কাশ্মীরে পত্রিকা অফিসে তালা

বুধবার, অক্টোবর ২১, ২০২০

জম্মু-কাশ্মীরের সর্বাধিক প্রচারিত ইংরেজি দৈনিক কাশ্মীর টাইমস পত্রিকার শ্রীনগর দপ্তর সিল করে দিয়েছে প্রশাসন। কোনো নোটিশ বা আগাম বার্তা না দিয়ে কাশ্মীর এস্টেট ডিপার্টমেন্ট সোমবার বিকেলে তালা লাগিয়ে দেয় ওই দপ্তরে।

ঠিক চার দিন আগে ১৫ অক্টোবর একইভাবে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয় সংবাদ সংস্থা কাশ্মীর নিউজ সার্ভিস-এর দপ্তরে।শ্রীনগরে প্রেস এনক্লেভে এমনই একটি সরকারি ভবনে আরো অনেক সংবাদপত্রের সঙ্গে কাশ্মীর টাইমসের দফতর। সোমবার বিকেলে সেখানে এস্টেট ডিপার্টমেন্টের অফিসাররা কাশ্মীর টাইমস দপ্তরে গিয়ে কর্মরত সাংবাদিক ও অন্যান্য কর্মীদের বের করে দিয়ে তালা লাগিয়ে দেয়।

জম্মু-কাশ্মীরে সরকার-স্বীকৃত পত্রিকা বা সংবাদ প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য কাশ্মীর এস্টেট ডিপার্টমেন্টের মালিকানাধীন ভবনে অফিস স্পেস বরাদ্দ করা হয়। বহু বছর ধরে এই নিয়ম বলবৎ আছে।

শ্রীনগরে প্রেস এনক্লেভে এমনই একটি সরকারি ভবনে আরো অনেক সংবাদপত্রের সঙ্গে কাশ্মীর টাইমসের দফতর। সোমবার বিকেলে সেখানে এস্টেট ডিপার্টমেন্টের অফিসাররা কাশ্মীর টাইমস দপ্তরে গিয়ে কর্মরত সাংবাদিক ও অন্যান্য কর্মীদের বের করে দিয়ে তালা লাগিয়ে দেয়।

পত্রিকার কর্মকর্তারা অফিস সিল সংক্রান্ত সরকারি আদেশ দেখতে চাইলে তাঁদের বলা হয়, কোনো লিখিত আদেশ নেই। প্রয়োজনে কাশ্মীর টাইমস কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করতে পারেন এস্টেট ডিপার্টমেন্টের শীর্ষ স্তরে।

ঠিক একই কায়দায় গত ১৫ অক্টোবর শ্রীনগরের মগরমলবাগে কাশ্মীর নিউজ সার্ভিসের দপ্তরে তালা লাগিয়ে দেয় এস্টেট ডিপার্টমেন্ট। এক্ষেত্রেও কোনো লিখিত নির্দেশ ছিল না দপ্তরে তালা লাগাতে আসা সরকারি অফিসারদের কাছে।

এভাবেই কাশ্মীর উপত্যকায় বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে সংবাদমাধ্যমের দপ্তর। যদিও রাষ্ট্রপতি শাসনাধীনে থাকা জম্মু-কাশ্মীরের প্রশাসনিক প্রধান লেফট্যানেন্ট গভর্নর মনোজ সিনহা উপত্যকার সাংবাদিকদের সঙ্গে তাঁর প্রথম বাৰ্তালাপে বলেছিলেন, ‘আমি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রবল সমর্থক।’

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা দুটি সংবাদমাধ্যমের অফিস সরকার বন্ধ করে দেবার পর মন্তব্য করেছেন, ‘এখন বুঝতে পারছি কেন সম্মানিত পত্রিকাগুলি সরকারি মুখপত্রের মতো শুধুমাত্র সরকারি প্রেস রিলিজ প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্বাধীন, স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার মূল্য শোধ করতে হবে বিনা নোটিশে উচ্ছেদ হয়ে।’

আর এক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি কাশ্মীর টাইমস-এর সম্পাদক অনুরাধা ভাসিনের টুইট বার্তা শেয়ার করে বলেছেন, ‘স্থানীয় সংবাদপত্রগুলোর সম্পাদকদের মধ্যে অনুরাধা এমন একজন সম্পাদক, যে এই রাজ্যে ভারত সরকারের বেআইনি ও সংহতিনাশক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সোচ্চার। শ্রীনগরে ওদের অফিস বন্ধ করে দিয়ে বিজেপি সরকার আর একবার তাদের প্রতিহিংসাপরায়ণ মানসিকতার পরিচয় দিল। সরকার বুঝিয়ে দিল বিরুদ্ধাচারণের পরিণতি কী হতে পারে।’