এমসির ছাত্রাবাসে নববধূকে ছাত্রলীগের গণধর্ষণ, ছাত্রদলের বিক্ষোভে উত্তাল ঢাবি

সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০

ঢাকা : সিলেট মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজের ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে নববধূকে গণধর্ষণের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আয়োজনে এ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করা হয়।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে টিএসসি মোড়ে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মোর্শেদ হোসেনের অব্যাহতি প্রত্যাহার করে তাকে চাকরিতে বহাল রাখার দাবি জানান ছাত্রদল নেতারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আহ্বায়ক রাকিবুল হাসানের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আমানের সঞ্চলনায় এসময় উপস্থিত ছিলেন, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবন, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল,সহ-সভাপতি হাফিজুর রহমান হাফিজ,সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান আমিন সহ কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের প্রায় ৫ শতাধিক নেতাকর্মী।

এসময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন বলেন, ‘এমসি কলেজে ছাত্রলীগ কর্তৃক যে ধর্ষণের ঘটনা ঘটানো হয়েছে এবং তারই ধারাবাহিকতায় যে অব্যাহত অপকর্ম তারা চালিয়ে যাচ্ছে আমরা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন সিলেটের এমসি কলেজের এ ধর্ষণের ঘটনায় সিলেট মহানগর ছাত্রদলের পক্ষ থেকে যে বিক্ষোভ মিছিলটি করা হয়েছিল তাতে পুলিশ হামলা ও গুলি চালিয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এ ধর্ষণের ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

গেল শুক্রবার রাতে এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে তার সুন্দরী স্ত্রীকে গণধর্ষণ করা হয়েছে বলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ছাত্রাবাস থেকে ওই স্বামী-স্ত্রীকে উদ্ধার করেছে শাহপরান থানা পুলিশ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় স্বামীকে নিয়ে এমসি কলেজে ঘুরতে গিয়েছিলেন ওই তরুণী। এক পর্যায়ে রাত ৮টার দিকে তরুণীর স্বামী সিগারেট খাওয়ার জন্য কলেজের গেটের বাইরে বের হন। এসময় কলেজ ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রলীগের ৫-৬ জন নেতাকর্মী তরুণীকে জোরপূর্বক কলেজের ছাত্রাবাসে তুলে নিয়ে যায়। তাতে বাধা দিলে তরুণীর স্বামীকে মারধর করা হয়। সেখানে একটি রুমে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণ করে তারা।

ওই ভুক্তভোগী দম্পতির সাথে থাকা ৯০-টি মডেলের একটি গাড়িও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ছিনিয়ে নিয়ে যায় বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী ওই তরুণী বর্তমানে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন আছেন।

এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে ওই নারীকে গণধর্ষণের ঘটনায় ৬ ছাত্রলীগ নেতার নাম উল্লেখসহ ৯ জনকে আসামি করে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে শাহপরান থানায় মামলা দায়ের করেন নির্যাতিত ওই নারীর স্বামী মাইদুল ইসলাম।

মামলার আসামিরা হলেন- এমসি কলেজ ছাত্রলীগের নেতা সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, অর্জুন লস্কর, মাহফুজুর রহমান, রবিউল ইসলাম ও তারেক আহমদ। আসামিদের মধ্যে তারেক ও রবিউল বহিরাগত। বাকিরা এমসি কলেজের ছাত্র।

গণধর্ষণের ঘটনায় করা মামলায় ৫ আসামিকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রবিবার সকালে প্রধান আসামি ছাত্রলীগ নেতা সাইফুর রহমানকে (২৮) সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা নোয়ারাই খেয়াঘাট থেকে ও ৪ নম্বর আসামি ছাত্রলীগ নেতা অর্জুন লস্করকে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার মনতলা নামক এলাকায় আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপন অবস্থায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রবিবার রাতে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থেকে শাহ্ মাহবুবুর রহমান রনিকে র‌্যাব ও জেলার নবীগঞ্জ উপজেলা থেকে রবিউল ইসলামকে গ্রেফতার করে হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ। সবশেষ সোমবার ভোরে ফেঞ্জুগঞ্জ থেকে রাজনকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এদিকে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিলেট মহানগর হাকিম তৃতীয় আদালতে বিচারক শারমিন খানম শিকার কাছে গণধর্ষণের ঘটনার রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন ভুক্তভোগী নববধূ।

এ ঘটনা তদন্তে ৩ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৭ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ছাত্রাবাসটির দুই নিরাপত্তাকর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে।