হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে ধর্ষণের শিকার তরুণী

রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০

মানিকগঞ্জ: সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এসে এক তরুণী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতে এ ঘটনা ঘটলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। শেষ পর্যন্ত ঘটনাটি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ।

ধর্ষণের শিকার ওই তরুণীর স্বজনরা জানান, গত ৩ সেপ্টেম্বর মেয়েটি জ্বর ও শরীর ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। সে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠলে তাকে ১২ সেপ্টেম্বর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে বলে আগের রাতে নার্সরা জানান। সে দিনই রাত আনুমানিক ১১টার দিকে হাসপাতালের এক যুবক তাকে ধরে বারান্দায় নিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় মেয়েটি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে বারান্দায় ফেলে ধর্ষক পালিয়ে যায়। মেয়েটির মা তাকে বেডে না পেয়ে সামনে এগিয়ে গিয়ে দেখেন বারান্দায় পড়ে আছে সে। কাছে গিয়ে দেখেন তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছে। তখন তিনি চিৎকার দিয়ে চিকিৎসক ও নার্সদের ডাকতে থাকেন। নার্সরা দ্রুত ছুটে এসে ওই তরুণীর অবস্থা বেগতিক দেখে তারা ডিউটিরত চিকিৎসককে ডেকে আনেন। পরে চিকিৎসক মেয়েটিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।

মেয়েটির বাবা বলেন, ‘আমি একজন হতদরিদ্র ভ্যানচালক। হাসপাতালে মহিলা ওয়ার্ডে সিসি ক্যামেরা রয়েছে। ওই ক্যামেরার ফুটেজ দেখলে ধর্ষককে চেনা যাবে। আমি গরিব বলে মেয়ের বিয়ের কথা চিন্তা করে মুখ বুঝে চুপ ছিলাম। এখন এ ঘটনার বিচার চাই।’

সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মামুনুর রশীদ জানান, ওই ঘটনায় শনিবার শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. সাদিককে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। দুই কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। হাসপাতালের ভেতর এমন ঘটনা যেই ঘটাক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলম বলেন, চিকিৎসা নিতে আসা তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনা ন্যক্কারজনক ও নিন্দনীয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এর দায় এড়াতে পারে না। তাদের উচিত বিষয়টি খতিয়ে দেখে দোষীকে আইনের হাতে সোপর্দ করা।