৪ পুলিশসহ র‌্যাবের রিমান্ডে ৭, নেই ওসি প্রদীপ-লিয়াকত

শুক্রবার, আগস্ট ১৪, ২০২০

ঢাকা: কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান নিহতের ঘটনায় তার বোনের করা মামলায় ৪ পুলিশ সদস্যসহ ৭ জনকে রিমান্ডে নিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‌্যাব)।

তবে বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলায় র‌্যাবের রিমান্ডে নেয়া ৭ জনের মধ্যে নেই মামলায় ১ নম্বর আসামি টেকনাফ বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক মো. লিয়াকত, ২ নম্বর আসামি টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাস ও ৩ নম্বর বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দদুলাল রক্ষিত।

রিমান্ডে নেয়া ৪ পুলিশ সদস্য হলেন- সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লিটন মিয়া, কনস্টেবল সাফানুর রহমান, কামাল হোসেন ও আবদুল্লাহ আল মামুন। অপর তিনজন হলেন- মো. আয়াছ, মো. নুরুল আমিন ও মো. নাজিমুদ্দিন। এই তিনজন সিনহা নিহতের পর টেকনাফ থানায় পুলিশের করা দুটি মামলার সাক্ষী।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল সোয়া ১০টায় কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে র‌্যাব সদস্যদের একটি গাড়ি বহরে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়। জেল সুপার মো. মোকাম্মেল হোসেন গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত বুধবার মেজর সিনহা নিহতের ঘটনায় তার বোনের করা মামলায় আত্মসমর্পণ করা ৪ পুলিশ সদস্য ও হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশের করা মামলার ৩ সাক্ষীসহ ৭ জনকে ৭ দিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত।

এরপর ৩ সাক্ষী ও ৭ পুলিশসহ ১০ জনকে রিমান্ডে নিতে গতকাল বৃহস্পতিবার জেলা কারাগারে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে ফিরে যায় র‌্যাব সদস্যরা।

ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে র‌্যাবের একটি গাড়িবহর নিয়ে জেলা কারাগারে যান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। প্রায় ২ ঘণ্টা পর আসামি না নিয়েই কারাগার থেকে চলে যায় র‌্যাবের গাড়িবহরটি।

এরপরই জেল সুপার মো. মোকাম্মেল হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘র‌্যাবের একটি গাড়ি নিয়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কারাগারে আসেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। প্রায় ২ ঘণ্টা তারা কারাগারে ছিলেন। রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া ১০ আসামির মধ্যে ৭ জনকে র‌্যাব হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের কথা ছিল। একপর্যায়ে তাদের না নিয়ে ফিরে যান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।’

মেজর সিনহার মৃত্যুর পর টেকনাফ থানায় পুলিশের করা দুটি মামলার ওই ৩ সাক্ষীকে গত মঙ্গলবার গ্রেফতার করে র‌্যাব। আর সিনহা হত্যা ঘটনায় তার বোনের করা হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ওই ৪ পুলিশ সদস্য আগেই আদালতে আত্মসমর্পণ করেছিলেন।

গত ৬ আগস্ট মেজর সিনহা হত্যা মামলায় ১ নম্বর আসামি টেকনাফ বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক মো. লিয়াকত, ২ নম্বর আসামি টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাস ও ৩ নম্বর বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দদুলাল রক্ষিতকে ৭ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন কক্সবাজারের সিনিয়র জুটিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের আদালত।

অন্যদিকে সহকারী উপরিদর্শক (এএসআই) লিটন মিয়া, পুলিশ কনস্টেবল সাফানুর রহমান, কামাল হোসেন ও আবদুল্লাহ আল মামুনকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেয়া হয়। গত ৮ ও ৯ আগস্ট কক্সবাজার কারাগারের জেলগেটে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে র‌্যাব। পরদিন ১০ আগস্ট তাদের আদালতে হাজির করে ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করে র‌্যাব। শুনানি শেষে আদালত ওইদিনই ৪ পুলিশ সদস্যকে ৭ দিন করে রিমান্ডে পাঠায়।

গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাক বাহারছড়া চেকপোস্টে নিরাপত্তা চৌকিতে তল্লাশির সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় হত্যা ও মাদক আইনে এবং রামু থানায় মাদক আইনে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করে।

হত্যাকাণ্ডের ৫ দিনের মাথায় ৫ আগস্ট সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌসী বাদী হয়ে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালতে এসআই লিয়াকত, ওসি প্রদীপ কুমার দাসসহ ৯ পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

আলোচিত এ হত্যা মামলার ৯ আসামি হলেন- টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাস, টেকনাফ বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক মো. লিয়াকত, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দ দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লিটন মিয়া, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) টুটুল ও কনস্টেবল মোহাম্মদ মোস্তফা। এদের মধ্যে আসামি মোস্তফা ও টুটুল পলাতক আছেন।

ওইদিনই ওসি প্রদীপসহ ৭ পুলিশকে সাময়িক বরখাস্ত করে অভিযুক্ত সব আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

এর একদিন পর ৬ আগস্ট ওসি প্রদীপ ও লিয়াকতসহ ৭ আসামি কক্সবাজার সিনিয়র জুটিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

শুনানি শেষে আদালত ওসি প্রদীপ কুমার দাস, এসআই লিয়াকত আলী ও এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিতকে ৭ দিন করে রিমান্ডে পাঠায়। বাকি ৪ জনকে ওইদিনই জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অভিযুক্ত অপর ২ পুলিশ সদস্য এখনও পলাতক আছেন।

মেজর সিনহা হত্যায় পুলিশের করা মামলায় সিনহার সঙ্গে থাকা শিপ্রা দেবনাথ গত রবিবার ও শাহেদুল ইসলাম সিফাত গত সোমবার জামিনে মুক্ত হন। গতকাল বৃহস্পতিবার তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে র‌্যাব।