ওসি প্রদীপ ও স্ত্রী চুমকির সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ

রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০

ঢাকা: সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যার আসামি টেকনাফের বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের করা অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলাটির এজাহারভুক্ত সম্পত্তি জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে প্রদীপের জামিন আবেদনও নামঞ্জুর করা হয়েছে।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের জ্যেষ্ঠ বিশেষ ও মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।

দুদকের আইনজীবী কাজী সানোয়ার আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, আসামির পক্ষে আগের দিন জামিন আবেদন করা হয়েছিল। ওই আবেদনের শুনানি শেষে আজ আদালত তা নামঞ্জুর করেছেন। আমরা আসামির এজাহারভুক্ত সম্পত্তি ক্রোকের আবেদন করেছি, আদালত তা মঞ্জুর করেছেন। এখন সেই সম্পত্তি জব্দে আর কোনো বাধা নেই।

মামলার এজাহারে বলা হয়, নগরীর কোতোয়ালি থানার পাথরঘাটা এলাকার একটি ছয়তলা বাড়ি প্রদীপ কুমার দাশ ‘ঘুষ ও দুর্নীতির’মাধ্যমে অর্জিত অর্থ গোপন করার জন্য শ্বশুরের নামে নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে ওই বাড়িটি প্রদীপ দাশের শ্বশুর তার স্ত্রী চুমকিকে দান করেন। দানপত্র দলিল হলেও বাড়িটি প্রদীপ দাশ ও তার স্ত্রী চুমকির অবৈধ আয়ে অর্জিত বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

রবিবার আদালতে জামিন শুনানি হলেও প্রদীপ কুমার দাশকে আদালতে আনা হয়নি। দুদকের আইনজীবী জানিয়েছেন, তিনি কক্সবাজার জেলা কারাগারে আছেন।

জামিন আবেদন নামঞ্জুর হওয়ায় আদালতে আরো দু’টি আবেদন জমা দেয় প্রদীপের আইনজীবীরা। এর মধ্যে রয়েছে প্রদীপকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো এবং মামলা পরিচালনার সুবিধার্থে কারাগারে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করা। আসামি পক্ষের করা বাকি দু’টি আবেদনের শুনানি শেষে জেল কোড অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার আদেশ দেন আদালত।

প্রদীপের স্ত্রী চুমকির ৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে দু’জনকে আসামি করে দুদকের সহকারী পরিচালক রিয়াজ উদ্দিন বাদী হয়ে ২৩ আগষ্ট এ মামলা দায়ের করেছিলেন। মামলায় প্রদীপ দু’নম্বর আসামি।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর টেকনাফের বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে চট্টগ্রামে দুদকের করা অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এই মামলার আরেক আসামি প্রদীপ কুমার দাশের স্ত্রী চুমকি পলাতক আছেন।