এমসি কলেজে গৃহবধূকে দলবেঁধে ধর্ষণ মামলায় আরও ২ আসামির রিমান্ড

বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০

সিলেট : সিলেটের এমসি কলেজে গৃহবধূকে দলবেঁধে ধর্ষণের মামলায় আরও দুই আসামিকে রিমান্ডে দিয়েছে আদালত।

সিলেটের মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে দলবেঁধে ধর্ষণের মামলার আসামি মাহফুজ ও তারেকুল ইসলাম তারেককে পাঁচ দিনের রিমান্ডে দিয়েছেন আদালত। বুধবার কড়া নিরাপত্তায় আসামি মাহফুজ ও তারেককে সিলেটের চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। উভয়ের সাতদিন করে রিমান্ড আবেদন করলে প্রত্যেকের ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। এ নিয়ে মামলার ৮ জন আসামিকে রিমান্ডে নিলো পুলিশ।

এদিকে, প্রথম পর্যায়ে তদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি।

তদন্তকাজ শেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি জানায়, প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তদন্ত করছেন তারা। তদন্তে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, করোনাকালে হোস্টেল খোলা রাখার কারণসহ, হল থেকে অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টিও খতিয়ে দেখেছেন।

ওই গৃহবধূ, তার স্বামী, পুলিশ, কলেজ কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন বলে জানান মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) শহীদুল খবির চৌধুরী।

মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি সাত দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করবে।

গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিলেটের এমসি কলেজে বেড়াতে গিয়েছিলেন সিলেটের দক্ষিণ সুরমার এক দম্পতি। এ সময় ছাত্রলীগ নামধারী ৫/৬ জন নেতাকর্মী তাদের জোরপূর্বক ছাত্রাবাসে ধরে নিয়ে আসে। সেখানে দু’জনকেই মারধর করে তারা। পরে, ছাত্রাবাসে তরুণীর স্বামীকে বেঁধে রেখে তার সামনেই স্ত্রীকে ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের ঘন্টাখানেক পর দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

এ ঘটনায় শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ছাত্রলীগের ৬ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ধর্ষিতার স্বামী। মামলায় যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন, সাইফুর রহমান (২৮), তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক আহমদ (২৮), শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি (২৫), অর্জুন লস্কর (২৫), রবিউল ইসলাম (২৫) ও মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুম (২৫)। আসামিরা সবাই ছাত্রলীগের নেতাকর্মী হিসেবেই পরিচিত।