শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব সহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে ২ মামলা

রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক : উজিপুরের গুঠিয়া মহেশ চন্দ্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও এমএলএসএসকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করার অভিযোগে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ আওরঙ্গজেবসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

২৫ অক্টোবর রোববার উজিরপুর সহকারি জজ আদালতে বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মাহবুবুল ইসলাম ২৩ জনকে এবং এমএলএসএস সমীর কৃষ্ণ সরখেল ২৪ জনকে বিবাদী করে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন।

আদালতের বিচারক ফাতেমা তুজ জোহরা মুনা মামলা দুটির আদেশ দানে পরবর্তী দিন ধার্য্য করেন। পৃথক দুটি মামলার অন্যান্য বিবাদীরা হলেন প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক সদস্য আলমগীর হোসেন, রবীন্দ্র নাথ মন্ডল, সংরক্ষিত মহিলা শিক্ষক সদস্য বিথীকা বিশ্বাস, অভিভাবক সদস্য ইউসুফ আলী মোল্লা, ছুরাত মোল্লা, নাশির উদ্দিন খান, নিজাম সরদার, সংরক্ষিত মহিলা অভিভাবক সদস্য শিরিন সরোয়ার, বিদ্যেৎসাহী সদস্য আতাহার আলী হাওলাদার, সহকারি শিক্ষক মোস্তফা কামাল।

এছাড়া বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয় পরিদর্শক, জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, বরিশাল শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ পরিচালক, বরিশাল অঞ্চলের পরিচালক, শিক্ষা অধিদপ্তর ঢাকার মহা পরিচালক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, রুপালী ব্যাংক উজিরপুর ভবানীপুর শাখার ব্যবস্থাপক, সোনালী ব্যাংক গুঠিয়া শাখার ব্যবস্থাপক ও আগ্রণী ব্যাংক বানারীপাড়া শাখার ব্যবস্থাপক।

মামলা পরিচালনকারি আইনজীবী আজাদ রহমান জানান, ২০১৪ সালের ২৮ এপ্রিল উপজেলার কমলাপুরের বাসিন্দা মাহবুবুল ইসলাম বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

এছাড়া ২০১৫ সালের ২৭ মে দক্ষিণ মাদারকাঠির বাসিন্দা সমীর সরখেল একই বিদ্যালয়ে এমএলএসএস পদে যোগদান করেন। ২০১৯ সালের ৬ মে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটিকে ২ বছরের জন্য অনুমোদন দেয়। প্রথম সভায় ১ জন বিদ্যেৎসাহী সদস্য নেয়ার কথা থাকলেও ১ বছর ১ মাস পর আতাহার আলীকে বিদ্যেৎসাহী সদস্যভূক্ত করা হয়।

এছাড়া চলতি বছর ২১ সেপ্টেম্বর এক সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে সভাপতি আওরঙ্গজেব বিদ্যালয়ের অব্যবহারযোগ্য মালামাল বিক্রির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে প্রধান শিক্ষককে কারণ দশার্নোর নোটিশ দেন।

এতে ৩ অক্টোবর প্রধান শিক্ষক নোটিশের জবাব দেন। জবাবে তিনি উল্লেখ গত ১২ সেপ্টেম্বের ম্যানেজিং কমিটির মৌখিক সিদ্ধান্তে প্রধান শিক্ষক ১৪ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনের ব্যবহার অযোগ্য রড, বই, খাতা ৮ হাজার ৮ শত টাকায় বিক্রি করে ১৫ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ের হিসাব নং ২৮৮ তে জমা দেন। বাকী ব্যবহারযোগ্য মালামাল বিদ্যালয়ের নিরাপদ কক্ষে সংরক্ষণ করেন। পরে ওই কক্ষের চাবি ম্যানেজিং কমিটির সদস্য নিজাম সরদার তার কাছ থেকে নিয়ে নেয়।

এরপরেও কোন তদন্ত কমিটি গঠন না করে এবং তদন্ত সম্পন্ন না করে ১৫ অক্টোবর ম্যানেজিং কমিটির এক সিদ্ধান্তে অব্যবহারযোগ্য মালামাল বিক্রির টাকা আত্মসাতের মিথ্যা অভিযোগে প্রধানশিক্ষক মাহবুবুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। অপরদিকে একই সভায় এমএলএসএস সমীর সরখেলকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এ ঘটনায় প্রধানশিক্ষক ও এমএলএসএস পুনরায় স্বপদে বহালের আদেশ চেয়ে পৃথকভাবে মামলা দায়ের করলে বিচারক ওই আদেশ দেন।