ক্ষমতার দাপটের কাছে হেরে চাকুরী হারালেন মসজিদের খতিব

মঙ্গলবার, অক্টোবর ২০, ২০২০

ডিজার হোসেন বাদশা, পঞ্চগড় প্রতিনিধি : পঞ্চগড়ে ধর্ষণ মামলার সাক্ষী হওয়ায় ক্ষমতার দাপটের কাছে হেরে চাকুরী হারালেন মোহিদুল ইসলাম সাজু নামে এক খতিব (ইমাম)। চাকুরিচ্যুত হওয়ায় মাহাবুব আলম নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে ওই খতিব (ইমাম) ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, একটি ধর্ষণ চেষ্টা মামলায় স্বাক্ষী হিসেবে নাম উল্লেখ থাকায় নিয়ম বহির্ভুত ভাবে তার ইমাম পদ বাতিল করেছে ওই ইউনিয়নের বড়বাড়ি এলাকার মৃত কাদের আলীর ছেলে এবং বড়বাড়ি বাজার জামে মসজিদের জমি দাতা মাহাবুব নামে ওই ব্যাক্তি। অথচ, মসজিদের কেবল জমিদাতা হলেও সভাপতি/সম্পাদক এমনকি কমিটির কোন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নন তিনি।

অভিযোগকারী মোহিদুল ইসলাম সাজু নামে ওই খতিব (ইমাম) বড়বাড়ি বাজার জামে মসজিদের খতিব ও ডাংগাপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে।

অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, গত দেড় মাস আগে আমার বড় ভাই জীবিকার তাগিদে শরীয়তপুরে কাজে যান। এদিকে, সন্তানদের নিয়ে বাড়িতে ভাইয়ের বৌ একাই থাকেন। এই সুযোগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে প্রতিবেশি ভোগোম উদ্দীনের ছেলে ফারুক হোসেন (৪২) পরিকল্পিত ভাবে ভাবির ঘরে প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণ চেষ্টা করেন। পরে চিৎকার শুনে আমরা এগিয়ে গেলে কৌশলে লম্পট ফারুক পালিয়ে যায়।

খতিব মোহিদুল ইসলাম জানান, ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় ভাবি বাদী হয়ে পঞ্চগড়ে আদালতের মাধ্যমে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে একটি মামলা করেন। সেখানে প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আমাকে প্রথম স্বাক্ষী করা হয়। মামলা দায়েরের পর থেকেই ধর্ষকের পক্ষ নিয়ে মাহাবুব আমার বিরুদ্ধে ষরযন্ত্র চালাতে থাকেন। এক পর্যায়ে জমি দাতা হিসেবে প্রভাব দেখিয়ে আমার চাকরি হরন করেন।

তবে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে মাহাবুব বলেন, ইমামের তেলোয়াতে ভুল থাকায় ওই ইমামকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইয়েদ নূর-ই-আলম বলেন, ইমামের চাকরিচ্যুত বিষয়ের অভিযোগ পেয়ছি এবং ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা চলছে সেই বিষয়েও অবগত রয়েছি।

এদিকে, ধর্ষণের অভিযোগ পেয়ে ডাংগাপাড়া গ্রামের ঘোগমদ্দীনের ছেলে আসামী ফারুক হোসেনের (৩৮) সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তবে, ধর্ষণের ঘটনার পর গত ২৩ মেপ্টেম্বর স্থানীয় গ্রামবাসীরা গণস্বাক্ষর করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবর লিখিত অভিযোগ করে বখাটে ও নারী লোভী ফারুকের বিরুদ্ধে।