বশেমুরবিপ্রবিতে কম্পিউটার চুরির ঘটনায় ৭ জন আটক

রবিবার, আগস্ট ১৬, ২০২০

ফয়সাল হাবিব সানি, বশেমুরবিপ্রবি প্রতিনিধি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার থেকে কম্পিউটার চুরির ঘটনায় মোট ৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

আটককৃতদের মধ্যে ৫ জনকে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দিবাগত রাতে এবং অন্য ২ জনকে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে আটক করা হয়। আটক হওয়া এই ৭ জনের মধ্যে ১ জন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০১৫-১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী।

আটককৃত ওই ৭ জন হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০১৫-১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী গোপালগঞ্জের মেরি গোপীনাথপুর গ্রামের বিল্লাল শরীফের পুত্র মাসরুল ইসলাম পনি শরীফ (২৩), হোটেল ক্রিস্টাল ইন- এর ম্যানেজার কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার থানার ইদ্রাকচরের মৃত সেলিম মিয়ার পুত্র মোঃ দুলাল মিয়া (৪৫), হোটেল ক্রিস্টাল ইন- এর হোটেলবয় ময়মনসিংহ জেলার কোতয়ালী থানার চোরখাই গ্রামের মৃত ময়েজ উদ্দিনের পুত্র মোঃ হুমায়ুন কবির (২৪), গোপালগঞ্জের বরফা মধ্যপাড়ার আইয়ুব শেখের পুত্র রহমান ওরফে শান্ত ওরফে কাকন (১৯), কামাল পাশা মিনার পুত্র নাইম উদ্দিন (১৯), বরফা শেখ পাড়া গ্রামের আবুল হোসেন শেখের পুত্র আঃ রহমান সৌরভ শেখ (১৯) এবং মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার সালাম হাওলাদারের পুত্র নাজমুল হাসান (১৯)।

এ ব্যাপারে তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার উপ-পরিদর্শক প্রাইমনিউজবিডি ডট কমকে জানান, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে দুলাল এবং হুমায়ুন কবির ছাড়া বাকি ৫ জনকে শুক্রবার দিবাগত রাতে আটক করা হয়েছে। তারা প্রত্যেকেই এই চুরির ঘটনার সাথে সরাসরিভাবে সম্পৃক্ত ছিলো বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারা যায়।

তবে এ ঘটনার প্রধান হোতা হোটেল ক্রিস্টাল ইন- এর তিনজন মালিকের মধ্যে একজন যুবলীগ নেতা গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি পলাশ শরীফ বর্তামানে পলাতক রয়েছেন।

তবে খুব শীঘ্রই তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি। উল্লেখ্য, পলাশ শরীফ গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস-চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এবং তার বড়ো ভাই আমিনুল ইসলাম শরীফ ওরফে লাচ্চু শরীফ একই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বর্তমানে বহাল রয়েছেন।

তবে কম্পিউটার চুরির ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকার কারণে গোপালগঞ্জ জেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশক্রমে ওই যুবলীগ নেতাকে গোপীনাথপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতির পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, কম্পিউটার চুরির ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর জড়িত থাকার বিষয়ে মন্তব্য না করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ড. মোঃ শাহজাহান বলেন, জড়িত থাকার বিষয়ে আমাদের কাছে লিখিত ডকুমেন্ট এখনও আসেনি; লিখিত ডকুমেন্ট আসার পর সবকিছু বিবেচনা সাপেক্ষে আমরা প্রেস রিলিজের মাধ্যমে জানিয়ে দেবো। তবে আমরা সবকিছু খতিয়ে দেখছি এবং আমাদের কাজ অব্যাহত রয়েছে। সময়মতোই সবকিছু প্রকাশ করা হবে।

প্রসঙ্গত, পবিত্র ইদুল আজহা’র ছুটিকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যলয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার থেকে ৪৯টি কম্পিউটার চুরি হয় এবং ওই ৪৯টি কম্পিউটারের মধ্যে ৩৪টি কম্পিউটার গত ১৩ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) রাজধানীর বনানী এলাকায় অবস্থিত হোটেল ক্রিস্টাল ইন থেকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধার করা হয়।