটে সহজ সুযোগ মিস করেন বার্সা সুপারস্টার মেসি। অসাধারণ বিল্ডআপে গড়া আক্রমণটি গ্রিজম্যানের নিখুঁত ব্যাকহিলে ডিবক্সে বল পান মেসি। সেটি গোলপোস্টের বাইরে মেরে দেন আর্জেনটাইন তারকা।

২৯ মিনিটে মোরাতা শট ফের খুঁজে পায় বার্সেলোনার জাল। এবারও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়ে যায়। ৩৩ মিনিটে আলবার একটি শটও গোলপোস্টের কিঞ্চিৎ বাইরে দিয়ে চলে যায়। দ্বিতীয়ার্ধের ১১ মিনিটে কোয়াদরাদোর পাসে বার্সার জালে আবারও বল ঢুকায় মোরাতা। ভিএআরে গোলটি বাতিল হয়। এবারও অফসাইডে ছিলেন জুভেন্টাস তারকা।

৬১ মিনিটে লিড ডাবল হতে পারত বার্সার। তবে মেসির নেয়া শটটি ইঞ্চি দূরত্বে গোলপোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। ৭৪ মিনিটে মেসির অসাধারণ পাস থেকেও গোল করতে পারেননি ফ্রেঞ্চ তারকা গ্রিজম্যান। ৮৫ মিনিটে পিয়ানিচকে ফাউল করায় দ্বিতীয় হলুদ তথা লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন জুভেন্টাস ডিফেন্ডার মেরিহ ডেমিরাল।

৯০ মিনিটে মেসির বাড়ানো বলটি ডিবক্সে পান বার্সার তরুণ তুর্কি আনসু ফাতি। বলটি নিয়ে সামনে আগাতে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন জুভেন্টাস মিডফিল্ডার বারনার্ডেস্কি। এতে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। পেনাল্টি থেকে গোল ব্যবধান বাড়িয়ে নেন মেসি। এই গোলের মাধ্যমেই জুভেন্টাসের শেষ আশার প্রদীপটাও নিভে যায়।

পুরো ম্যাচেই অসাধারণ খেলেছেন মেসিরা। তবে দিবালাসহ জুভেন্টাসের বেশকিছু খেলোয়াড় পুরো ম্যাচেই নিষ্প্রভ ছিলেন। পুরো ম্যাচে ৫৯.২ শতাংশ বল দখলে রেখেছে অতিথিরা। বিপরীতে জুভেন্টাসের দখলে ছিল ৪০.৮ শতাংশ। গোলের উদ্দেশে মেসিরা শট নিয়েছেন ১৩টি, জুভেন্টাস ১০টি। জুভেন্টাসের চারজন খেলোয়াড়কে হলুদ ও একজনকে লাল কার্ড দেখানো হয়েছে। বিপরীতে বার্সার একজনই রেফারির হলুদ কার্ডের তালিকায় নাম লেখিয়েছেন।