বয়ঃসন্ধির ৭ সন্ধি

বুধবার, অক্টোবর ২১, ২০২০

স্বাস্থ্য ডেস্ক : বয়ঃসন্ধিকাল একজন কিশোর-কিশোরীর জীবনে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে ছেলেমেয়েদের একটি বড় ধরনের আচরনগত পরিবর্তন ঘটে হরমোনজনিত এবং শারীরিক পরিবর্তনের কারণে। এছাড়া বড় পরিবর্তন আসে মানসিকভাবেও।

সন্তানরা তখন নিজেদের স্বাধীনতা চায়। বন্ধুদের সাথে সময় কাটানো এবং বাইরে থাকার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। এসময় যৌনতার চূড়ান্ত বিকাশ ঘটায় সম্পর্ক নিয়ে তাদের টানাপোড়েন দেখা দেয়। তাই এই সময়টায় তাদের সাথে যেকোনো আচরণে সতর্ক থাকতে হয়। অথচ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় তার উল্টো চিত্র।

মেগি ডেন্ট নামের একজন অস্ট্রেলিয়ান শিশুপালন বিশেষজ্ঞ বলেন, গবেষণায় দেখা যায় অভিভাবকরা ছেলে এবং মেয়ের ক্ষেত্রে ভিন্ন আচরন করেন। ছেলেদের অনেকটা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয় এবং শারিরীক শাস্তির ঘটনাও ঘটে। অনেক সময় অন্যদের সাথে তুলনা করা হয়। আর প্রতিটি আচরণেই তাদের সুস্থ মানসিক বিকাশে বাঁধা দেয়।

অন্যদিকে মেয়েদেরকে ঘরে বন্দি রাখা, ছেলেদের সাথে স্বাভাবিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কও হতে পারে সে বিষয় না বুঝানো এমনকি পিরিয়ডের মতো বিষয়কে লুকাতে বলা হয়।

কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই এমনটা হওয়া উচিত নয়। আবার অতিরিক্ত ছাড়ও তাদের ভবিষ্যত নষ্ট করতে পারে। উভয় বিবেচনায় বয়ঃসন্ধিকালে সন্তানদের সাথে কেমন আচরন করবেন অভিভাবকরা সে বিষয়ে ৭ পরামর্শ দিয়েছেন এই অস্ট্রেলিয়ান বিশেষজ্ঞ। বলেছেন, সন্তানের বয়ঃসন্ধিকালে এই ৭টি বিষয়ের সঙ্গে অভিভাবকদের সন্ধি করা উচিত।

তাদেরকে লজ্জা না দেওয়া

সন্তানের বয়ঃসন্ধিকালে একজন অভিভাবকের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো সন্তানদের আচরণের জন্য কখনও লজ্জা না দেওয়া। বরং তাদের ভুলগুলো ধরিয়ে দিয়ে সংশোধনের উপায় বলে দেয়া হবে সর্বোত্তম পন্থা। অন্যথায় পরবর্তী আচরণে তার আত্মাবিশ্বাস কমে যাবে।

তারা বোকা নয় বরং বেড়ে উঠছে সে অনুভূতি দেওয়া

সন্তান পৃথিবীকে কিভাবে দেখে তা জানাও অভিভাবকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তার জন্য সন্তানদের সাথে কথা বলতে হবে। তার দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে হবে। তারপর বয়ঃসন্ধিকাল কীভাবে তার হরমোনাল, শারীরিক, মানসিক পরিবর্তন করছে সে বিষয়ে তার সাথে খোলামেলা কথা বলতে হবে। যার ফলে তাদের আচরণে পরিবর্তন আসবে এবং জীবনকে ভিন্ন ভাবে দেখতে শিখবে।

তার আদরের নাম ধরে ডাকা
ছোটবেলায় সব অভিভাবকই তার সন্তানকে বিভিন্ন আদুরে নাম দিয়ে ডাকেন। কিন্তু যখনই বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছায় তখন আর সে নামগুলো ধরে ডাকেননা। তেমনটা হওয়া উচিত নয়। এসময়টাতেও তাদেরকে অভিভাবক কতটা ভালবাসে তা বুঝাতে হবে। তারা বড় হয়ে উঠছে বলে কঠোর না হয়ে তাদের সাথে আগের মতই কোমল ব্যবহার করা উচিত।

অযথা দোষারোপ না করা

বয়ঃসন্ধিকালে সন্তানরা অনেক সময় ভুল করে বসে। কিন্তু তখন তাদেরকে অযথা দোষারোপ বা চিৎকার করা মরুভূমিতে জল ফেলে তা ভেজানোর চেষ্টার সমান। কারণ কোনোটাই কাজে আসেনা। তারচেয়ে বরং কার্যকর যোগাযোগের জন্য তাদের সাথে একটা আত্মিক সংযোগ স্থাপন, স্বরের ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ এবং সরাসরি দৃষ্টিতে কথা বলা উচিত।

বন্ধুদের জন্য ঘরকে নিরাপদ আশ্রয় বানানো

এসময় কিশোর-কিশোরীরা বন্ধুদের সাথে সময় কাটাতে বেশি পছন্দ করে। স্কুল সময়ের বাইরেও একসঙ্গে সময় কাটাতে চায়। কিন্তু বিষয়টিতে যদি বাধা দেওয়া হয় তা হিতে বিপরীত হতে পারে। তারচেয়ে বরং তাদের একসাথে ঘরে সময় কাটানোর ব্যবস্থা করে দেয়া যেতে পারে এবং সে ক্ষেত্রে তাদের যাতে প্রাইভেসি নষ্ট না হয় তাই রুমে ঢোকার আগে দরজায় নক করে অনুমতি নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে হবে।

ভালো মানুষদের উদাহরণ সামনে আনা উচিত
বয়ঃসন্ধিকালে সন্তানদের অন্যতম করণীয় হতে পারে তাদরে সামনে ভালো ভালো মানুষদের জীবনকাহিনী তুলে ধরা। সাফল্যের গল্প বলে অনুপ্রাণিত করা যাতে সন্তানও তাদের মতো হতে চায়।
তারা যেমন তেমনটাই ভালোবাসা, নিজেরা যেমন চাই তেমন নয়

প্রতিটি সন্তানই আলাদা। তাদের মানসিকতা, পছন্দ, রুচিবোধ সবকিছুই থাকে স্বতন্ত্র। কিন্তু অনেক সময় অভিভাবকরা সন্তানদের নিজেদের মতো করে গড়ে তুলতে চান। সবকিছু চাপিয়ে দিতে চান তাদের ওপর। কিন্তু তেমনটা কখনই ঠিক নয়। বরং সন্তানরা যেমন, তেমনভাবেই তাদেরকে ভালোবাসা উচিত। তাদের মতামত, রুচিকে শ্রদ্ধা করা উচিত।