তিস্তার পানি বাংলাদেশের মানুষের ন্যায্য অধিকার : হানিফ

বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০

ঢাকা : আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি বলেছেন, বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সম্পর্কের বড় উপাদান হচ্ছে একাত্তরের রক্তের বন্ধন, যা এখন ভারত ও বাংলাদেশের প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের ধমনিতে বহমান। এ সম্পর্ক অটুট রাখা উভয় দেশের জন্য অপরিহার্য। এ সম্পর্কের ছেদনে যে রক্তক্ষরণ হবে তার যন্ত্রণা ভারত-বাংলাদেশ কেউ সহ্য করতে পারবে না। তবে সব কিছু ঠিক থাকবে যদি আদর্শের জায়গাটা ঠিক থাকে। এই আদর্শের জায়গাটিকে ধরে রাখার জন্য ভারতকে উপলব্ধি করতে হবে তিস্তা নদীর পানি বাংলাদেশের মানুষের ন্যায্য অধিকার। আমাদের প্রত্যাশা ভারত সরকার বন্ধুত্বের দায় থেকে তিস্তা সংকট নিরসনে অতিদ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে একটি দৈনিকে আয়োজিত ‘বিবার্তা সংলাপ’ ভার্চুয়াল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘সম্পর্কের সমীকরণ, ভারত-বাংলাদেশ-চীন’ শিরোনামের ওই ভার্চুয়াল আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন গৌরব ৭১ এর সাধারণ সম্পাদক এফএম শাহীন। এসময় অতিথিরা ভারত, চীন ও বাংলাদেশের সম্পর্ক ও রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন।

মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, লাদাখে ভারতের সঙ্গে সংঘর্ষের পর থেকেই বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর চেষ্টা করছে চীন। এর ফলে দিল্লির সঙ্গে ঢাকার দূরত্ব তৈরি হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করছেন। তবে আমি বিশ্বাস করি এমনটা ঘটবে না। চীন বাংলাদেশের আট হাজারের বেশি পণ্যসামগ্রী বিনা শুল্কে নিজেদের দেশে রফতানির অনুমতি দিয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ আর্থিকভাবে লাভবান হবে, এতে কোনো সংশয় নেই। কিন্তু সেই সবের জন্যে ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে না।

তিনি বলেন, উপমহাদেশ তথা এ অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও পারস্পরিক সহযোগিতার কথা যারা ভাবেন বা এ অঞ্চলের মানচিত্রের দিকে তাকালে যে কেউ বুঝবেন এতদঞ্চলের নিরাপত্তা ও কানেকটিভিটির নিরবচ্ছিন্নতা রক্ষা করার জন্য ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে প্রশ্নহীন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কোনো বিকল্প নেই। এই দুই দেশের সম্পর্ক ঠিক না থাকলে তা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য কতখানি হুমকি হতে পারে তার উদাহরণ বিগত দিনে আমরা সবাই দেখেছি। এখন প্রশ্ন হলো, তিস্তা চুক্তিই কি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের একমাত্র মাপকাঠি? অবশ্যই তা নয়। কিন্তু বিষয়টির এতই রাজনৈতিকীকরণ হয়েছে, তাতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতবিরোধী রাজনৈতিক পক্ষ ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী এটিকে পুঁজি করে যে ধরনের প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে, তাতে সাধারণ জনগণ বিভ্রান্তিতে পড়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ২০০৯ সালের পর থেকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটেছে এবং তা এখন একাত্তরের পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই একই সময়ে অর্থাৎ ২০০৯ সালের পর থেকে চীনও বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপকভাবে এগিয়ে এসেছে। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে উন্নত। চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ভারতের কোনো উদ্বেগের কারণ থাকা উচিত নয়, বিশেষ করে যত দিন পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ও বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় আছেন। বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায় এমন কিছু নিয়ে বিশ্বের কোনো শক্তির সঙ্গেই শেখ হাসিনা আপস করবেন না, যার প্রমাণ তিনি এরই মধ্যে অনেকবার রেখেছেন।

মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, দ্রুতগতিতে দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাইলে এ মুহূর্তে চীনের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আমাদের প্রয়োজন। এর কোনো বিকল্প নেই। তাই চীনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কটি মূলত অর্থনৈতিক। কিন্তু ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বহুবিধ অবিচ্ছেদ্য উপাদান আছে, এর মধ্যে সবচেয়ে বড় উপাদান হচ্ছে একাত্তরের রক্তের বন্ধন, যা এখন ভারত ও বাংলাদেশের প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের ধমনিতে বহমান। এ সম্পর্ক অটুট রাখা উভয় দেশের জন্য অপরিহার্য। এ সম্পর্কের ছেদনে যে রক্তক্ষরণ হবে তার যন্ত্রণা ভারত-বাংলাদেশ কেউ সহ্য করতে পারবে না। তবে সব কিছু ঠিক থাকবে যদি আদর্শের জায়গাটা ঠিক থাকে। এই আদর্শের জায়গাটিকে ধরে রাখার জন্য ভারতকে উপলব্ধি করতে হবে তিস্তা নদীর পানি বাংলাদেশের মানুষের ন্যায্য অধিকার। আমাদের প্রত্যাশা ভারত সরকার বন্ধুত্বের দায় থেকে তিস্তা সংকট নিরসনে অতিদ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।