বন্ধুত্ব ও প্রেমের পার্থক্য

শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২০

লাইফস্টাইল ডেস্ক : বন্ধুত্ব শব্দটির সঙ্গে পরিচয় ঘটে খুব ছোটবেলাতেই। দার্শনিক এমারসন বলেছেন, একজন বন্ধু হচ্ছেন প্রকৃতির সবচেয়ে বড় মাস্টাপিস।

আসলে সমস্ত জীবনের জন্য প্রকৃত কয়েকজন বন্ধুই যথেষ্ট। আর স্থান কাল পাত্র ভেদে বন্ধুত্ব গড়ে উঠে অনেকের সঙ্গেই। কিন্তু এই বন্ধুত্ব যদি হয় ছেলে মেয়ের মধ্যে—তবে আদৌ কি এই সম্পর্ক টিকে থাকে নাকি সীমানা পেরিয়ে মোড় নেয় অন্য সম্পর্কে?

সাধারণত আমরা আমাদের থেকে বিপরীত লিঙ্গের মানুষদের প্রতি বেশি আকর্ষণ অনুভব করি। কিছু ব্যক্তিক্রম বাদ দিলে এটাই স্বাভাবিক।

অনেক সময়ই ছাত্রছাত্রীরা প্রথমে একে বন্ধুত্ব মনে করতে চায়। আসলে বন্ধুত্ব এমন একটি সম্পর্ক যার ভিত্তি হলো চেতনা। চেতনার বাইরে যে বন্ধুত্ব সেটা প্রয়োজনের। আর এ সম্পর্ক প্রয়োজনের সম্পর্ক।

বিপরীত লিঙ্গের মধ্যে বন্ধুত্ব বিষয়ে আমেরিকার একটি ইউনিভার্সিটির গবেষণায় দেখা গেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ ধরণের বন্ধুত্ব কখনোই শেষ পর্যন্ত নির্মল সম্পর্কে গড়ায় না। সম্পর্কের কোনও এক পর্যায়ে এখানে এক পক্ষ অপর পক্ষের প্রতি আবেগপ্রবণ হতে শুরু করে এবং একসময় প্রেম নিবেদন করে।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, ‘ধারণা করা হয়, অনেক যুগ আগে নারীরা ঘরে থাকত আর পুরুষরা বাইরে কাজ করত। একমাত্র মিলনের সময়ই পুরুষরা ঘরে আসত’।

অর্থাৎ একটি তরুণ ও তরুণীর মধ্যে এই ঘনিষ্ঠতা কখনোই স্রেফ বন্ধুত্বে সীমিত থাকে না। তা হয় যৌনতা না হয় প্রেমে রূপান্তরিত হয়। আর এটাই বাস্তব সত্য।

দেখা যায়, সহপাঠী বা বিভিন্ন ক্লাসের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই প্রেমের সম্পর্ক গড়ার প্রবণতা খুব বেশি। পড়াশুনায় মনোযোগী হওয়ার পরিবর্তে প্রেমে জড়িয়ে পড়াকে তারা মনে করেন জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। আর এই প্রেমই একজন ছাত্রছাত্রীর সম্ভাবনাকে পুরোপুরি নষ্ট করে দিতে যথেষ্ট।

আসলে সহপাঠীদের মধ্যে সুসম্পর্ক রাখা বাঞ্ছনীয়। তারা যদি ছেলে-মেয়ে হয় এবং সীমার মধ্যে থেকে তারা যদি সুসম্পর্ক রাখতে পারেন, তাহলে কোনও অসুবিধা নেই।

কিন্তু সমস্যা হয় সেখানেই। আপনি হয়তো বন্ধু ভাবছেন কিন্তু সে ভাবছে বন্ধুর চেয়ে একটু বেশি। আপনি সুযোগ নিতে চাচ্ছেন না কিন্তু সে যে সুযোগের অসৎ ব্যবহার করবে না, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই।

তবে বিপরীত লিঙ্গের সহপাঠী বা সহকর্মীদের মধ্যে সুসম্পর্ক অবশ্যই থাকবে কিন্তু সেটা হতে হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে এবং সম্পর্কের মধ্যে নির্দিষ্ট সীমারেখা মেনে চলার মাধ্যমে। আর শিক্ষাজীবনে এবং কর্মস্থলে নিজের মেধাকে বিকশিত করতে চাইলে, জীবনে বড় কিছু করার ইচ্ছা থাকলে—এই সাময়িক ভালো লাগা ও মোহ থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে।