সাবালিকা হলেই নারীর বিয়ের বয়স হয়ে যায়?

শনিবার, সেপ্টেম্বর ৫, ২০২০

ঢাকা : মেয়েদের বিয়ের বয়স নিয়ে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। চিকিৎসকরা সব সময়ই প্রাপ্ত বয়স অর্থ্যাৎ ১৮ বছরের পর বিয়ের কথা বলেন। এটি শুধুমাত্র নববধূর স্বার্থেই নয়, তার সন্তানের স্বাস্থ্যের খাতিরেও বলা হয়।

ভারতের ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের প্রধান আরতি বিশ্বাস বলেন, আগে এক সময় ধারণা ছিল, সাবালিকা হওয়া মানেই বোধহয় শারীরিক গঠন পরিণত হয়ে যায় মেয়েদের। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, ১৮ বছরে মহিলাদের শারীরবৃত্তীয় গঠন সম্পূর্ণ হয় না।

এ বিষয়ে ভারতের বিশেষজ্ঞ কমিটি জানায়, ১৮-তে মেয়েদের অস্থি ও পেশি ষোলো আনা পরিপক্ক হয় না বলে প্রসূতির পেলভিক ক্যাভিটি সন্তানধারণের উপযোগী মজবুতও হয় না।

আরতি বিশ্বাস মনে করিয়ে দেন, গর্ভাবস্থা কিন্তু শুধুই জরায়ুর মধ্যে সীমিত থাকে না। এর প্রভাব পড়ে শরীরের সমস্ত অঙ্গেই। মায়ের শরীর পরিণত না হলে অপরিণত সন্তান জন্ম দেওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ইন্ডিয়ান জার্নাল অফ সাইকিয়াট্রির সম্পাদক ওম প্রকাশ সিং বলেন, মাতৃত্বের দায়িত্ববোধ থেকেই নিজের প্রতি যত্নের মনোভাবও তৈরি হয়। সামগ্রিক স্বাস্থ্য সচেতনতার ক্ষেত্রেও উন্নতি অনিবার্য। এমন কী, সন্তানধারণ করব কি করব না, এ নিয়ে মতামত তৈরির ক্ষেত্রেও তার সিদ্ধান্তের মধ্যে একটা দৃঢ়তা আসে। সে জন্যই বয়স ২১ এর সমর্থক তিনি।

তবে শুধুমাত্র শরীর-মনই নয়, সমাজের বৃহত্তর স্বার্থেও এই বয়স বৃদ্ধির প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন সমাজকর্মী শাশ্বতী ঘোষ।

তিনি যুক্তি দেখিয়েছেন এই যে, ১৮ মানে তো মাত্র উচ্চ মাধ্যমিক শেষ। এর পরেই উচ্চশিক্ষা শুরু। তখনই যদি বিয়ে হয়ে যায় তা হলে উচ্চশিক্ষার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। তাই নারীশিক্ষার স্বার্থেই মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ২১ হওয়া উচিত।

সূত্র: এই সময়